মুনাল চট্টোপাধ্যায়:প্রস্তাবের পর প্রস্তাব, আর আলোচনার পর আলোচনায় দিনের পর দিন চলে গেছে। বলতে গেলে এআইএফএফ আর ক্লাবজোটের চাপান উতোরে শুধু সময় নষ্টই হয়েছে, আইএসএল শুরু এখনও করা যায়নি। হতাশা ও চিন্তায় আইএসএলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ভারতীয় ও বিদেশি ফুটবলাররা ফিফা ও ফিপপ্রোর কাছে ভারতীয় ফুটবল বাঁটানোর কাতর আবেদন করেছেন। এই ধরনের ঘটনায় মর্মাহত নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের কর্ণধার বলিউড তারকা জন আব্রাহাম। সোসাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন, ফুটবলার ও ফুটবলের সঙ্গে জড়িত মানুষদের বেহাল অবস্থা দেখে। মন্তব্য করেছেন, ‘ এটা আমাদের জন্য লজ্জার। এমন একটা অবস্থার মধ্যে এসে পড়ছি, এটা ভাবা যায় না।’
এরপরও আইএসএল ঘিরে অবচলাবস্থা কাটবে কিনা, তার জন্য আরও কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হবে। শনিবার ফেডারেশনের জরুরি বৈঠকে এআইএফএফ-আইএসএল যৌথ কমিটির প্রস্তাব বা রিপোর্ট পাশ হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েই গেছে ক্লাব জোটের দাবিমতো শর্তের বেশ কিছু মেনে নিয়ে লিগ পরিচালনা করবে এআইএফএফ। আর আইএসএল শুরু হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে। যার সরকারিভাবে ঘোষণা হবে সামনের সপ্তাহে ক্লাবগুলোর সম্মতি পেলেই। এআইএফএফ সেই রিপোর্ট ক্রীড়ামন্ত্রকের কাছে পাঠিয়েও দিয়েছে। একইসঙ্গে ক্লাবজোটের কাছেও। যাতে তারা সেই মতো নিজেরা আইএসএলে অংশগ্রহণের সম্মতি এআইএফএফকে দ্রুত জানায়।
আপাতত আইএসএল দ্রুত শুরু স্বার্থে শর্টটার্ম মডেলের প্রস্তাব রাজি হওয়ার জন্য ক্লাবগুলোর কাছে বার্তা পাঠিয়েছে এআইএফএফ। দুটি প্রস্তাব এইমুহূর্তে সামনে রাখা হয়েছে। এক, দুটি ভেনুতে মূলত গোয়া ও কলকাতায় ১৪টি দলকে ভাগ করে খেলানো। লিগ পর্যায়ে একদফা হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলানোর পর প্রথম চারে থাকা চার দলকে নিয়ে নকআউটের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন ঠিক করা। দু’নম্বর প্রস্তাব, একটি ভেনুতে ১৪ দলকে রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে একদফা ম্যাচ খেলিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ নির্ধারণ করা। তবে এর সবটাই নির্ভর করছে কতগুলো ক্লাব এআইএফএফের দেওয়া প্রস্তাব মেনে অংশগ্রহণে সম্মতি জানায়,তারওপর। যেহেতু এই দুটি ফরম্যাটেই ম্যাচ কম হচ্ছে, তাই এএফসির কাছে রবিবার এআইএফএফের জানার কথা ছিল, কম ম্যাচ খেলার কারণে এএফসি বিশেষ পরিস্থিতিতে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন দলকে এএফসির টু্র্নামেন্টে খেলার স্লট দেবে কিনা।
