Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক: পাকিস্তান সুপার লিগের ফ্র্যাঞ্চাইজি লাহৌর কালান্দার্সের বিরুদ্ধে রবিবার করাচি কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে; বল বিকৃতির দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন ক্রিকেটার ফখর জামান। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ম্যাচ রেফারি রোশন মহানামার নেতৃত্বে আয়োজিত এক শাস্তিমূলক শুনানিতে ফখর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।” পিসিবি আরও জানায়, “আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আরেকটি শুনানির আয়োজন করা হবে, যার পর ম্যাচ রেফারি তাঁর চূড়ান্ত রায় জানাবেন।” অভিযোগ প্রমাণিত হলে, ‘লেভেল ৩’ মাত্রার অপরাধের জন্য ন্যূনতম শাস্তি হিসেবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ভোগ করতে হয়।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় তখন, যখন ফাস্ট বোলার হ্যারিস রউফ শেষ ওভারের বল করতে প্রস্তুত হচ্ছিলেন এবং জয়ের জন্য করাচি কিংসের প্রয়োজন ছিল আরও ১৪ রান। লাহৌরের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি, ব্যাটার ফখর জামান এবং বোলার হ্যারিস রউফ—এই তিনজনই বোলারের রান-আপের কাছে একত্রিত হন। নিজেদের মধ্যে আলোচনার এক পর্যায়ে তিনজনই বলটি হাতে নিয়েছিলেন; ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ক্রিকেটারদের মধ্যে এমন আলোচনা ও বল আদান-প্রদান ক্রিকেটে একটি সাধারণ ঘটনা।

এরপর আম্পায়ার ফয়সল আফ্রিদি বলটি চেয়ে নেন, সেটি পরীক্ষা করেন এবং অপর অন-ফিল্ড আম্পায়ার—বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। উভয় আম্পায়ার এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, বলটির আকৃতি বা অবস্থা ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে তারা করাচি কিংসকে শাস্তিস্বরূপ পাঁচটি পেনাল্টি রান দেন; এতে শেষ ৬ বলে করাচির জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রানের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৯-এ। আম্পায়াররা বলটিও পরিবর্তন করে দেন। শেষ ওভারের প্রথম বলেই করাচির ব্যাটার খুশদিল শাহ ক্যাচ আউট হয়ে যান; তবে এরপরই হ‍্যারিস রউফ একটি ‘ওয়াইড’ বল করেন। শেষমেশ আব্বাস আফ্রিদি একটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে ১৯.৩ ওভারেই করাচি কিংসকে ৪ উইকেটের জয় এনে দেন।

এই ঘটনার রেশ ধরে মাঠে আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা এবং বল টেম্পারিং শনাক্তকরণে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ৫ রানের পেনাল্টি ম্যাচটির গতিপথ বা মোমেন্টামকে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দিয়েছিল, তবুও কেবল একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘লেভেল ৩’ মাত্রার অভিযোগ আনার জন্য প্রাপ্ত প্রমাণাদি যথেষ্ট কি না—তা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।

লাহ‍ৌর কালান্দার্সের সমর্থকরা যুক্তি দিচ্ছেন যে, পুরো ইনিংস চলাকালীন একাধিক খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তা বলটি হাতে নিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় বলের আকৃতি ঠিক কোন মুহূর্তে বা কার দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে—তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা অত্যন্ত কঠিন। পরবর্তী শুনানির সময়, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বিশদভাবে হাই-ডেফিনিশন সম্প্রচার ফুটেজ এবং ম্যাচ রেফারির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে; এর উদ্দেশ্য হলো—বলের বর্তমান ভৌত অবস্থা আম্পায়ারদের সেই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, যা বলে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃতি ঘটানোর ইঙ্গিত দেয়—তা নিশ্চিত করা।

এ বিষয়টিও উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, যখন অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলে বল-বিকৃতি সংক্রান্ত বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল, তখন ডেভিড ওয়ার্নার এবং স্টিভ স্মিথের মতো তারকা ক্রিকেটারদেরও দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়েছিল। ফখর, শাহীন এবং হ্যারিস—যাঁরা বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন—তাঁদের বিরুদ্ধেও কি অনুরূপ কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে?

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *