মুনাল চট্টোপাধ্যায়: নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের কাছে ০-১ গুয়াহাটির মাঠে হেরে আইএসএল অভিযান শুরু করেছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। দ্বিতীয় ম্যাচে দিল্লির মাঠে স্পোর্টিং দ্য দিল্লির বিরুদ্ধে রীতিমতো লড়ে ২-১ গোলে জিতেছিল সবুজ মেরুন ব্রিগেড। তবে জিতলেও মোহনবাগানের খেলা মন ভরাতে পারেনি। যেন একটা ছন্দের অভাব ছিল গোটা ম্যাচে। কখনও আধিপত্য দেখালেও, অধিকাংশ সময় খেলা থেকে হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা বাগানের ফুটবলারদের খেলায় দেখা গিয়েছিল। আর সবচেয়ে বড় যে রোগটা বাগান বাহিনীর খেলায় রয়েছে, সেটা হল সুযোগ তৈরি করেও তা গোলে রূপান্তরিত করতে না পারার সমস্যা। আর তাই সোমবার আইএসএলের তৃতীয় ম্যাচে প্রথমবার ঘরের মাঠে খেলতে নামার সুযোগ পেয়েও চেন্নাইন এফসির মুখোমুখি হওয়ার আগে মোহনবাগান কোচ পানোসকে ভাবাচ্ছে গোলের সুযোগ নষ্টের বিষয়টা। এককথায় বলতে গেলে, চেন্নাইন এফসি ম্যাচ থেকে ৩ পয়েন্ট তুলতে গোলের খোঁজে বাগানের হেডস্যার পানোস।
চেন্নাই এফসির মোকাবিলা করার আগে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট শিবির বড়রকম অস্বস্তিতে না থাকলেও , চোট চিন্তা আছে কোচ পানোসের। দলর অন্যতম গোলমেশিন ম্যাকলারেন এখনও ফিট নন। তিনি রবিবার দলের সঙ্গে অনুশীলন করেননি। আলাদাভাবে মাঠের ধারে রিহ্যাব সেরেছেন। মাঝমাঠের স্তম্ভ ও আক্রমণের উৎস আপুইয়া অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি। দলের আর এক গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার মিগুয়েলের হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট পুরোপুরি সারেনি। তিনি অনুশীলনই করেননি ম্যাচের আগেরদিন। তাই বলতে কোনও দ্বিধা নেই, গোল করে দলকে জেতাতে পারেন এমন তিন ফুটবলারের না থাকাটা অবশ্যই বাগান শিবিরকে ভাবাচ্ছে। কোচ পানোস অবশ্য সেই ভাবনাটা নিজের ভেতরেই রাখলেন, প্রতিপক্ষ চেন্নাইনকে সুবিধা না দিতে। তবে তাঁকে যে দলে বিশেষ করে মাঝমাঠে বেশ কিছু অদলবদল ঘটাতে হবে ম্যাচ জিততে, সেটা বোঝাই গেছে তাঁর কথায় ও অনুশীলনের ধরনে।
আপুইয়া না থাকায় মাঝমাঠে অনিরুদ্ধ থাপার সঙ্গে সমীর জেলকোভিচকে বাড়তি দায়িত্ব দিতে পারেন কোচ পানোস আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে। ঘরের মাঠে দর্শক সমর্থন নিয়ে খেলার সুবিধা নিয়ে ম্যাচ জিততে আক্রমণাত্মক ছক সাজানোর পরিকল্পনার কথাই বললেন পানোস। তাতে মনে হল, সামনে স্ট্রাইকিং পজিশনে লি এরইউনকে রেখে আক্রমণ শানানোর ক্ষেত্রে মনবীর, সাহাল ও ড্রাজিচকে ব্যবহারের পথ হাঁটতে পারেন বাগান কোচ। ছাংতেকে লেফট ব্যাকে খেলিয়ে গত ম্যাচে সাফল্য পেয়েছেন। তাই চেন্নাইন ম্যাচে কৌশল ও ফুটবলারের অদল বদল ঘটালেও ছাংতেকে লেফট ব্যাকে ব্যবহার করার পথেই হাঁটতে পারেন এমন ইঙ্গিত দিলেন পানোস। তবে পরিস্থিতি বুঝে গোল পেতে ছাংতেকে লেফট উইং হাফেও খেলাতে পারেন, সেকথাও শোনা গোল তাঁর মুখে। অর্থাৎ ছাংতে বাড়তি স্বাধীনতা পাবেন উইং দিয়ে ওঠা নামার করার।
চেন্নাইন এফসি প্রথম ম্যাচে এফসি গোয়ার সঙ্গে ১-১ ড্র করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে বেঙ্গালুরু এফসির কাছে ০-২ গোলে হেরেছে। তাও ক্লিফোর্ড মিরান্দার দলকে হাল্কাভাবে নিতে নারাজ বাগানের হেড স্যার পানোস। বলেন, চেন্নাইন এফসি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। দলে ভাল ফুটবলার আছে। বিশেষ করে মাঝমাঠে মাদি তালাল ও নিকোলার মতো ফুটবলার। তারওপর ওদের কোচ ক্লিফোর্ড যথেষ্ট শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ। দলটাকে ভাল পরিচালনা করে। তাই ওদের বিরুদ্ধে জিততে সেরা তো দিতেই হবে, সবচেয়ে বড় কথা জেতার জন্য গোল করতে হবে। প্রথম ২ ম্যাচ খেলার আগেও যেমন গোল বাড়ানোর অনুশীলনে জোর দিয়েছি, তেমন চেন্নাইন ম্যাচে খেলতে নামার আগে মাঝের সময়টাতেও। ২৬টা সুযোগ তৈরি করে একটাও গোল করতে না পারাটা সত্যি মানা যায় না। এই রোগটা যত দ্রুত সারে তত মঙ্গল।’
ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে যুবভারতীতে উরুগুয়ে ম্যাচে গোল করেছিলেন মোহনবাগানের মিডফিল্ড জেনারেল অনিরুদ্ধ থাপা। তাঁর মতে, দেশের জার্সিতে খেলা ও গোল করাটা গর্বের। বাড়তি প্রেরণা জোগাচ্ছে আইএসএল ম্যাচ খেলতে। দলে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ না থাকায়, তাঁকে ও দলের বাকিদের চেন্নাইন ম্যাচ জেতাতে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। এর আগে মোহনবাগানের জয় শুধু স্ট্রাইকাররাই নন, মিডফিল্ডার ও ডিফেন্ডাররাও গোল করে দলকে জয় এনে দিয়েছেন। কোচের নির্দেশ মেনে এবারও গোল করার জন্য ঝাঁপাতে হবে সবাইকে। গোল ও জয় আসাটা জরুরি, কে করলেন সেটা বড় কথা নয়।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
