Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

আল শোরতা ৩(‌ আহমেদ, হুসেইন, কুকু)‌       ইস্টবেঙ্গল ২(‌ ডেভিড-‌২)‌

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ সেই এক গল্প। ভাল খেলেও হার ইস্টবেঙ্গলের। মঙ্গলবার যুবভারতীতে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-‌র ম্যাচে ইরাকের আল শোরতার বিরুদ্ধে দু’‌বার এগিয়ে গিয়েও ২-‌৩ গোলে হেরে গ্রুপে নিজেদের অবস্থান(‌ ২ ম্যাচে ১ পয়েন্ট)‌ খারাপ করে ফেলল লাল হলুদ। জর্ডনের মাঠে অ্যাওয়ে ম্যাচে আল হুসেইনের বিরুদ্ধে ২ গোলে এগিয়ে গিয়েও ২ গোল হজম করে জয় হাতছাড়া করেছিল লাল হলুদ ব্রিগেড। ভাল শুরু করেও পরে খেলা থেকে হারিয়ে যাওয়ার কারণে ইস্টবেঙ্গলের হার। এই রোগটা ইস্টবেঙ্গল সারাতে পারেনি। সেখানে আল শোরতা শুরুটা খারাপ ভাবে করলেও পরে নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে ৩-‌২ গোলে জিতে গ্রুপের ২ টি ম্যাচ থেকে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নিজেদের অবস্থানটা ভাল করে নিল।

এসিএল ২-‌র প্রথম ম্যাচে ওমানের আল সিবকে ১-‌০ গোলে হারিয়েছিল ইরাকের আল শোরতা। সেখানে ইস্টবেঙ্গল জর্ডনের মাঠে আল হুসেইনের বিরুদ্ধে ২ গোলে এগিয়ে গিয়েও পরে ২ গোল হজম করে গ্রুপে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকার সুযোগটা হারায়। লাল হলুদ কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস যখন ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ৩ পয়েন্ট তুলে নেওয়ার কথা বলেছিলেন, তখন আল শোরতা কোচ সামি ট্রাবেলসির মুখেও ছিল অ্যাওয়ে ম্যাচ জিতে গ্রুপে নিজের দলের অবস্থান আরও ভাল করার আত্মবিশ্বাস। সেই লক্ষ্য শেষপর্যন্ত বাজিমাত করে গেলেন আল শোরতার সামি ম্যাচ জিতে।

শিল্ড ফাইনাল ডার্বি হেরে যাওয়ার পর থেকেই হাবাস রীতিমতো তেতে আছেন। সেটা তাঁর কথাবার্তায় ধরা পড়েছে বারবার। ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় প্রতিকূল পরিস্থিতি, সূচী ও মাঠে খেলাটা তাঁর একেবারেই অপছন্দ ছিল। কিন্তু নানা কারণে তাঁকে খেলতে হলেও সেটা মন থেকে মানতে পারেননি। হাবাসের পছন্দের টুর্নামেন্ট সবসময় এসিএল ও আইএসএল। আর তাই শিল্ডের হারের পর আল শোরতার বিরুদ্ধে এসিএল ২-‌র ম্যাচ ঘুরে দাঁড়াতে বেছে নেবেন হাবাস, এটা জানাই ছিল। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার স্বার্থে হাবাস ৪-‌৪-‌২ ছকে শুরুতেই একসঙ্গে ব্যবহার করেন এডমুন্ড ও ডেভিডকে প্রতিপক্ষ রক্ষণকে চাপে রাখতে। উল্টোদিক থেকে নিজের রক্ষণের ওপর চাপ সামলাতে স্টপারে আনোয়ার ও জিবুলেচের সামনে ডাবল ডিফেন্সিভ স্ক্রীণে জিকসন ও রশিদকে রাখেন হাবাস। জিকসনের ভুমিকা মূলত রক্ষণাত্মক হলেও, রশিদকে বাড়তি স্বাধীনতা দিয়েছিলেন রক্ষণ সামলানোর সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণ শানানোর।

৯ মিনিটে ডেভিডের দর্শনীয় গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। হার্দিক ভাটের পাস বক্সের ধারে রামিরেজের পা ঘুরে আবার হার্দিকের কাছে আসে। তিনি বক্সের মাঝে ডেভিডের উদ্দেশ্যে বল বাড়ান। ডেভিড সেই বল ধরেন আল শোরতার দুই ডিফেন্ডারের মাঝে। তারপর চকিত হাফ টার্নে ডেভিড সেই বল বাঁপায়ের হাঁটু সমান শটে আল শোরতার বিশ্বকাপার গোলকিপার জালালের পাশ দিয়ে জালের ভেতর পাঠান।

ফুটবলে একটা জিনিস খুব জরুরি। গোল করার পর আবেগ সংযত রেখে হয় পরের গোলের জন্য ঝাঁপানো, নয় তো মনঃসংযোগ ঠিক রাখা। অধিকাংশ সময়ে দেখা যায়, মনঃসংযোগ হারানোর কারণে এগিয়ে যাওয়া দল গোল হজম করে বাজে ভুল করে। সেটাই হল ইস্টবেঙ্গলের ক্ষেত্রে। ১৪ মিনিটে রুবেন রামিরেজের ক্রশ বক্সে ভেসে এলে বিনা বাধায় আহমেদ হেড নিলে, বল ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার প্রভুসুখনের পাশে ড্রপ পড়ে গোলে ঢোকে।

