Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ প্রত্যাশামতোই ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ফিফা ফ্রেন্ডলি খেলে বৃহস্পতিবার সন্ধেতে কলকাতা বিমানবন্দরে পা রাখলেন ব্রাজিল ফুটবলাররা। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কোচ কার্লেস আনসেলোত্তি, তারকা ফুটবলার ভিনিসিয়াস জুনিয়ার সহ দলের বাকি সদস্যদের ব্রাজিল দলের চিরপরিচিত সবুজ রংয়ের টিম বাসে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বাইপাসের ধারে অভিজাত হোটেলে। ব্রাজিল ফুটবলারদের দেখার জন্য বিমানবন্দর থেকে হোটেল যাওয়ার রাস্তায় বেশ কিছু ভিড় চোখে পড়েছে কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের। কারও কারো মুখে ‘‌ব্রাজিল, ব্রাজিল’‌ চিৎকার শোনা গেছে। হোটেলে ঢোকার মুখে বড়সড় ভিড় সামলাতে নিরাপত্তারক্ষীরা আটোসাঁটো ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। উৎসাহী জনতা কোচ আনসেলোত্তি, ভিনিসিয়াসদর নাম ধরে জয়ধ্বনি দিতে, তাঁদের মুখে খেলে যায় এক চিলতে হাসি। আনসেলোত্তি হাত তুলে শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন কলকাতার জনতার। বৃহস্পতিবার পূর্ণ বিশ্রামের পর শুক্রবার সকালে প্রচারমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন ব্রাজিল কোচ আনসেলোত্তি। বিকেলে সাড়ে ৪টের সময় যুবভারতীর মূল পিচে অনুশীলন করবেন তিনি ভারতের মোকাবিলার প্রস্তুতিতে। সকালেই সেই অনুশীলনটা সেরে ফেলবেন ভারতীয় দলের কোচ খালিদ জামিল।

ব্রাজিল ফুটবল দল কলকাতায় খেলতে আসবে এটা অনেক আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দু’‌টি ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচে অংশ নেওয়ার পর যুবভারতীতে ৩ অক্টোবর ভারতীয় ফুটবল দলের ম্যাচ খেলবেন ভিনিসিয়াস জুনিয়াররা, এটা জানিয়েছিল ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। কিন্তু তবু যেন ভারতীয় বলা ভাল কলকাতা ফুটবলপ্রেমীরা যেন সেভাবে জাগছিলেন না ৫বারের বিশ্বকাপজয়ী ও ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৫ নম্বরে থাকা ব্রাজিলের আসাকে কেন্দ্র করে।

কারণটা একাধিক হতে পারে। বাঙালির সেরা উৎসব দুর্গাপুজোর ঠিক আগে ফুটবল উৎসবে শামিল হওয়ার মতো মন ও রেস্ত না থাকাটা অন্যতম কারণ হতে পারে। টিকিটের দামটা শুরুতে অস্বাভাবিকরকম বেশি রেখেছিল ম্যাচের আয়োজকরা। হয়ত তারা ভেবেছিল ফিফা ২০২৬য়ে সদ্য বিশ্বকাপে খেলা ব্রাজিলকে দেখার জন্য সারা দেশের মানুষ হামলে পড়বে। কিন্তু তেমন কোনও আগ্রহ কলকাতায় বৃহস্পতিবার রাতে কার্লেস আনসেলোত্তি তাঁর ফুটবলারদের নিয়ে পা রাখার আগে পর্যন্ত দেখা যায়নি। টিকিট বিক্রির হাল তো তাই বলছে। মাঠ ভরাতে ফেডারেশনকে স্পনসরের মাধ্যমে একটার সঙ্গে একটা টিকিট বিনামূল্যে দেওয়ার প্রস্তাব রাখতে হয়েছে। তাতেও যে মানুষ টিকিট কিনতে খুব একটা আগ্রহী এমন নয়।