তবে সবকিছুর ওপর যেটা নিয়ে এআইএফএফ ও ক্লাবজোটের মাঝে টানাপোড়েন চলছে, সেটা হল আর্থিক বিনিয়োগ বা বানিজ্যিক সহযোগী নিশ্চিত করা। যে কারণে আইএসএল থমকে রয়েছে এখনও পর্যন্ত। প্রস্তাব ঘিরে আর্থিক নির্ভরতার একটা বড় প্রশ্ন রয়েছে। যেটা এখনও পর্যন্ত খুব পরিষ্কার নয়। আইএসএলের লংটার্ম আয়োজনের জন্য যে বানিজ্যিক সহযোগী দরকার, সেটা পেতে সময় লাগবে। আপাতত শর্টটার্ম, অর্থাৎ ২০২৫-২৬য়ের আইএসএল দ্রুত শুরু করতে, বলতে গেলে উতরে দিতে যে আর্থিক বিনিয়োগ দরকার, তা এআইএফএফ ও ক্লাবগুলোকেই বহন করতে হবে। সেই ইস্যুতে এআইএফএফের তরফে বলা হয়েছে, ম্যাচ পরিচালনা ও রেফারিদের খরচ বহন করতে তারা প্রস্তুত। তার জন্য ৫ কোটি টাকা তারা দেবে। ক্লাবগুলো দিক অংশগ্রহণ ফি বাবদ ১ কোটি টাকা করে। এই টাকাটা ২০২৬য়ের জুন মাসের মধ্যে দিলেই চলবে। এর মাঝেই ২০২৫-২৬ মরশুম ও আগামী ২০ বছরের জন্য বানিজ্যিক সহযোগী ও ব্রডকাস্টিং পার্টনার চুড়ান্ত করা কাজ চালাবে এআইএফএফ ও ক্লাবজোট যুগ্মভাবে।
এআইএফএফের কমিটির যে প্রস্তাব ফেডারেশনের জরুরি বৈঠকে পাশ হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল, ৪ জানুয়ারি ২০২৫-২৬ আইএসএলের ফরম্যাট ও ক্লাবগুলোর অংশগ্রহণ চুড়ান্ত করে ফেলা হবে। এএফসির কাছে বিশেষ পরিস্থিতিতে স্লট পেতে আবেদন করা হবে। ১৫ জানুয়ারি রিকোয়োস্ট অফ প্রোপোসাল পদ্ধতি মেনে আইএসএলের জন্য বানিজ্যিক সহযোগী পেতে নতুন করে গ্লোবাল টেন্ডার ডাকা। এই সময়ের মধ্যেই ২০ বছরের দীর্ঘমেয়াদী আইএসএল আয়োজনের খসড়া চুড়ান্ত করা। ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ২০২৫-২৬য়ের বানিজ্যিক সহযোগী ঠিক করে ফেলা। ১৫ ফেব্রুয়ারি আইএসএল শুরু করা। ৩১ মার্চের মধ্যে ২০২৬-২৭য়ের বানিজ্যিক ও ব্রডকাস্টিং পার্টনার নিশ্চিত করে ফেলা। ২০ এপ্রিলের মধ্যে আইএসএলের দীর্ঘমেয়াদী কাঠামো ও প্রশাসনিক দিকটা চুড়ান্ত করা। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ২০২৬-২৭ মশুমের সবদিক চুড়ান্ত করে ফেলা। ১ মেতে ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের শর্তপূরণ, ফুটবলারদের স্যালারি ক্যাপ ইস্যু সহ ফেডারেশনের যাবতীয় প্রশাসনিক সমস্যাগুলো মিটিয়ে
নেওয়া।
প্রস্তাব হিসেবে এগুলো আপাতত দৃষ্টিতে ভাল লাগলেও ক্লাবগুলো কতটা মানবে, বলা মুশকিল। যদিও প্রস্তাবের মাঝে এআইএফএফের প্রচ্ছন্ন হুমকিও আছে। যে যে ক্লাব আইএসএলে খেলতে আগ্রহী হবে না, তাদের জন্য ফেডারেশন আর অপেক্ষা করে বসবে থাকবে না। যারা আগ্রহী তাদের নিয়েই আইএসএল আয়োজন করবে। যারা খেলবে না, তাদের অবনমন হয়ে যাবে। তাদের নীচের ডিভিশনের লিগ খেলতে হবে। ভবিষ্যতে প্রোমোশন পেয়ে উঠতে হবে দেশের সর্বোচ্চ লিগে খেলতে। এই হুমকিতে কতটা কাজ হল, সেটা সময়ই বলবে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
