মোহনবাগান ২( এরউইন, মিগুয়েল) স্পোর্টিং দিল্লি ১(নামতে)
মুনাল চট্টোপাধ্যায়: জয়ে ফিরল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। আইএসএলের প্রথম ম্যাচে গুয়াহাটির মাঠে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের কাছে হেরেছিল সবুজ মেরুন জিতিন এম এসের করা গোলে। শুক্রবার দুর্গা ষষ্ঠীর দিন দিল্লির মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচে বিশ্রি খেলার সুবাদে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির বিরুদ্ধে যেভাবে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল, তাতে আশঙ্কা ছিল বাগান ব্রিগেড আবার না পয়েন্ট খোয়ায়। আর তা যদি হত, তাহলে দশমীর পর দেবী দুর্গার বিসর্জনের সঙ্গে সঙ্গে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কোচ পানোসের বিদায় ঘন্টা বেজে যেত। শেষপর্যন্ত অবশ্য মোহনবাগান ২-১ গোলে জিতে ৩ পয়েন্ট পাওয়ায় পানোসের আপাতত চাকরি থাকছে। তবে খেলায় উন্নতি না হলে, আর ঘরের মাঠে পরের ম্যাচে ২৬ অক্টোবর চেন্নাইন এফসির বিরুদ্ধে সবুজ মেরুনের খেলায় ছন্নছাড়া ভাব না কাটলে, মোহনবাগান টিম ম্যানেজমেন্টকে ভাবতে বাধ্য করবে, পানোসকে দিয়ে বাকি মরশুমটা চালানো সম্ভব হবে কিনা।
স্পোর্টি দিল্লির বিরুদ্ধে ৪-২-৩-১ ছকে শুক্রবার বাগানের হেড স্যার পানোস প্রথম একাদশে জেলকোভিচের জায়গায় মাঝমাঠে নামান মিগুয়েলকে। ডাবল ডিফেন্সিভ স্ক্রীণে রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণ শানানোর দায়িত্বে ছিলেন অনিরুদ্ধ থাপা ও আপুইয়া। সামনে একমাত্র স্ট্রাইকার লি এরউইন। তবে শুরুতে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে তুলে আক্রমণ শানাতে না পারার কারণে একা এরউইনের পক্ষে দিল্লি রক্ষণ টপকে কিছু করা সম্ভব হচ্ছিল না। বরং স্পোর্টিং দিল্লি গোল করার জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল বেশ কয়েকবার। তবে মোহনবাগান গোলকিপার বিশাল কাইথ সতর্ক থাকায় কোনও বিপদ ঘটেনি। উল্টোদিকে, গোলের নীচে তৎপরতা দেখিয়ে বাগানের গোল পাওয়া আটকে রাখেন দিল্লির নোরা ফার্নান্ডেজ।
২৩ মিনিটে আচমকাই গোল পেয়ে যায় দিল্লি। মোহনবাগান রক্ষণভাগের অসতর্কতায়। বাঁপ্রান্ত থেকে আসা লম্বা বল পেয়ে নামতে তা নিয়ন্ত্রণে এনে গোলকিপার বিশালের নাগাল এড়িয়ে গোলে ঠেলে দিল্লিকে এগিয়ে দেন। গোল খেয়ে মোহনবাগানকে সেসময় দিশেহারা লাগছিল। হতাশা থেকে নামতেকে বল ছাড়া আঘাত করে হলুদ কার্ড দেখেন বাগানের ডিফেন্ডার আলবার্তো। বাগানের অগোছালো ফুটবলের কারণে দিল্লির আইমেন দ্বিতীয় গোল আর একটু হলে পেয়ে যেতেন, সময়মতো মেহতাব ব্লক না করলে। নামতেও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে রাহুল বেকে ক্লিয়ার করে দলকে আরও পিছিয়ে পড়ার হাত থেকে বাঁচান। প্রথমার্ধের শেষদিকে গোল শোধে মরিয়া ভাব দেখিয়েছিল বাগান। কিন্তু এরউইনের প্রচেষ্টা রুখে দেন গোলকিপার নোরা। প্রথমার্ধের শেষমুহূর্তে আইমেন, পেনার পা ঘুরে আসা বলে রড্রিগনহোর শট ব্লক করে বাগানের গোল খাওয়া রোখেন বেকে।
দ্বিতীয়ার্ধে ছবিটা আমূল বদলে যায়। বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে এগিয়ে থেকেও পরে ২-৩ গোলে হেরেছিল দিল্লি রক্ষণ সংগঠনের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ায়। বাগানের বিরুদ্ধেও ঠিক সেটাই ঘটল। অবশ্য বাগান ফুটবলারদের কৃতিত্ব দিতে হবে, নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে দিল্লির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে রক্ষণকে অস্বস্তিতে ফেলায়। ৫০ মিনিটে ছাংতের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। খেলার গতির বিরুদ্ধে দিল্লির আইমেনের শট রোখেন গোলকিপার বিশাল। অবশেষে ৫৬ মিনিটে সমতা ফেরানোর গোলটা পায় মোহনবাগান। রাহুল বেকের পাস বক্সের মাঝে থাপা, ছাংতের পা ঘুরে লি এরউইনের কাছে গেলে, তিনি তা গোলে ঠেলতে কোনও ভুল করেননি।
সমতা ফেরানোর পর সবুজ মেরুন বাহিনীকে চেনা ছন্দে ফিরতে দেখা যায়। আর সেকারণে ৬০ মিনিটের মাথায় জয়সূচক গোলটা পায় তারা। মাঝমাঠে আপুইয়া বল ধরে বিপক্ষ ডিফেন্ডারদের ভিড় টপকে সামনে মিগুয়েলের জন্য থ্রু পাস বাড়ান। মিগুয়েল সেই বলে বাঁপায়ের কোনাকুনি শটে জালের ভেতর জড়িয়ে দিয়ে স্বস্তি এনে দেন সবুজ মেরুন সদস্য-সমর্থকদের। একইসঙ্গে কোচ পানোসকেও। আইএসএলে সবুজ মেরুন জার্সিতে মিগুয়েলের প্রথম গোল।
এরপর খেলাটা ক্রমশ গাজোয়ারিতে পরিণত হয়েছিল দিল্লির ফুটবলারদের রাফ ট্যাকলের কারণে। মিগুয়েল তার শিকার হন। একটা সময় মাঠে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় দু’দলের ফুটবলারদের মধ্যে মারমুখী মেজাজে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দু’দলের একাধিক ফুটবলারকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। দিল্লির একজন ফুটবলার দু’বার হলুদ কার্ড দেখেছেন কিনা তা নিয়ে বিভ্রান্তি ছিল। যদিও রেফারি কাউকে মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেননি। পরে বোঝা যায়, মিগুয়েলকে ফাউল করার জন্য ক্লারেন্স কার্ড দেখেননি আগে, তিনি কার্ড দেখেন পরে সাহালকে ফাউল করে। আগের কার্ডটা দেখেছিলেন দুভান ভায়াফেরা।
বাগান কোচ পানোস আক্রমণের ধার বাড়াতে ফ্রেশ লেগ হিসেবে থাপার জায়গায় জেলকোভিচ ও এরউইনের বদলে মনবীরকে নামান। আরও একটা পরিবর্তন নিতে বাধ্য হন পানোস, দিল্লির ফুটবলারের ট্যাকলে চোট পাওয়ার কারণে মিগুয়েল আর খেলা চালিয়ে যেতে না পারায়। মিগুয়েলের জায়গায় নামেন সাহাল। তাতে অবশ্য মোহনবাগানের গোল যেমন বাড়েনি, দিল্লিও আর হার বাঁচানোর গোল পায়নি বাগান রক্ষণ সতর্ক থাকায়।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
