অলস্পোর্ট ডেস্ক: কী হল ইস্টবেঙ্গল শিবিরে? এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টায়ার টু-র ম্যাচে ইরাকের আল শোরতার বিরুদ্ধে লড়ে ও ভাল ফুটবল খেলে ইস্টবেঙ্গলের ২-৩ গোলে হার নিয়ে সদস্য-সমর্থকদের গলায় আক্ষেপ ঝরে পড়ছে। কেন এই ছন্দপতন, তা নিয়ে যখন জোর জল্পনা সকলের মধ্যে, তখন লাল হলুদ শিবির ঘিরে এক নতুন ডেভেলপমেন্টে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সেটা হল আল শোরতা ম্যাচের পরদিন রাজারহাট সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের মাঠে ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা অনুশীলন না করে চলে যাওয়ায়। কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসও কিছু সময় মাঠ কাটিয়ে অনুশীলন অসমাপ্ত রেখে বেরিয়ে যান। সামনে ১৮ অক্টোবর গোয়ার মাঠে চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে আইএসএলের প্রথম ম্যাচ ইস্টবেঙ্গলের। অথচ কেন রিকভারি সেশনে অংশ নিলেন না আল শোরতা ম্যাচে খেলা ফুটবলাররা, আর কেনই বা অন্য ফুটবলাররা অনুশীলন করলেন না পুরোদমে? এনিয়ে একটা রহস্য দানা বেঁধেছে।
কারণটা যে ঠিক কী তা নিয়ে মুখ খুলতে চান নি ইস্টবেঙ্গল ক্লাব কর্তা, কোচ বা ফুটবলাররা। এঁদের একাংশ যখন আসল খবর ঢাকতে বলার চেষ্টা করছেন, আল শোরতা ম্যাচ খেলার পরদিনের ধকল মেটাতে কোচ-ফুটবলাররা টিম মিটিং সেরে হাল্কা হাঁটাহাঁটি করে চলে গেছেন, তখন আর একাংশের খবর, ফুটবলারদের বকেয়া বেতন মেটাতে না পারাতেই নাকি এমন সমস্যা তৈরি হয়েছে। এমনকি কোচ হাবাসও নাকি পুরো বেতন পাননি। তাই ফুটবলাররা নাকি অনুশীলন করায় অনীহা প্রকাশ করেন। বিষয়টা যদি বকেয়া বেতন মেটাতে না পারার মতো সিরিয়াস ব্যাপার হয়, খবরটা সত্যি হয়, তাহলে ইস্টবেঙ্গলের কপালে দুর্ভোগ আছে। তারা ফেডারেশন ও ফিফা ব্যানের মুখেও পড়তে পারে দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে না পারলে।
কোচ ও ফুটবলারদের সময়মতো বেতন দিতে না পারায় মহমেডান স্পোর্টিংয়ের ওপর শুধু এআইএফএফের ঘরোয়া ফুটবল ট্রান্সফারের নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি, ফিফার জরিমানা ও ইন্টারন্যাশানাল ট্রান্সফার ব্যানের মুখে পড়তে হয়েছিল। দু’মরশুম আগে মহমেডানের বিদেশি কোচ আইএসএলের শেষদিকে দায়িত্ব ছেড়ে দেশে চলে যান। ফুটবলররাও বেতন না পেয়ে খেলা দুরে থাক অনুশীলন করবেন না বলে বেঁকে বসেন। সেসময় সহকারী কোচের ভূমিকায় থাকা মেহরাজউদ্দিন ওয়াডু ফুটবলারদের বুঝিয়ে শুনিয়ে বাকি ম্যাচে দল নামাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তবে সেবছরে আইএসএলে অবনমন না থাকায় মহমেডান বাজে ফল করেও টিঁকে গিয়েছিল আইএসএলে। কিন্তু ট্রান্সফার ব্যানের জেরে মহমেডান ২০২৫-২৬ মরশুমের সংক্ষিপ্ত আইএসএলে একেবারেই ভাল ফল করতে পারেনি। লিগের সবচেয়ে শেষ স্থান পেয়ে তারা অবনমনের নিয়মে নেমে গেছে। তাদের আইএসএলে প্রোমোশন পেতে গেলে আবার ইন্ডিয়ান ফুটবল লিগের মূল পর্বে চ্যাম্পিয়ন হতে হবে।
তেমনই বেতন সমস্যার মুখে এখন লাল হলুদ শিবির। অনেকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে, আর্থিক জোগান ঠিকমতো না থাকায় ইস্টবঙ্গলের কোচ-ফুটবলাররা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না। তাঁদের বেতন বকেয়া রয়েছে। তা নিয়ে লাল হলুদ শিবিরে একটা গুঞ্জন ছিলই। ইমামি ইভেস্টার হিসেবে সরে দাঁড়ানোর পর আর্থিক সমস্যার মুখে পড়ে। ইমামি জানিয়েই দেয়, তারা আর ইনভেস্টার হিসেবে আর যুক্ত নয ক্লাবের সঙ্গে, শুধুমাত্র স্পনসর হিসেবে সম্পর্ক রাখবে। এখন যা পরিস্থিতি তাতে নতুন ইনভেস্টার না পাক, মোটা অঙ্কের স্পনসরশিপ না পেলে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ঝামেলার মুখে পড়বে। ইন্টার কাশীর কোচ থাকার সময় হাবাসকে এমন সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল। ইস্টবেঙ্গলের মতো ক্লাব অবশ্য অতীতে এমন সমস্যা কাটিয়েছে, এবারও পারবে আশা করা যায়।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
