Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

‌মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ শিল্ড ফাইনাল ডার্বিতে মোহনবাগানের কাছে হার। তা নিয়ে একটা অসন্তোষ ছিল ইস্টবঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের মধ্যে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শিল্ড খেলাটা তাঁর পছন্দ হয়নি। তাও সেই হারের রেশ কাটিয়ে ক্লাবের সম্মানের কথা মাথায় রেখে এসিএল ২-‌তে ঘরের মাঠে ইরাকের আল শোরতার বিরুদ্ধে ম্যাচের জন্য দলকে মাঠে নামিয়েছিলেন মানসিকভাবে শক্তিশালী করে। তবে ভাল খেলে ম্যাচে দু’‌বার এগিয়ে গিয়েও আল শোরতার বিরুদ্ধে জিততে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। আল শোরতার কাছে হার নিয়ে আক্ষেপ থাকাটাই স্বাভাবিক একাধিক গোলের সুযোগ নষ্ট করে জয় হাতছাড়া করায়। আবার যখন নতুন করে দলটা গুছিয়ে নিয়ে রবিবার গোয়ার মাঠে চার্চিলের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলে আইএসএল অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই হাবাসের শিবিরের একটা নতুন সমস্যা হাজির হয়। ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা বেতন সমস্যার কারণে অনুশীলন করতে চাননি। কোচ হাবাসের সেই মুহূর্তে কিছু করার ছিল না। অনুশীলন স্থগিত রেখে তাঁকেও চলে যেতে হয়েছিল।

শেষপর্যন্ত অবশ্য ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের হস্তক্ষেপে সমস্যা মিটেছে। ফুটবলাররা অনুশীলনে ফিরেছেন। কোচ হাবাস চার্চিল ম্যাচের প্রস্তুতি মন দিতে পেরেছেন। দুর্গা পুজোর মাঝেই রাজারহাট সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের মাঠে অনুশীলন সেরেছেন ফুটবলাররা। শনিবার দল গোয়া যাবে। রবিবার গোয়ার ফতোরদা স্টেডিয়ামে চার্চিলের মুখোমুখি হতে তৈরি দল। এমনই জানিয়েছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস শুক্রবার।

চার্চিলের বিরুদ্ধে আইএসএলের প্রথম ম্যাচ খেলবে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল। গোয়ার মাঠে গোয়ার দলকে হারানো সবসময় কঠিন। তারওপর চার্চিল প্রথম ম্যাচ জিতেছে মুম্বই সিটির বিপক্ষে। জেতার ব্যাপারে কতটা আত্মবিশ্বাসী, এই প্রশ্নে কোচ হাবাসের প্রতিক্রিয়া, ‘‌ চার্চিল কঠিন প্রতিপক্ষ। গতবছর ইন্টার কাশীর কোচ থাকাকালীন আইলিগের ম্যাচে চার্চিলের মোকাবিলা করেছিলাম। তাই ওদের স্ট্রেংথ আমার জানা। ওরা বেগ দেবে। আমরা তৈরি আছি তার জন্য। মরশুমে অনেকগুলো ম্যাচ খেলেছে দল। সর্বশেষ শিল্ড ও এসিএল টু-‌র ম্যাচ। নিজের দলের ফুটবলারদের ক্ষমতা বোঝা হয়ে গেছে। তবে পরপর ম্যাচ খেলার একটা ধকল থাকেই। তারওপর চার্চিল ম্যাচটা আবার অ্যাওয়ে। নতুন করে যাতায়াতের ক্লান্তির সঙ্গে নতুন মাঠ ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ভাল খেলতে হবে। তবে লক্ষ্য সেই একটাই। আক্রমণ ও রক্ষণের ভারসাম্য বজায় রেখে ম্যাচে জিতে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ঘরে ফেরা।’‌

আল শোরতা ম্যাচে দু’‌বার এগিয়ে গিয়েও গোল হজম করতে হয়েছে। ম্যাচ হাতছাড়া হয়। তার জন্য রক্ষণ সংগঠন কি আরও জমাট করা জরুরি?‌ আনোয়ারের পাশে স্টপারে জিবুলিচকে কি এখনও নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেনি?‌ কোচ হাবাসের সাফ উত্তর, ‘‌ কোনও একজন দু’‌জন ফুটবলারের পারফরমেন্স নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করি না। জিবুলিচ ভাল ফুটবলার। ও সেরাটাই দিচ্ছে। আল শোরতা ম্যাচে হারের জন্য ডিফেন্সকে দায়ি করলে শুধু হবে না। কত গোল মিস হয়েছে সেটাও মাথায় রাখতে হবে। আল শোরতা ছোট টিম নয়। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ইরাক কত নম্বরে আছে , আর ভারত কোথায় আছে দেখলেই, পার্থক্যটা বোঝা যায়। ওরা ৫ মিনিটের ব্যবধানে দু’‌টো সুযোগ তৈরি করে দু’‌টো গোল করে ম্যাচ বের করে নিয়ে যায়। আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচটা ৫-‌৩ গোলে জিততে পারতাম। তবে যেটা হয়ে গেছে, সেটা নিয়ে ভেবে লাভ নেই। চার্চিল ম্যাচ জিততে এখন ফোকাস করতে হবে।’‌

ইস্টবেঙ্গলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার আনোয়ার আলিও জানান, জিবুলিচের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া ক্রমশ জমাট বাঁধছে। যত দিন যাবে, তত ভাল হবে। আল শোরতা ম্যাচে কিছু ভুল হয়েছে, সামনের চার্চিল ম্যাচে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সেব্যাপারে খেয়াল রাখবেন। সংঘবদ্ধ হয়ে লড়বেন চার্চিলের বিরুদ্ধে আইএসএলের প্রথম ম্যাচ জিতে শুরু করতে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...