Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

 

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ ডুরান্ড কাপ ফাইনালের আগে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট কোচ পানাগয়টিস ডিমপেরিসের মুখে যখন নানা সমস্যার কথা, তখন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসকে পাওয়া গেছে সম্পূর্ণ খোশমেজাজে। ডুরান্ড কাপের গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচ ছিল ডার্বি। আর সেই ম্যাচটা মোহনবাগানের কাছে হারের পরেও ফাইনালের আগে লাল হলুদ কোচের বক্তব্যে কোনও বাড়তি চাপ নজরে আসেনি। বরং আর পাঁচটা ম্যাচের মতোই তিনি ফাইনালের ডার্বি মোকাবিলায় নিজে যেমন তৈরি, তেমন ফুটলারদেরও সেভাবে তৈরি থাকতে বলেছেন। চোটের জন্য ফাইনালে বিষ্ণু থাকছেন না। নাইজেরিয় স্ট্রাইকার ইফিয়ং কবে আসবে, তা জানা নেই। তবু বাড়তি উদ্বিগ্ন নন হাবাস যাঁরা নেই তাঁদের নিয়ে। বরং তিনি ছক কষছেন মোহনবাগান বধের যাঁরা আছেন তাঁদের নিয়ে।

মোহনবাগান যেখানে একদিন অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছে ডুরান্ড ফাইনালের আগে, সেখানে সেমিফাইনাল ম্যাচ খেলার পর তিনদিন প্রস্তুতির সুযোগ ছিল কোচ হাবাসের কাছে। আগে ঠিক ছিল ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা রাজারহাটের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের মাঠে অনুশীলন করবেন ফাইনালের আগেরদিন। কিন্তু পরে জানা যায়, ইস্টবেঙ্গল প্রস্তুতি সারবে নিজেদের মাঠে। শেষমুহূর্তে কোনও এক অজ্ঞাত কারণে ইস্টবেঙ্গল মাঠে অনুশীলনের ভাবনাও বাতিল করে দেন কোচ হাবাস। এটা ডুরান্ড ফাইনালের আগে ফুটবলারদের সমর্থকদের ডার্বি জেতানোর আবদারের চাপ থেকে বাঁচানোর কৌশল হতেই পারে। তবে কোচ হাবাস জানালেন, ‘‌এটা একটা ট্যাক্টিকাল মুভ বলতেই পারেন। ফুটবলাররা গত দু’‌দিন ফাইনালের প্রস্তুতি সেরেছে। তাই তিনি মনে করেছেন ডার্বির আগেরদিন মাঠে অনুশীলন বিশেষ জরুরি নয়। বরং হোটেলেই হাল্কা গা ঘামাবে। আর এইধরনের ম্যাচে কৌশলের থেকে বেশি দরকার ফুটবলারদের মানসিকভাবে শক্তিশালী রাখা। সেটাই করছি ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বলে।’‌

ডুরান্ড কাপের প্রথম ডার্বিতে হারের প্রভাব ফাইনালে পড়বে বলে মনে করেন না হাবাস। ইস্টবেঙ্গল কোচের মতে, ‘‌ এটা ভিন্ন ম্যাচে। ফুটবলাররা এই ম্যাচের গুরুত্ব জানে। তাদের নতুন করে এই ম্যাচের জন্য মোটিভেঠ করার কোনও প্রয়োজন নেই। মোহনবাগান শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। ওরাও জেতার জন্য ঝাঁপাবে। সেটা মাথায় রেখেই মাঠে মোকাবিলা করবে আমার ফুটবলাররা। এই ধরনের ম্যাচ বুদ্ধি করে যেমন খেলতে হয়, তেমন ম্যাচের দখল নিজের হাতে রাখতে আবেগ নিয়ন্ত্রণ রাখাও জরুরি। হাতে কতজন বিদেশি আছে বড় কথা নয়। যারা আছে সেই রশিদ, রামিরেজ ও ইকোনোমিডিসের সঙ্গে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে লড়ছে দলের বাকি ফুটবলাররা প্রতি ম্যাচে। ফাইনালেও তার ব্যতিক্রম হবে না। দলে এক পজিশনে একাধিক ভাল মানের ভারতীয় ফুটবলার আছে। তাদের ওপর ভরসা করে ম্যাচ জেতা যায়।’‌

মোহনবাগান কোচ পানোসের মতো হাবাসও চান ৯০ মিনিটে ম্যাচ জিততে। তবে টাইব্রেকারে ম্যাচ গড়ালে তার জন্যও তৈরি রাখছেন নিজের দলের ফুটবলারদের। ম্যাচটা দুই গোলকিপার মোহনবাগানের বিশাল কাইথ ও ইস্টবেঙ্গলের প্রভুসুখন গিলের মধ্যে দাঁড়িয়ে যাবে কিনা এই প্রশ্নে হাবাসের উত্তর, ‘‌ বিশাল খুব ভাল গোলকিপার। মোহনবাগান কোচ থাকার সময় থেকেই ওর দক্ষতা সম্পর্কে জানা। ইস্টবেঙ্গলে এসে গিলের মতো দারুন গোলকিপারের সাহায্য পাচ্ছি। তবে আশা করব ম্যাচটা যেন দুই গোলকিপারের লড়াইয়ে দাঁড়িয়ে না যায়। ম্যাচে বেশি বল যেন আমার গোলকিপারের কাছে না যায়। ম্যাচে গোলের সুযোগ আসবে, সেটা কাজে লাগাতে হবে আমার ফুটবলারদের।’‌

মোহনবাগান কোচ পানোসের রেফারিং নিয়ে অভিযোগের কোনও গুরুত্ব দেননি হাবাস। বরং বলেন, রেফারিং নিয়ে তাঁর বলার কিছু নেই। তাঁর কোনও অভিযোগ বা অজুহাত নেই। ফাইনাল জিতে চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে মাঠে নেমে সেরা দিতে হবে। এটাই আসল কথা।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...