Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

 

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ কাতারে কাতারে ব্রাজিল সমর্থক গায়ে তাঁদের প্রিয় হলুদ জার্সি গায়ে হাজির হয়েছিলেন নিউজার্সির নিউলাইফ স্টেডিয়ামে। তাঁদের মনে একটাই বাসনা ছিল প্রিয় দলের ভাল খেলা ও জয় দেখা। ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সমর্থকদের সে আশা পূরণ করতে পারেননি। বরং বলা ভাল শুরুতে সাইবারির গোলে পিছিয়ে পড়ে ভিনিসিয়াস জুনিয়াসের সৌজন্য সমতা ফিরিয়ে হার ও মান বাঁচিয়েছে। দলের এই সাদামাটা পারফরমেন্সে সমর্থকরা যেমন অখুশি, তেমন বিরক্ত ব্রাজিলের প্রচারমাধ্যম। স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় একদল ব্রাজিল সমর্থক তো বলেই গেলেন, এত খারাপ পারফরমেন্স করে চ্যাম্পিয়ন হওয়া বেশ কঠিন। আর আনসেলোত্তির কাছেও ব্রাজিল প্রচারমাধ্যমের মুখেও সেই আশঙ্কা প্রকাশ পেল। ব্রাজিল কোচ আনসেলোত্তি অবশ্য মাথা ঠান্ডা রেখেই বলেছেন, ‘‌প্রথম ম্যাচের ওপর ভিত্তি করে ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হবে কিনা, এনিয়ে কথা বলা ঠিক নয়।’‌

হতে পারে আনসেলোত্তি ঠিকই বলেছেন, কিন্তু মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলকে তার চেনা ছন্দে পাওয়া যায়নি। প্রথমার্ধে মরক্কোর ফুটবলারদের গতি ও বল দখলের প্রাধান্যের সঙ্গে ব্রাজিলের ফুটবলাররা পাল্লাই দিতে পারেনি। মরক্কোর আচরাফ হাকিমি ও তাঁর সতীর্থ ফুটবলাররা যখন বরাবার ব্রাজিল বক্সে পৌঁছে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, তখন একমাত্র লেফট উইংয়ে ভিনিসিয়াস জুনিয়ারকে ব্রাজিলের আক্রমণে সক্রিয় নিতে দেখা গিয়েছিল। আর ভিনিসিয়াসের ব্যক্তিগত ক্রীড়ানৈপুণ্যের জোরেই ব্রাজিল সমতা ফিরিয়ে মাঠ ছাড়ে এক পয়েন্ট নিয়ে। আনসেলোত্তিও মানলেন, ‘‌ ভিনিসিয়াস সত্যি খুব বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ শিবিরের জন্য। ওর মধ্যে এই বিশ্বকাপে বড় সাফল্য পাওয়ার ক্ষমতা আছে। সময়ি বলবে সেটা।’‌

ব্রাজিল প্রচারমাধ্যম বরাবরই খুব আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকে সাংবাদিক সম্মেলনে। এর আগে দুঙ্গা, স্কোলারি, টিটেকে তাদের প্রশ্নবানের ধাক্কা সামলাতে দেখেছি বিশ্বকাপ কভার করতে গিয়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। ব্রাজিলের এক সাংবাদিক আনসেলোত্তির কাছে জানতে চান, ‘‌ ব্রাজিল কি এই অবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক হতে পারবে?‌’‌ আনসেলোত্তির উত্তর, ‘‌ মরক্কো ম্যাচটা কঠিন ছিল। বিশেষ করে শুরুটা। মনে হয়ে ফুটবলাররা একটু বেশি চাপ নিয়ে ফেলেছে বাড়তি উদ্বিগ্ন থাকায়। কিছুটা নার্ভাস ছিল বললেও ভুল হবে না। আর তাতেই বল দখলের লড়াইয়ে মরক্কোর থেকে পিছিয়ে ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে অনেক গোছানো ফুটবল খেলেছে দল। তাতে খেলায় উন্নতিটা নজরে এসেছে। তারপরও বলতে হবে, লড়াইটা সহজ ছিল না।’‌

পাঁচবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দলের ফুটবলাররা নার্ভাস ছিলেন। আনসেলোত্তির এই বক্তব্যে বিস্মিত ব্রাজিলের সমর্থক ও মিডিয়া। সেটা বুঝেই আনসেলোত্তির বক্তব্য,‘‌ এই বিষয়টা নিয়ে ভাবা জরুরি। প্রচুর চাপ ছিল। শুরু থেকেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চাপ। এটা স্বাভাবিক। মনে করি, আস্তে আস্তে সেটা কাটিয়ে উঠে সেরাটা দিতে সক্ষম হবে দল।’‌

ম্যাচ শেষে আনসেলোত্তির দল নামানো ও ফুটবলার বদলের বিষয়গুলো প্রচারমাধ্যমের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, যখন গোল পাওয়াটা জরুরি ছিল, তখন তিনি ১৯ বছরের প্রতিভাবান স্ট্রাইকার এন্ডরিককে নামালেন না কেন?‌ আনসেলোত্তির প্রতিক্রিয়া, ‘‌ আমি কোনও এক বা দু’‌জন ফুটবলার সম্পর্কে আলাদাভাবে কথা বলব না। আমি দল নিয়ে ভাবি, দলগত খেলা নিয়ে কথা বলতে তৈরি আছি। আমি হতাশ নই দলের খেলায়, তবে একইসঙ্গে খুশি নই। যে ফলটা হয়েছে, সেটা খুব একটা খারাপ নয়। আর সেটা মেনে নিয়েই পরের ম্যাচগুলোর জন্য তৈরি হওয়ার জরুরি। বিশ্বাস রাখি দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে ব্রাজিলের খেলায় উন্নতিটা বেশি করে নজর কাড়বে।’‌

ব্রাজিল দলের ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাসে কি চিড় ধরতে পারে মরক্কো ম্যাচে সাদামাটা পারফরমেন্সের কারণে?‌ এই প্রশ্নে আনসেলোত্তির উত্তর, ‘‌ আত্মবিশ্বাসের কোনও অভাব নেই। ফুটবলে সবসময় সবকিছু ঠিকঠাক হয় না। যখন সেটা হয় না, তখন সমালোচনার মুখে পড়তেই হয়। আর সেটা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে গ্রহণ করতেও হয়। লক্ষ্য একটাই পরের ম্যাচগুলোয় ভাল খেলে এই সমালোচনাগুলো এড়ানো। আমার বিশ্বাস ফুটবলাররা সেটা পারবে।’‌

ব্রাজিল কোচ আনসেলোত্তি সরাসরি ভেঙে কিছু না বললেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরের ম্যাচের প্রথম একাদশে কয়েকটা বদল আসবে। দলের খেলায় ভারসাম্য ও আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াতে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *