নর্থ ইস্ট ১( জিতিন) মোহনবাগান ০
মুনাল চট্টোপাধ্যায়: আইএফএ শিল্ডে ঘরের মাঠে গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করেছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। সেদিন ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনে সবুজ মেরুন কোচ পানোসের কাচে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল, আপনার কি মনে হয় না, গোলের সুযোগ নষ্টের রোগ আপনাকে ভোগাব? পানোসের উত্তর ছিল, ‘ গোলের সুযোগ যতক্ষণ তৈরি হচ্ছে, চিন্তা করার কারণ দেখছেন না। প্র্যাকটিসে ফুটবলাররা প্রচুর গোল করেছে। ম্যাচের একবার গোল করা শুরু হলে আর থামবে না।’ পানোস এমনটা বলার পরও শিল্ডের সেমিফাইনালে পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে মোহনবাগান নির্ধারিত সময়ে গোল করতে পারেনি। টাইব্রেকারে ম্যাচ জিতেছিল। তারপরও পানোসের টনক নড়েনি। শিল্ড ফাইনালে জেলকোভিচের গোলে ইস্টবেঙ্গলকে হারানোর পর বাগান কোচের সম্ভবত মনে হয়েছিল তাঁর রণতরী বুঝি তীরে ভিড়েছে। কিন্তু সেটা যে হয়নি, তার প্রমাণ মিলল আইএসএলে মোহনবাগানের প্রথম ম্যাচে।
ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে নর্থ ইস্টের বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে শিলংয়ের মাঠে প্রতিকূল পরিবেশে তাও জয় পেয়েছিল মোহনবাগন সুপার জায়ান্ট। সেখানে সোমবার গুয়াহাটির মাঠে নর্থ ইস্টের কাছে ০-১ গোলে হেরে আইএসএল অভিযান শুরু করল মোহনবাগান। ৯২ মিনিটে পেড্রো বেনালির দলের হয়ে জয়সূচক গোল করেন জিতিন এম এস। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন তিনি। এর আগে ২০২২-২৩ মরশুমে আইএসএলের প্রথম ম্যাচে যুবভারতীতে চেন্নাইন এফসির কাছে হেরেছিল বাগান বাহিনী। এবার নর্থ ইস্টের কাছে হারটা মোহনবাগানের কাছে বড় ধাক্কা।
কলকাতা ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে লড়াইয়ে ২-১ এগিয়ে থাকার আত্মপ্রসাদ নিয়ে খেলতে নামলে এভাবে আরও মুখ থুবড়ে পড়তে হতে পারে সবুজ মেরুনকে। মোহনবাগান কোচ পানোসোর হাতে এক ঝাঁক নামী ফুটবলার। কিন্তু মরশুমের শুরু থেকে পানোস দলটা গোছাতে পারেননি। সবচেয়ে বড় কথা, দলের পারফরমেন্সে কোনও ধারাবাহিকতা নেই। এর আগে কোচ ফেরান্দো তারকা ফুটবলারদের সামাল না দিতে পেরে দলকে ডুবিয়েছিলেন। তাঁর চাকরি গিয়েছিল আইএসএলের মাঝে। হাবাস এসে হাল ধরেছিলেন দলের। তবে মরশুম শেষ হতেই হাবাসের জায়গায় বাগান কোচের দায়িত্ব পান মোলিনা। তিনি লিগ শিল্ড ও কাপ জিতে নজির গড়েছিলেন। কিন্তু তিনিও তো টিম ম্যানেজমেন্টের কোপে পড়ে স্থায়ী হলেন না। পরের মরশুমের মাঝামাঝি বরখাস্ত হলেন। কোচের পদে নিযুক্ত হলেন সের্জিও লোবেরা। তিনি সংক্ষিপ্ত আকারের আইএসএলে দলকে সাফল্য এনে দিতে পারেননি হাতে ভাল ফুটবলার থাকা সত্ত্বেও। রানার্স হন। নতুন মরশুমে অর্থাৎ ২০২৬-২৭ মরশুমের জন্য বাগান টিম ম্যানেজমেন্ট কোচ করে আনলেন পানোসকে। কিন্তু তিনি কি আদৌ মোহনবাগানের মতো হেভিওয়েট দলের কোচ হওয়ার ক্ষমতা রাখেন? রাখেন বলে তো মনে হচ্ছে না। পাঞ্জাব এফসির চাপহীন পরিবেশে কোচিং করা আর মোহনবাগানের অগনিত সদস্য-সমর্থকদের প্রত্যাশাপূরণ যে এক নয়, সেটা পানোস বুঝেছেন কিনা সন্দেহ, মুখে সেকথা বললেও।
নর্থ ইস্টের কাছে জিতিনের গোলে হারের পর সাফাই দেওয়ার ঢঙে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট কোচ পানোস বলেছেন, ‘ ভুরি ভুরি গোলের সুযোগ নষ্ট করাটাই হারের মূল কারণ। এত সুযোগ পেয়েছিল ফুটবলাররা, যা হাতে গুনে শেষ করা যাবে না। এটাই ফুটবল। দিনের শেষে ফলাফলটাই আসল, অর্থাৎ গোল করাটা। কটা গোলের পেয়েছিলাম, সেটা কেউ মন রাখে না। ভাল খেলাটাও। তাছাড়া মোহনবাগানের দুর্ভাগ্য। আমাদের ফুটবলারের নেওয়া শট পোস্টে লেগে বেরিয়ে গেল, আর ম্যাচের শেষদিকে দ্বিতীয়ার্ধের সংযুক্ত সময়ের শুরুতে নর্থ ইস্টের মোয়ানার শট গোলকিপার বিশাল কাইথের হাতে লেগে ক্রশপিসে লেগে ফিরলে জিতিন তা গোলে পাঠায়। একেই বলে কপাল।’
এটা ঠিক ম্যাচের শুরুর দিকে লি এরউইনের শট ও ৮৭ মিনিটে লিস্টনের ক্রশে সুহেল বাটের প্রচেষ্টা ক্রশপিসে লেগে প্রতিহত হয়ে ফেরে। কিন্তু এটা হারের কারণ হতে পারে না, বাগান কোচ পানোস যাই ব্যাখ্যা দিন। আসল হল মোহনবাগান দলে অধিক তারকার সমাবেশে অধিক সন্যাসীতে গাজন নষ্টের মতো অবস্থা। যদিও এটা আইএসএলের প্রথম ম্যাচ, এখন অনেক ম্যাচ বাকি, তবু একটা কথা না বলে পারছি না, গোল নষ্টের বাউন্ডুলে অভ্যাসটা যদি মোহনবাগান ফুটবলাররা শোধরাতে না পারেন, একইসঙ্গে ম্যাচের শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত রক্ষণের জমাট ভাব ধরে রাখতে সমক্ষ হন, তাহলে মোহনবাগানের কপালে তো দুঃখ আছেই, একইসঙ্গে কোচ পানোসের। টিম ম্যানেজেন্ট আরও একবার কোচ বদলানোর পথে হাঁটবেন, যেমন হেঁটেছেন বিগত মরশুমগুলোতে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
