মোহনবাগান ১(এরউইন) নর্থ ইস্ট ১(এতিয়ান)
মুনাল চট্টোপাধ্যায়: শ্রীনিধি ডেকানকে প্রথম ম্যাচে ৬-০ গোলে হারিয়ে শিল্ড অভিযান শুরু করেছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের সঙ্গে ১-১ ড্র করল বাগান বাহিনী গোল মিসের প্রদর্শনী দেখিয়ে। যা দেখে বাগানের ভিভিআইপি বক্সে বসা একদা সবুজ মেরুনের শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষার ভরসা সবুজ তোতা ব্যারেটোও হতাশ হয়েছেন। ম্যাচ শেষে বলেও গেলেন, এত গোল মিস করলে দলের ওপর চাপ তো বাড়েই। ম্যাচটা ভাল খেলেছে মোহনবাগান। মিগুয়েলের পেনাল্টি মিসটা কিছুটা হলেও টার্নিং পয়েন্ট। নর্থ ইস্টের গোলকিপারও দুরন্ত কয়েকটা সেভ করেছেন। তবে এটা মরশুমে শুরু। আশা করা যায়, কোচ দলটা আইএসএসের আগে গুছিয়ে পারবেন।
এই ম্যাচ খেলার আগে কার্যত মোহনবাগান ও নর্থ ইস্ট সেমিফাইনালে চলেই গিয়েছিল। মঙ্গলবার ঘরের মাঠে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ম্যাচটা মোহনবাগানের কাছে ছিল একপ্রকার নিয়মরক্ষার। ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রুপ শীর্ষে পৌঁছে যাওয়া ছাড়া আর কোনও স্টেক ছিল না বাগান ব্রিগেডের সামনে। নর্থ ইস্টের মুখোমুখি হওয়ার আগে দু’দলের পয়েন্ট ছিল সমান জায়গায়। তবে গোলপার্থক্যে সবুজ মেরুন বাহিনী এগিয়ে থাকায় গ্রুপ শীর্ষে থাকতে মোহনবাগানের দরকার ছিল ড্র। কিন্তু ড্রয়ের লক্ষ্যে তো মাঠে নামার নির্দেশ দেননি মোহনবাগানের কোচ পানাগয়টিস ডিমপেরিস(পানোস)। বরং ম্যাচ জিততেই পুরো শক্তির দল নামিয়েছিলেন তিনি। তবু জিততে পারলেন না লি হ্যারি এরউনের গোলে এগিয়ে গিয়েও। অসংখ্য গোলের সুযোগ ও মিগুয়েলের পেনাল্টি মিসে প্রতিপক্ষ পাল্টা আঘাত হানার সুযোগ পেয়ে যায়। এতিয়ান গোল করে সমতা ফেরায় নর্থ ইস্টের পক্ষে।
নর্থ ইস্টের পক্ষে এই ড্রটা কৃতিত্বের বললে ভুল হবে না। কারণ সেমিফাইনাল আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় নর্থ ইস্টের কোচ পেড্রো বেনালি বাগানের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে কোনও বিদেশি ফুটবলার নামাননি। এমনকি দলের গোলমেশিন আলাদিন আজারেকেও খেলাননি শুরুতে। তিনি ভরসা রেখেছিলেন দেশি ব্রিগেডের ওপর। সেখানে মোহনবাগানের প্রথম একাদশে ম্যাকলারেন ও মিগুয়েলের জায়গায় সমীর জেলকোভিচ ও লি হ্যারি এরউইনকে রেখেছিলেন তাঁদের বাড়তি সুযোগ নিতে দলের সঙ্গে মানাতে। চোট সারিয়ে দলে ফিরে জেলকোভিচ খুব একটা নজর কাড়তে পারেননি। তার থেকেও বড় কথা, যে কথা ভেবে কোচ পানোস দলে রেখেছিলেন জেলকোভিচকে, সেটার দরকারই তো পড়েনি। কারণ আলাদিনকে শুরু থেকে খেলাননি নর্থ ইস্ট কোচ বেনালি। জেলকোভিচকে তুলে নিয়ে ম্যাকলারেনকে নামান পানোস বিরতির পর গোল পেতে। ড্রাজিচকে উইং রেখে আক্রমণ শানালেও মোহনবাগানকে প্রথম গোলের জন্য ৪৯ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ড্রাজিচের তোলা বলে ম্যাকলারেনের হেড লি এরউইনের পায়ে পড়লে, তিনি তা গোলে ঠেলতে ভুল করেননি।
গোলের পর নর্থ ইস্টকে চেপে ধরেছিল বাগান ব্রিগেড। ৭০ মিনিটে উইং দিয়ে গতি বাড়িয়ে উঠে ড্রাজিচ গোল লক্ষ্য করে শট নিলে গোলকিপার দীপেশ চৌহান সেই বল হাতে ধরে রাখতে পারেননি। বল ছিটকে বেরিয়ে হাতে লাগে দীনেশের হাতে পেনাল্টি বক্সের মাঝে। রেফারি পেনাল্টি দিতে দ্বিধা করেননি। কিন্তু মোহনবাগানকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগটা হাতছাড়া করেন মিগুয়েল পেনাল্টি শট নর্থ ইস্ট গোলকিপারের হাতে মেরে।
এরপরই ৭১ মিনিটে একসঙ্গে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে আলাদিন, এতিয়ান ও মুথুকে নামান নর্থ ইস্ট কোচ বেনালি। ৭২ মিনিটে বাগানের ডিফেন্ডারদের অসতর্কতায় দীনেশের বাড়ানো লম্বা বল আমন সিকের পা ঘুরে এতিয়ানের কাছে এলে, তিনি ড্রপ ভলিতে বাগান গোলকিপার বিশালের পাশ দিয়ে জালের ভেতর জড়িয়ে দেন। গোল হজমেই শেষ নয়, বাগান শিবিরের বড় ক্ষতি হয়ে গেল ম্যাকলারেন ৭৬ মিনিটে কুঁচকির চোট পেয়ে বসে যাওয়ায়। তাঁর চোট কতটা গুরুতর ও কবে ফিট হয়ে মাঠে ফিরবেন, তা বোঝা যাবে বুধবার এমআরআইয়ের পর। চিন্তা থেকে গেল বাগানের রক্ষণ নিয়ে। ইস্টবেঙ্গলের মুখোমুখি হলে এই নড়বড়ে রক্ষণ থাকতে বাগানকে ভুগতে হবে।
ম্যাচের শেষদিকে পরপর দু’টি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন ড্রাজিচের বদলি কিয়ান ও মিগুয়েল। একইসঙ্গে কৃতিত্ব দিতে হবে নর্থ ইস্ট গোলকিপার দীপেশকে অনেকগুলি গোল সেভ করে দলকে ১-১ সম্মানজনক ড্রয়ে ম্যাচ শেষ করতে। আর সে কারণেই তিনি ম্যাচ সেরা।
মোহনবাগান: বিশাল, শুভাশিস, আলবার্তো, বেকে, জেলকোভিচ(ম্যাকলারেন)(সুহেল), লিস্টন(মিগুয়েল), টাংরি, সূর্যবংশী, ড্রাজিচ(কিয়ান), ছাংতে, এরউইন(আশিস)।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