কলকাতার ফুটবলপ্রেমী মানুষ ব্রাজিলভক্ত নন, এমন নয়। কিন্তু একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, বিশ্ব ফুটবলে মারাদোনার আবির্ভাবের আগে পর্যন্ত ভারতের ফুটবলপ্রেমীদের সিংহভাগই ছিলেন শুধু ব্রাজিল ভক্ত। পেলের প্রেমে মজে। মারাদোনা বিশ্বফুটবলে জাদু ছড়িয়ে সেই জনপ্রিয়তায় ভাগ বসান। বলা ভাল, ব্রাজিলের একাধিপত্যকে খর্ব করে আর্জেন্টিনার ভক্ত করে তোলেন। আর মেসি বিশ্ব ফুটবলে পা রাখার পর থেকে সেটা আরও বেড়ে যায়। তার জন্য যেমন মেসির খেলার সৌন্দর্য সকলকে কাছে টেনেছে, তেমন আর্জেন্টিনার সাফল্যও। সেখানে ব্রাজিলের ২০০২য়ের পর বিশ্ব ফুটবলে তেমন কোনও বড় সাফল্য নেই। বিশ্বকাপে পরপর ব্যর্থতা বিশ্বের মানুষকে ব্রাজিলের ফুটবল থেকে ক্রমশ দূরে সরিয়েছে। ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপেও তো তারা বেশিদূর এগোতে পারেনি। দলে ভিনিসিয়াস জুনিয়ার, গুইমারেস, কুনহা, মাকুইনহোর মতো অনেক নামী ফুটবলার থাকলেও, তাঁদের তারকা স্ট্যাটাস নেইমারের মতো নয়। সেই নেইমার ২০২৬ বিশ্বকাপে অল্পসময় খেলে জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়ে ফেলায়, তিনি এখন আর ব্রাজিল দলে নেই। এটা আমার বিশ্বাস, নেইমার এই ব্রাজিল দলে থাকলে, শুধু তাঁকে দেখার জন্য যুবভারতী ভরে যেত।

আরও একটা কারণ হতে পারে আগ্রহ সে পর্যায়ে না পৌঁছানোর, সেটা হল ম্যাচটা ভারতীয় দলের সঙ্গে হওয়ায়। অনেকেরই ধারনা ব্রাজিলের সঙ্গে ভারতীয় দলের ম্যাচটা তেমন জমবে না। একে, ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে অনেক পিছনে থাকা ভারতের সঙ্গে ব্রাজিলের অসম লড়াই। আর, ব্রাজিলের ফুটবলাররাই বা কতটা নিজেদের খরচ করবেন, বলতে গেলে সেরা দেবেন ভারতের ফুটবলারদের মোকাবিলায়। পা বাঁচিয়ে পার্সেন্টেজ ফুটবল খেলবেন এটাই সকলে মনে করছেন। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলায় রাফিনহার চোট লেগে যাওয়ায় বার্সিলোনা যা চটেছে, তাতে ভিনিসিয়াস বা ব্রাজিলের বাকি ফুটবলাররা খুব বেশি গা লাগিয়ে খেলবেন এমন ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। যতই একমাসের ওপর কলকাতায় বসে থেকে যুবভারতীর মাঠের সারফেস মূলত ঘাসকে উন্নত করে থাকুন না কেন ব্রাজিলের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল, ভিনিসিয়াসরা যুবভারতীতে নিজেদের উজাড় করে দেবেন, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিততে , এটা বিশ্বাস হচ্ছে না অনেকেরই।

তবে শহরে ভিনিসিয়াসদের পা রাখার খবরে ব্রাজিলভক্তরা একটু বেশি নড়েচড়ে উঠবেন। ম্যাচের ঠিক আগে তাঁদের মনের উত্তেজনার পরাদটা কিছুটা হলেও উর্ধ্বমুখী। যুবভারতী পুরো ভরবে এমন আশা করা যাচ্ছে না, তবে অনেকটা ভরবে এটা ভাবা ভুল হবে না। এমন আশাই করছেন কলকাতায় ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের অতিথি হিসেবে আসা ২০০৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে খেলা বিকাশ ধারাসুর। ফ্রান্সে জন্ম ও ফরাসি নাগরিক হলেও, বিকাশের ভারতের মাটির সঙ্গে একটা শেকড়ের সম্পর্কে আছে। দীর্ঘসময় আগে ভারতীয় বংশধর থাকার সূত্রে। আর তাই তাঁর সমর্থন থাকবে ভারতের সঙ্গে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচে। মনে করেন, এই ধরনের প্রথম সারির দলের সঙ্গে খেললে ভারতীয় ফুটবলারদের উন্নতি হবে। তার সুফল ভবিষ্যতে মিলবে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...