Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ রবিবার যুবভারতীতে ২০২৬ ডুরান্ড কাপ ফাইনালে মুখোমুখি মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও ইস্টবেঙ্গল। ২০২৩ ডুরান্ড কাপ ফাইনালের পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে যুবভারতীতে। ২০২৩য়ের ফাইনালের সঙ্গে বর্তমানের ছবিটা অনেকটাই ভিন্ন। কারণ দু’‌দলে কোচ ও ফুটবলার যেমন বদল হয়েছে, তেমন দু’‌দলের কাছেই সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ফুটবলারদের ক্লান্তি ও চোট আঘাত কাটানোর যথেষ্ট সময় না পাওয়া। বিশেষ করে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের ফুটবলারদের ফুটবলারদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটা আরও বেশি। কারণ তাদের মাত্র একদিনের অনুশীলনে ডুরান্ড ফাইনাল খেলতে হবে। ইস্টবেঙ্গল সেখানে ফাইনালের আগে তিনদিন সময় পাচ্ছে তৈরি হওয়ার। এনিয়ে ডুরান্ড কাপের সংগঠক কমিটির ওপর মোহনবাগান শিবিরের ক্ষোভ যুক্তিসঙ্গত।

ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস সেমিফাইনালে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে জয় পাওয়ার পর কলকাতা শহরে থেকেই অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছেন রবিবারের ফাইনালের জন্য। মোহনবাগানকে সেখানে সেমিফাইনাল খেলতে যেতে হয়েছিল শিলংয়ে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের মাঠে। বুধবার শিলং পৌঁছে বৃহস্পতিবার শিলংয়ের উচ্চতার প্রতিবন্ধকতা, বৃষ্টি ভেজা জলে ভরা মাঠ ও প্রতিকূল পরিস্থিতি, দর্শক সমর্থন সামলে সবুজ মেরুন ফুটবলারদের ঘাম ঝরাতে হয়েছে টাইব্রেকারে নর্থ ইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছতে। এতে এমনিতেই মোহনবাগান এসজি কোচ পানাগয়টিস ডিমপেরিসের(‌পানোস)‌ দলের ফুটবলারদের শরীরের শক্তি অনেকটাই শুষে নিয়েছে। তারওপর ক্লান্তি বাড়িয়েছে শিলং থেকে কলকাতা ফেরার ধকল। শিলং থেকে সরাসরি কলকাতা ফেরার বিমানে সব ফুটবলারদের টিকিট মেলেনি। ফলে তিন থেকে চারটি দলে ভাগ হয়ে মোহনবাগান ফুটবরাদের ফিরতে হচ্ছে কলকাতায়, প্রথমে তিন ঘন্টা বাসে চেপে গুয়াহাটি, তারপর সেখান থেকে বিমানে কলকাতায়। সব ফুটবলারদের কলকাতা ফিরতে রাত হয়ে যাবে। স্বাভাবিকভাবেই শুক্রবার আর অনুশীলনের কোনও সুযোগ নেই বাগান ব্রিগেডের সামনে। শনিবার হাল্কা প্রস্তুতি সেরেই রবিবার ফাইনাল খেলতে হবে পানোসের ফুটবলারদের।

এ নিয়ে শিলংয়ে সেমিফাইনাল খেলতে যাওয়ার আগেই বাগান কোচ পানোসোর মুখে ক্ষোভ ঝরে পড়েছিল। তিনি ডুরান্ড কাপের সংগঠকদের একহাত নিয়েছিলেন এই ধরনের ফুটবলারদের স্বার্থবিরোধী সূচীর জন্য। পরপর ম্যাচ খেলার পাশাপাশি শিলংয়ে সেমিফাইনাল খেলতে যেতে হওয়ার কারণে ফাইনালের আগে ফুটবলাররা কলকাতার মর্যাদার ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে নিজেদের কতটা উজাড় করে দিতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় আছে। তারওপর এত অল্প সময়ে ঘন ঘন ম্যাচ খেলার কারণে ফুটবলারদের ক্লান্তির পাশাপাশি চোট সমস্যাও তৈরি হয়েছে। চোটের কারণে ডেজান ড্রাজিচ শিলং যেতে পারেননি দলের সঙ্গে। তিনি ফাইনালে খেলতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নন কোচ পানোস। শনিবার অনুশীলনে ড্রাজিচের ফিটনেস পরীক্ষার পরই বুঝতে পারবেন, তাঁকে ফাইনালের স্কোয়াডে রাখবেন কিনা। কোয়ার্টারফাইনাল ম্যাচে বিদেশি মিগুয়েল ফেরেরা ও ছাংতে ছিলেন না। কিন্তু শিলংয়ের মাঠে একেবারে শেষদিকে দু’‌জনকেই মাঠে নামিয়েছিলেন ম্যাচ প্র‌্যাকটিস দিতে। ডুরান্ড ফাইনালে শুরুতে এই দুই ফুটবলার প্রথম একাদশে না থাকলেও, পরে পরিবর্ত হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন তাঁরা ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে।

ক্ষুব্ধ ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসও। তিনিও একহাত নিয়েছেন ডুরান্ড কাপ সংগঠক কমিটিকে অবৈজ্ঞানিক সূচী তৈরি করে খেলানোর জন্য। সেমিফাইনাল ম্যাচের পর তাদের ‘‌স্টুপিড’‌ বলতেও ছাড়েননি হাবাস। একে বিনা প্রস্তুতিতে শুরুতেই গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ ডার্বি রাখার পিছনে তিনি কোনও যৌক্তিকতা খুঁজে পাননি। তারওপর নকআউটে পরপর ম্যাচ দিয়ে ফুটবলারদের ক্লান্তি ও চোট বাড়ানোর জন্য তীব্র সমালোচনা করেন হাবাস সংগঠকদের। তাঁর সাফ কথা, এতে ভাল ফুটবল খেলা সম্ভব নয়। ফুটবলাররা কেউ যন্ত্র নন। তারপরও যে ফুটবলাররা মাঠে শেষপর্যন্ত নিজেদের উজাড় করে দিয়ে দলকে ফাইনালে তুলেছেন, তার জন্য তিনি গর্বিত। ফাইনালে সামনে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। তাদের বিরুদ্ধে ফুটবলাররা নিজেদের সেরা দিতেই মাঠে নামবে ম্যাচ জিতে সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে।

তবে মোহনবাগানে ফাইনালে ডেজান ড্রাজিচের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা থাকলেও, ইস্টবেঙ্গল জার্সিতে পিভি বিষ্ণুর মাঠে নামা হচ্ছে না চোটের কারণে। ইস্টবেঙ্গল শিবিরের যেখানে খবর বিষ্ণু আগামী দু’‌সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে, তখন ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস মনে করেন বিষ্ণুর মাঠে ফিরতে তিন সপ্তাহ লেগে যাবে। হাল্কা চোট রয়েছে জেসিন টিকের। তবে তিনি ফাইনালের আগে ফিট হয়ে যাবেন এটা আশা করা হচ্ছে। সমস্যা অন্য জায়গায়। মোহনবাগান কোচ পানোসের হাতে যেখানে ম্যাকলারেন, জেলকোভিচ, মিগুয়েল, রবসন, আলবার্তোর মতো বিদেশিরা রয়েছেন, সেখানে ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাসকে মূলত নির্ভর করতে হচ্ছে তিন বিদেশি রশিদ, রামিরেজ , ইকোনোমিডিসের ওপর। তাই ইস্টবেঙ্গল শিবির আপ্রাণ চেষ্টা করছে নাইজেরিয় স্ট্রাইকার ইফিয়ংকে ফাইনালের আগে কলকাতায় আনতে ভিসা সমস্যা মিটিয়ে। তবে তিনি এলেও কতটা খেলার মতো জায়গায় কতটা থাকবেন, সেটা যেমন বলা মুশকিল, তেমন নতুন দলে এসে অচেনা ফুটবলারদের সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবেন কিনা, সেটা সময়ই বলবে। তাই হাবাসকে তাঁর ভারতীয় ব্রিগেডের ওপরই বেশি ভরসা রাখতে হবে।

২০২৩ ডুরান্ড কাপের গ্রুপ লিগের ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের কাছে হেরেছিল মোহনবাগান। ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সবুজ মেরুন। এবার ইস্টবেঙ্গল গ্রুপের প্রথম ম্যাচ অর্থাৎ ডার্বিতে হেরেছে মোহনবাগানের কাছে। এখন দেখার সেই হারের মধুর প্রতিশোধ নিয়ে ডুরান্ড কাপ ট্রফি ঘরে তুলতে পারে কিনা হাবাসের লাল হলুদ ব্রিগেড।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...