Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

 

‌অলস্পোর্ট ডেস্ক:আনোয়ার আলি ট্রান্সফার বিতর্ক ইস্যু এআইএফএফ মেটাতে গড়িমসি করায় শেষপর্যন্ত কোর্ট অফ আর্বিট্রেশন অফ স্পোর্টসের(‌সিএএস)‌ দারস্থ হল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। ১৮ মাস ধরে ঝুলে রয়েছে আনোয়ার আলির ট্রান্সফার বিতর্কটি। ২৬ ডিসেম্বর এআইএফএফের আপিল কমিটি আনোয়ার আলি কেসটি প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির কাছে ফেরত পাঠিয়েছিল, এটা বলে যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক , সেটা যেন দিল্লি হাইকোর্টের গোচরে আনা হয়। কথা ছিল, প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটি এব্যাপারে শুনানি সারবে ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি। কিন্তু তারপর ৭দিনের বেশি পেরিয়ে গেলেও, কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তাছাড়া মোহনবাগান ক্যাসের কাছে লেখা চিঠিতে আপিল কমিটির অর্ডারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নিয়মমাফিক কোর্ট অফ আর্বিট্রেশন অফ স্পোর্টসের (‌ক্যাস)‌ দরবারের আপিল করার ২১ দিনের সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে বুঝে মোহনবাগান একবারের শেষদিনে সেই আপিল করেছে।

আনোয়ার আলির ট্রান্সফার বিতর্ক ইস্যু এর আগে আদালতের আঙিনা থেকে ফেরত এসেছিল এআইএফএফের প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির কাছে। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, তারা এব্যাপারে কোনওপক্ষের হয়েই রায় দেবে না। এর আগে ২০২৪ সালের ৩ ও ১০ আগস্টের দেওয়া ফেডারেশনের প্লেয়ার্স কমিটির সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না। বিষয়টি এআইএফএফের প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির বিচারাধীন। সেক্ষেত্রে সবপক্ষই তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবে বক্তব্য রাখার মাধ্যমে। আদালতের এমন নির্দেশের পরও কোনও হেলদোল ছিল না এআইএফএফের আনোয়ার আলি বিতর্ক চটজলদি নিষ্পত্তিতে। বরং ঢিলেঢালা মনোভাব নিয়েই তাছাড়া চলছিল। মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট তাই ক্যাসে গেল সুবিচারের আশায়।

‌আনোয়ার আলি মোহনবাগানের সঙ্গে ২০২৪য়ের ৮ জুলাই লোন চুক্তি বাতিল করে ১৭ জুলাই, ২০২৪য়েই ইস্টবেঙ্গলে খেলার জন্য আবেদন করেন ফেডারেশনের প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির কাছে। কিন্তু এটাকে চুক্তিভঙ্গ অপরাধ বলে তুলে ধরে ফেডারেশনের প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটি ২০২৪য়ে আনোয়ার আলিকে ৪ মাসের নির্বাসন ছাড়াও ইস্টবেঙ্গল ও তাঁর পেরেন্ট ক্লাব দিল্লি এফসির ওপর দুটি উইন্ডোর ট্রান্সফার ব্যানের নির্দেশ জারি করে। আনোয়ার, ইস্টবেঙ্গল ও দিল্লি এফসিকে ১২.‌৯ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়েছিল। এর প্রতিবাদ জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দারস্থ হয় তারা। আদালত ফেডারেশনের চাপানো শাস্তির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে নতুন করে বিষয়টি বিবেচনা ও বিচারের জন্য আদেশ দেয় প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির কাছে। কিন্তু ১১ বার আনোয়ার আলির কেসটা মুলতুবি থেকে গেছে নানা কারণে।

১২ ও ১৩ নভেম্বর, ২০২৫য়ে আনোয়ার আলি ট্রান্সফার বিতর্ক নিয়ে শুনানি থাকলেও, তা হয়নি ৪ সদস্যের প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটি থেকে একজন পদত্যাগ করায় মিটিংয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায়। ১৩ নভেম্বর ফেডারেশনের আপিল কমিটির চেয়ারপার্সন বিচারপতি রাজেশ ট্যান্ডন পরবর্তী শুনানির তারিখ ২৮ ও ২৯ নভেম্বর ধার্য করে ফেডারেশনকে প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির প্রয়োজনীয় কোরাম পূর্ণ করার আদেশ দিলেও, কোনও ফল হয়নি।

তারপরও ফেডারেশন প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির সদস্যের শূণ্য পদ ভরাট করার পথে হাঁটেনি। তাদের যুক্তি ছিল, এটা সম্ভব ২০ ডিসেম্বর ফেডারেশনের বার্ষিক সাধারন সভার পরই। এই সভার ২ দিনের মধ্যে প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির বৈঠক ডেকে আনোয়ার আলি বিতর্কের নিষ্পত্তি ঘটানো সম্ভব হবে। অহেতুক এই দেরি দেখে ফিফার কাছে চিঠি দিয়ে আনোয়ার ইস্যুর দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়েছিল মোহনবাগান ১৪ নভেম্বর। ফিফা ২৪ নভেম্বর এআইএফএফকে জানায়, আনোয়ার ইস্যু নিয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে যেন দেরি না করে। কিন্তু তারপরও ফেডারেশনের ঘুম ভাঙছে না দেখে, নিজের ফুটবল ভবিষ্যত অনিশ্চয়তা মুখে পড়ে যাচ্ছে বুঝে আইনজীবির সাহায্যে এআইএফএফের আছে নিজের ট্রান্সফার বিতর্কের অবসান চেয়ে আবেদন করেন বর্তমানে লাল হলুদ জার্সিতে খেলা আনোয়ার।

এরপরই ফেডারেশনের বার্ষিক সাধারন সভায় নির্বাচনী, এথিক্স অ্যান্ড ডিসপিউট রেজোলিউসন, ডিসিপ্লিনারি, প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস ও আপিল কমিটির শূণ্যস্থান পূরণ করা হয়। প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির চেয়ারপার্সন নিযুক্ত হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রবীন্দ্র সিং। মনে হয়েছিল আদালতের সর্বশেষ রায়ে বিতর্কের ফয়সালা হতে চলেছে এআইএফএফের প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটিতে। কিন্তু তাতেও এআইএফএফের কোনও উদ্যোগ না দেখে ক্যাসে গেল মোহনবাগান। এতে কাজ হয় কিনা দেখা যাক। মোহনবাগান কর্তাদের স্থির বিশ্বাস, আনোয়ারের শাস্তি হবেই, সঙ্গে ট্রান্সফার বিতর্ক জড়িত থাকা ক্লাবেরও।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *