Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

‌ভারত ২(‌ রায়ান, আকাশ)‌                   হংকং ১(‌এভারটন)‌

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ ভারতীয় ফুটবল দল অবশেষে জাগল, তবে অনেক দেরিতে। এএফসি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ওঠার আশা আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল গত ৫ ম্যাচের একটিও না জিততে পেরে। ২টি ড্র আর ৩টি হারের কারণে ২০২৭ এএফসি এশিয়ান কাপে খেলার দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়ায় মঙ্গলবার কোচির নেহরু স্টেডিয়ামের মাঠে হংকংয়ের বিরুদ্ধে গ্রুপের শেষ ম্যাচটা ছিল ভারতীয় দলের কাছে শুধুই নিয়মরক্ষার। সেই ম্যাচটা ২-‌১ গোলে জিতে হারানো সম্মান কিছুটা হলেও ফেরত পেলেন ভারতীয় ফুটবলাররা।

গ্রুপে এটাই প্রথম জয় প্রাপ্তি ভারতের। ১০ বছর আগে কোচির নেহরু স্টেডিয়ামের মাঠে শেষবার প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছিল ভারতীয় দল। ফিফা ২০১৮ ওয়ার্ল্ড কাপ কোয়ালিফায়ারের সেই ম্যাচে তুর্কমেনিস্তানের কাছে ১-‌২ গোলে হেরেছিল ভারত। এবার প্রিওয়ার্ল্ড কাপ কোয়ালিফায়ারের ম্যাচে ২০২৩ সালের নভেম্বরে কুয়েত সিটির মাঠে কুয়েতের বিরুদ্ধে জয়ের পর আর কোনও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ জেতেনি ভারতীয় দল। মাঝে যে ম্যাচ জিতেছিল মালদ্বীপের বিরুদ্ধে, সেটা ছিল আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ।

প্রথম দফায় এই হংকংয়ের কাছেই সংযুক্তি সময়ের পেনাল্টি গোলে হেরেছিল ভারত। ফিরতি দফার জয়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ছেড়ে ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে শুধু রায়ান উইলিয়ামসের অভিষেক ঘটাই নয়, ৪ মিনিটের মাথায় রায়ানের পা থেকে আসা অভিষেক ম্যাচের দ্রুততম গোলে ভারতের এগিয়ে যাওয়া। এর আগে ভারতীয় দলের জার্সিতে দ্রুততম গোল ছিল ৬ মিনিটে আপ্পালা রাজুর। ৫০ মিনিটে আকাশ মিশ্রর গোলে ২-‌০ করেছিল ভারত। খেলার গতির বিরুদ্ধে ৬৫ মিনিটে রক্ষণের আলগা ভাবে গোল করে ব্যবধান কমান হংকংয়ের এভারটন কামারগো।

মানোলো মারকোয়েজের পর ভারতীয় দলের কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর এএফসি এশিয়ান কাপের ম্যাচে কোনও সাফল্য এতদিন এনে দিতে পারেননি খালিদ জামিল। অবশেষে জয়ের মুখ দেখলেন কোচের ভূমিকায়। রায়ান উইলিয়ামসকে সামনে রেখে ৪-৫-‌১ ছকে দল সাজিয়েছিলেন খালিদ আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে। দুই উইংয়ে মনবীর, লিস্টন ও ছাংতের ওঠা নামায় হংকং শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় ভারতীয় দলের ঝাঁজালো আক্রমণের সামনে।

৪ মিনিটে গোলও পেয়ে যায় রায়ান উইলিয়ামস মারফত। ডানদিক থেকে লিস্টনের বাড়ানো থ্রু মনবীরের কাছে গেলে, তিনি গতি বাড়িয়ে হংকংয়ের বক্সে ঢুকে পড়েন। মনবীর বক্সের ভেতর নিখুঁত মাইনাস রাখলে , তা চলে যা বাঁদিকে উঠে আসা রায়ান উইলিয়ামসের পায়ে। রায়ান ডানপায়ের প্লেসিং শটে হংকং গোলকিপারের পাশ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন।

প্রথম গোল পেয়ে যাওয়ায় ভারতীয় দল চাপ আরও বাড়ায়। ছাংতের সামনে গোল করার সুযোগ এসেছিল। তবে তা তিনি কাজে লাগাতে পারেননি। ভারত দ্বিতীয় গোল পায় ৫০ মিনিটে। রাহুল বেকের লম্বা থ্রো বক্সের মাঝে পড়লে, জটলার মধ্যে প্রতিপক্ষ দলের ফুটবলারের হেড আকাশ মিশ্রর কাছে গেলে, তিনি মাপা শটে হংকংয়ের গোলের ভেতর বল পাঠিয়ে দেন।

তবে ৬৫ মিনিটে খেলার গতির বিরুদ্ধে পেছন থেকে আসা থ্রু অনুসরণ করে ভারতীয় স্টপার সন্দেশ ঝিঙ্গানের ট্যাকল এড়িয়ে ডানপায়ের টোকায় গোলকিপার গুরপ্রীতের পাশ দিয়ে বল গোলে পাঠিয়ে হংকংয়ের পক্ষে ব্যবধান কমান এভারটন কামারগো।

বাকি সময়টা জয় ধরে রাখতে রক্ষণ জমাট রাখতে সক্ষম হন সন্দেশরা। ম্যাচ শেষে জয়ের আনন্দে ভেসেছে ভারতীয় ফুটবল শিবির। তবে বাড়তি উচ্ছ্বাস ছিল ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে অভিয়েক ম্যাচে গোল করা রায়ান উইলিয়ামসকে নিয়ে। রায়ানের প্রতিক্রিয়া, ‘‌ ৫ মাস ধরে ভারতীয় দলে খেলার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। সেখান গোল করতে পেরে আরও খুশি। ভারতীয় দলের জয়ে আমার অবদান থাকল। তবে এটা শুধু আমার নয়, দলগত সংহতির সাফল্য। আর একটা না বলে পারছি না, এতদিন কোচির এই মাঠে প্রতিপক্ষ ক্লাব দলের হয়ে খেলেছি এখামকার ফুটবল পাগল দর্শকদের সামনে, আর এদিন পুরো সমর্থন নিয়ে খেললাম। এই অনুভূতি ভোলার নয়।’‌

ভারত:‌ গুরপ্রীত, বেকে, আনোয়ার(‌জিকসন)‌, সন্দেশ, আকাশ(‌রোশন)‌, মনবীর, ছাংতে(‌বিজয়)‌, আপুইয়া, অভিষেক, লিস্টন, রায়ান(‌আশিক)‌।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *