ইস্টবেঙ্গল ৪ ( রামিরেজ, এডমুন্ড, বিপিন-২) চার্চিল ০
মুনাল চট্টোপাধ্যায়: গতবারের চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল ২০২৬-২৭ মরশুমের আইএসএল অভিযান শুরু করল মারগাঁওয়ের ফতোরদা স্টেডিয়ামে চার্চিল ব্রাদার্সকে ৪-০ গোলে হারিয়ে। দানি রামিরেজ, এডমুন্ড লালরিনডিকা ও বিপিন সিংয়ের করা ২ গোলে অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে ৩ পয়েন্ট ঘরে তুলল লাল হলুদ শিবির। চার্চিল ম্যাচ খেলতে যাওয়ার আগে সদস্য-সমর্থকদের ম্যাচ জেতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। সেকথা রাখলেন। আসলে হাবাস সবসময়ই আইএসএল ও এসিএল টুর্নামেন্ট নিয়ে বাড়তি সিরিয়াস ঘরোয়া অন্যান্য টুর্নামেন্টের তুলনায়। প্রতিপক্ষ মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট কোচ পানোস যখন এখনও নিজের দলের ছন্দ হাতড়ে বেড়াচ্ছেন, তখন হাবাসের দলের খেলায় অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী মনোভাব স্পষ্ট।
তাই ৪ গোলে গোয়ার মাঠে চার্চিলকে হারানোর পর হাবাস বলেই দিলেন,‘ যে কোনও টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ খুব কঠিন। তারওপর সেটা যখন আইএসএলের মতো বড় মঞ্চ হয়। একইসঙ্গে ইস্টবেঙ্গল গতবারের চ্যাম্পিয়ন বলে সমর্থকদের বাড়তি প্রত্যাশা থাকাটাই স্বাভাবিক। সেখানে অ্যাওয়ে ম্যাচে চার্চিলের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জিতে শুরু করাটা অবশ্যই কৃতিত্বের, তৃপ্তির ও স্বস্তির। তার জন্য ফুটবলারদের লড়াকু ও ইতিবাচক মনোভাব প্রশংসনীয়। আল শোরতা ম্যাচে অসংখ্য গোল মিসের খেসারত দিতে হয়েছিল। চার্চিল ম্যাচে সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহারের ফল মিলেছে। এই খেলাটা ধরেল রাখতে হবে। সবটাই নির্ভর করছে ফুটবলারদের মানসিকতার ওপর। একইসঙ্গে ফুটবলারদের ক্লান্তির কথাটাও মাথায় রাখতে হবে। ২৩ অক্টোবর পুনের মাঠে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে ম্যাচ রয়েছে আইএসএলের। তারপরই ২৭ অক্টোবর ওমানের আল সিবের সঙ্গে এসিএল টু-র অ্যাওয়ে ম্যাচ। ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা চলতি মরশুমে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলছে একের পর এক টুর্নামেন্টে। তাই সেরা খেলা বজায় রাখতে ফুটবলারদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করার কথা ভাবতেই হবে।’
আইএফএ শিল্ড ফাইনাল ডার্বিতে হারের পর বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। তাঁর ক্ষোভ ছিল মাঠ, সূচী ও টুর্নামেন্টের সময় নিয়ে। তবে সেটা আঁকড়ে ধরে বসে থাকেননি। বরং তিনি দলকে তৈরি করেন এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-র ম্যাচের জন্য। শিল্ডের হার কাটিয়ে দারুনভাবে লড়াইয়ে ফিরেছিল ইস্টবেঙ্গল। ইরাকের আল শোরতা ক্লাবের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ২ বার এগিয়েও গিয়েছিল তারা ভাল খেলে। কিন্তু গোলের সুযোগ নষ্ট ও মুহূর্তের অসতর্কতার কারণে ম্যাচটা শেষপর্যন্ত ২-৩ গোলে হেরে যায়।
ওই ম্যাচে হারলেও লাল হলুদ ফুটবলারদেরল আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরায়নি আইএসএলের প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলার আগে। বরং আল শোরতা ম্যাচে ভাল খেলাটা ইস্টবেঙ্গল শিবিরকে উজ্জীবিত করেছিল। একইসঙ্গে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের মূল ভরসা আনোয়ার আলি চার্চিলের বিরুদ্ধে আইএসএল অভিযান শুরু করার আগে বলেছিলেন, আল শোরতা ম্যাচের ভুলের পুনরাবৃত্তি হবে না। কোচ হাবাসও জোরের সঙ্গে বলেছিলেন, সুযোগের সদ্ব্যবহার করার কোনও কসুর করবেন না তাঁর ফুটবলাররা। আইএসএলের নিজেদের ম্যাচে মুম্বই সিটির বিরুদ্ধে চার্চিলের জয় মাথায় রাখা সত্ত্বেও।
তেড়েফুঁড়ে শুরু করে দ্বিতীয় মিনিটে দানি রামিরেজের দর্শনীয় ফ্রিকিক গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। চার্চিল পাল্টা আক্রমণ হেনে সমতা ফেরানোর জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল। তাদের প্রচেষ্টা ক্রশপিসে লেগে ফেরে। এছাড়া ইস্টবেঙ্গল রক্ষণ জমাট থাকায় চার্চিল গোল পায়নি। প্রথমার্ধের শেষদিকে দ্বিতীয় গোল করে ইস্টবেঙ্গল। ডেভিড হামার বল ধরে সামনে এডমুন্ড লালরিনডিকাকে বাড়ালে, তিনি বক্সে ঢুকে সায়াদ কাদিরের পাশ দিয়ে বল জালের ভেতর পাঠান।
ইস্টবেঙ্গল দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ জারি রাখে। কোচ হাবাস বদলি হিসেবে নামান বিপিন সিংকে। একে লোবার বাড়ানো বলে ৮৫ মিনিটে বাঁক খাওয়ানো শটে নিজের প্রথম ও ইস্টবেঙ্গল তৃতীয় গোল করেন বিপিন। ৯০ মিনিটে পিভি বিষ্ণুর পাস থেকে বিপিন দ্বিতীয় গোল করে ৪-০ গোলের জয় নিশ্চিত করেন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
