মুনাল চট্টোপাধ্যায়: ডুরান্ড, কলকাতা ফুটবল লিগ বা শিল্ড খেলা নিয়ে যে ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস যে বেশ বিরক্ত, তা এর আগে বেশ কয়েকবার বুঝিয়েছেন তাঁর আচরণ ও বক্তব্যে। শিল্ড ফাইনাল ডার্বিতে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কাছে হারের পর হাবাস ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ইনস্টাগ্রামে বলেই দেন, তাঁর সঙ্গে জন্তুর মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। আসলে তাঁর এই ক্ষোভ যে নিজের জন্য নয়, সেটা বুঝতে অসুবিধা নেই। এটা তাঁর ফুটবলারদের স্বার্থ দেখতে। ঘনঘন ম্যাচ খেলার ক্লান্তি ফুটবলারদের সেরা দেওয়ার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার সঙ্গে চোট বাড়াতে পারে। হাবাস বরাবরই আইএসএল বা এসিএলের ম্যাচ ছাড়া অন্য কোনও ম্যাচকে গুরুত্ব দেন না। তাঁর সেই ভাবনার সঙ্গে তাল খাচ্ছে না একের পর এক ঘরোয়া টুর্নামেন্ট খেলা। আর তাই শিল্ডের পর তাঁর ক্ষোভ প্রকাশের প্রসঙ্গ তুলতেই হাবাস হাতে করে শূণ্য দেখিয়ে বলেন, প্রাপ্তির ভাঁড়ার শূণ্য আর এখন শূণ্য থেকে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে।
মঙ্গলবার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-র গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে যুবভারতীর মাঠে ইরাকের আল শোরতা এফসির মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল। ১৮ অক্টোবর ইস্টবেঙ্গল তাদের আইএসএল অভিযান শুরু করছে বাইরের মাঠে চেন্নাইন এফসির বিরুদ্ধে। আল শোরতা প্রথম ম্যাচে ওমানের আল সিবকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপে ভাল জায়গায় রয়েছে। সেখানে অ্যাওয়ে ম্যাচে জর্ডনের আল হুসেইনের বিরুদ্ধে শুরুতে ২ গোলে এগিয়ে গিয়েও ২-২ ড্র করে গ্রুপের ওপরের দিকে থাকার সুযোগটা হাতছাড়া করেছে লাল হলুদ। আর তাই ইস্টবেঙ্গলের হেড স্যার হাবাসের সাফ বক্তব্য,‘ ঘন ঘন ম্যাচ খেলার ক্লান্তি, চোট সমস্যা আছে দলে। তবে এসব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে আল শোরতার বিরুদ্ধে জেতার জন্য ঝাঁপাতে হবে ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে। আল শোরতা ভাল দল। বলতে গেলে সবচেয়ে কঠিন দল এই গ্রুপের। ওদের খেলা দেখেছি। সেইমতো বিশ্লেষণ করে নিজের স্ট্র্যাটেজি ঠিক করব। এসিএল টুর্নামেন্ট খেলা বড় ব্যাপার। সেখানে ভাল করাটা গুরুত্বপূর্ণ। আল শোরতা ম্যাচে বাজে ফল করলে এসিএল ২তে অনেকটাই পিছিয়ে যাব আমরা।’
আল শোরতা দলে ৭ জন বিদেশি বা বিশ্বকাপার থাকাটাকে আলাদাভাবে দেখতে নারাজ হাবাস। বলেই দিলেন, ‘ আমি দেশি-বিদেশিদের আলাদা চোখে দেখি না। আমার দলেও। একজন দেশি ফুটবলার বিদেশির থেকেও ভাল খেলতে পারে। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হল আল শোরতা দলটা। ম্যাচ থেকে ৩ পয়েন্ট পেতে হলে ওদের থামাতে হবে।’
আল হুসেইনের সঙ্গে ২ গোলে এগিয়ে গিয়েও জয় হাতছাড়া হয় ২ গোল হজম করে। শিল্ডের ম্যাচেও গোল হজম করে ম্যাচ হারতে হয়েছে মোহনবাগানের কাছে। আল শোরতার বিরুদ্ধে এমন কিছু যাতে না হয়, তার জন্য কি রক্ষণ সংগঠন আরও জমাট করা জরুরি? হাবাসের জবাব,‘ আমি শুধু রক্ষণভাগকে গোল হজমের জন্য দায়ি করতে রাজি নই। গোটা দলের ভূমিকা থাকে জয় পরাজয়ে। আল শোরতা মাচে আশা করি দলের সব ফুটবলার সংঘবদ্ধ হয়ে লড়বে জয়ের লক্ষ্যে।’
যুবভারতীতে লাল হলুদ জার্সিতে অভিষেক ম্যাচে গোল পেয়েছিলেন ডিফেন্ডার জয় গুপ্তা। তিনি এখন হাবাসের রক্ষণের অন্যতম স্তম্ভ, একইসঙ্গে আক্রমণের অস্ত্র হয়ে উঠেছেন। শুধু যে ক্লাবের জার্সিতেই খেলছেন তাই নয়, ভারতীয় দলের হয়ে পানামা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ে ম্যাচে নজর কাড়া পারফরমেন্স দিয়েছেন। জয়ের কাছে প্রশ্ন ছিল, ক্লাব ও দেশের হয়ে এত ম্যাচ খেলার জন্য তিনি কি ওভারলোডেড? ক্লাব ও জাতীয় দলে ভিন্ন পজশনে খেলাটা কি সমস্যা তৈরি করছে? একইসঙ্গে ভারতের হয়ে ফিফা ফ্রেন্ডলিতে খেলার অভিজ্ঞতা কি আল শোরতা ম্যাচে তাঁকে বাড়তি উৎসাহ জোগাচ্ছে? জয়ের জবাব, ‘ নিঃসন্দেহে ভারতীয় দলের হয়ে পানামা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে খেলার সুবাদে আমার মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে। একইসঙ্গে বেড়েছে আত্মবিশ্বাস। সেই জোসটা আল শোরতা ম্যাচে কাজে লাগাতে চেষ্টা করব জিততে। ম্যাচ বেশি খেললেও নিজেকে ওভারলোডেড মনে করছি না। কোচ খেলালে মাঠে সেরাটাই দেব। মা দুর্গার আশীর্বাদ প্রার্থনা করছি ম্যাচ জিততে ও গোল পেতে।’
শিল্ডের ফাইনাল ডার্বিতে রক্ষণের মূল স্তম্ভ আনোয়ারকে ব্যবহারই করেননি কোচ হাবাস। আল শোরতা ম্যাচে আনোয়ার স্টপারে ফিরলে রক্ষণ জমাট ভাব ও আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যাবে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