গোল হজমের পর সম্বিত ফেরে লাল হলুদ ব্রিগেডের। আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায়। ২১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে আচমকা জোরালো শট নিয়েছিলেন লালচুংনুঙ্গা। শূণ্য শরীর ছুঁড়ে দিয়ে বল রুখে গোলকিপার জালাল বুঝিয়ে দেন, তিনি কেন ইরাকের বিশ্বকাপ দলে ছিলেন। তবে আলগা বল চলে এসেছিল সামনে ডেভিডের কাছে। তিনি সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি। দুর্বল শট নিয়ে গোলকিপার জালালের হাতে তুলে দেওয়ায়।

৪০ মিনিটে অবশ্য গোলে বল ঠেলতে ভুল করেননি ডেভিড। বক্সের বাইরে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বল নিয়ে ঢুকে পড়ার মুখে ডেভিডকে ফাউল করেন তিনি। রেফারি ফ্রিকিক দেন। রামিরেজের ফ্রিকিক আল শোরতা গোলকিপার জালাল আংশিক প্রতিহত করলে, বল ড্রপ খেয়ে চলে আসে রশিদের পায়ে। তিনি ছোট টোকায় বল ভেতরে রাখলে ডেভিড তা গোলে ঠেলেন। প্রথমার্ধের শেষদিকে ডেভিডের সামনে আরও দুটো নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। হার্দিকের মাইনাসে গোলের সামনে ফাঁকায় বল পেয়ে ক্রশপিশের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন। আরও একবার ডেভিড সামনে থেকে গোলে বল রাখতে পারেননি। পারলে ডেভিড শুধু হ্যাটট্রিক করে ফেলতেন তাই নয়, ইস্টবঙ্গলের জয় নিশ্চিত করে ফেলতেন। সংযুক্তি সময়ের শেষ মিনিটে এডমুন্ডের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

বিরতিতে ২-‌১ লিড নিয়ে সাজঘরে ফিরে আত্মতুষ্টি ভর করেছিল কিনা জানা নেই, তবে প্রথমার্ধেই ৪ গোলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নষ্টের খেসারত দিল ইস্টবেঙ্গল। কথায় আছে, বড় কোচরা তাঁদের মাইনে কামান বিরতিতে। ইরাকের আল শোরতা কোচ সামি বিরতিতে সাজঘরে তাঁর ফুটবলারদের কোন টোটকায় উজ্জীবিত করেছিলেন, সেটা তিনিই ভাল জানেন। তবে যে স্ট্র‌্যাটেজিতে ইস্টবেঙ্গলকে সামি ঝামেলায় ফেললেন, সেটা হল আক্রমণে নজর কাড়তে না পারা বাসাম শাকিরের জায়গায় আর্জেন্টিনার ক্রিস্টিয়ান বারকোকে নামিয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ক্রিস্টিয়ানের আক্রমণ শানানোর সুবাদে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণে একটা অস্থিরতা ধরা পড়ে। জমাট ভাবটা নষ্ট হয়। সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ৫১ মিনিটে আহমেদের মাইনাসে টোকা মেরে বল জালের ভেতর জড়িয়ে আল শোরতার পক্ষে সমতা ফেরান হুসেইন আল সায়েদি। গোল খেয়ে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার আগেই আবার আঘাত হানে আল শোরতা। ৫৩ মিনিটে বারকোর কর্নারে হেড করে গোল পাঠিয়ে আল শোরতাকে এগিয়ে দেন কিংসলে কুকু।

৬৭ মিনিটে রামিরেজ ও এডমুন্ড বক্সের মাঝে ফাঁকায় বল পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ না হলে ইস্টবেঙ্গল তখনই সমতা ফেরাতে পারত। ইস্টবেঙ্গলের সামনে তারপরও সমতা ফেরানোর সুযোগ ছিল আল শোরতার মিডফিল্ডার আব্দুল লাল কার্ড দেখায়। ৭৬ মিনিটে দ্বিতীয়বার হলুদ ও লাল কার্ড দেখেন আব্দুল মাজিদ ফাউল করায়।

তবে আল শোরতার ১০ জন হয়ে যাওয়ার সুযোগটা ইস্টবেঙ্গল নিতে পারল না। বাকি সময় ইস্টবেঙ্গল চেপে ধরলেও আল শোরতার রক্ষণ ভেদ করে হার বাঁচানোর গোলটা করতে পারল না। ভাল খেলেও এভাবে ম্যাচ হারার জন্য আক্ষেপ নিয়ে ঘরে ফিরতে হল ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের। এটা বেদনার। একইসঙ্গে ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাসকে রক্ষণ সংগঠন জমাট করা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। নইলে ১৮ অক্টোবর গোয়ার মাঠে আইএসএলের প্রথম ম্যাচে চার্চিলের মোকবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

ইস্টবেঙ্গল:‌ প্রভুসুখন, হার্দিক(‌বিপিন)‌, জিবুলিচ, আনোয়ার, লালচুংনুঙ্গা, জয়, জিকসন, রশিদ, রামিরেজ(‌লোবা)‌, এডমুন্ড, ডেভিড(‌লুকাস)‌।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...