মুনাল চট্টোপাধ্যায়: ডুরান্ড কাপের গ্রুপ লিগের প্রথম ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের মুখোমুখি হয়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। সাহালের গোলে ডার্বিতে জয় এসেছিল। আর তাই নানা সমস্যা সত্ত্বেও মরশুমের সেই প্রথম ডার্বি জয় রবিবার ডুরান্ড কাপ ফাইনালে তাঁর দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে লাল হলুদের মোকাবিলায়। সবুজ মেরুন কোচ পানাগয়টিস ডিমপেরিসের(পানোস) গলায় একইসঙ্গে একরাশ ক্ষোভ ডুরান্ড কাপের সংগঠক কমিটির ভুমিকায় ও রেফারিং নিয়ে।
পানোসের এই ক্ষোভ যুক্তিসঙ্গত। কারণ ইস্টবেঙ্গল যখন কলকাতায় থেকে সব ম্যাচ খেলেছে সেমিফাইনাল সহ, সেখানে বাগান ব্রিগেডকে সেমিফাইনাল ম্যাচ খেলতে যেতে হয়েছিল শিলংয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ নর্থ ইস্টের বিপক্ষে। একদিকে ঘন ঘন ম্যাচ খেলা, তারওপর শিলং যাতায়াতের ধকল বাগান কোচ পানোসকে ফাইনাল ম্যাচের আগে চিন্তায় রেখেছে। বৃহস্পতিবার শিলংয়ের মাঠে খেলার পর শুক্রবার কয়েকভাগে ফিরতে হয়েছে বাগানের ফুটবলারদের। ফলে অনুশীলন করা দূরে থাক, পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ মেলেনি তাঁদের। রবিবার ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের মুখোমুখি হওয়ার আগে শনিবার বিকেলে মোহনবাগান মাঠে প্রস্তুতি সারার সুযোগ পেয়েছেন কোচ পানোস।
তা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে কোচ পানোস বলেন, ‘ ডুরান্ডের সংগঠকরা এমন একটা সূচী তৈরি করেছেন, যা ফুটবলারদের স্বার্থ বিরোধী ও ভাল খেলার অনুপযুক্ত। ডার্বি সবসময় স্পেশাল। তার জন্য একটা বিশেষ প্রস্তুতি জরুরি। কিন্তু সেই সুযোগটাই নেই। গ্রুপ পর্যায়ে প্রথম ডার্বি খেলাতে হয়েছে একপ্রকার বিনা প্রস্তুতিতে। আর এবার ফাইনালে ডার্বির আগে মাথায় রাখতে হচ্ছে ফুটবলারদের ক্লান্তি ও ছোট বড় চোটগুলো। একটাই স্বস্তির ব্যাপার, ডুরান্ডের প্রথম ডার্বি জেতায় ফুটবলারদের মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস রয়েছে ফাইনালের আগে একই প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার আগে। মাঝে ম্যাচ খেলার কারণে দল অনেকটা গুছিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে, যেটা প্রথম ম্যাচের সময় সম্ভব ছিল না। প্রথম ম্যাচ থেকে ফাইনাল পর্যন্ত দলের ফিটনেস, টেকনিকাল, ট্যাক্টিকাল দিকগুলো নিয়ে কাজ করার সুযোগ বেশি পাইনি। তবু যতটা পেয়েছি, তা নিয়ে কাজ করেছি। এর বাইরে ডার্বি ম্যাচে যেটা বেশি কার্যকরী ভূমিকা নেয়, সেটা হল ফুটবলারদের মানসিক অবস্থান ম্যাচ ঘিরে। ডার্বি জিততে যেটা সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে। আশা করি, আমার ফুটবলারদের সেই মেন্টাল স্ট্রেংথ আছে ফাইনাল ডার্বি জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার।’ কোচ পানোসের একটা বাড়তি সুবিধা থাকছে ফাইনালে। কারণ তাঁর হাতে থাকছে ৫ বিদেশি জেলকোভিচ, ড্রাজিচ, মিগুয়েল, আলবার্তো, ম্যাকলারেন। সঙ্গে লিস্টন, মনবীর, সাহাল, আপুইয়া, থাপার মতো ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো ভারতীয় ফুটবলার।
২০২৩য়ের পর আবার মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল মুখোমুখি হচ্ছে ডুরান্ড কাপে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ও ফাইনালে। সেবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। ফাইনালে তাদের হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল মোহনবাগান। সে ইতিহাস জানেন বাগান কোচ পানোস। তবে তিনি অতীতের থেকেও বর্তমান নিয়ে ভাবতে বেশি পছন্দ করেন। তাই বলেই দিলেন, এটা ভিন্ন ম্যাচ। এমনকি এবারের প্রথম ডার্বির তুলনায় ফাইনাল অন্যরকম হবে। ইস্টবেঙ্গলও প্রথম ম্যাচের তুলনায় অনেক বেশি তৈরি হয়েই মাঠে নামবে।
মোহনবাগান কোয়ার্টারফাইনাল ও সেমিফাইনাল দুটো ম্যাচেই গোল করতে পারেনি নির্ধারিত সময়ে। দুটো ম্যাচেই জয় পায় টাইব্রেকার গোলকিপার বিশাল কাইথের হাতে ভর করে। ফাইনালটা অবশ্য বাগান কোচ পানোস নির্ধারিত ৯০ মিনিটে জিততে চান। তবে টাইব্রেকারের জন্য তৈরি থাকছেন। গোলকিপার বিশাল কাইথের ভূমিকার প্রশংসা করেও পানোসের বক্তব্য, ম্যাচ জেতানোয় বিশালের অবদান অবশ্যই থাকছে, তবে মনে রাখতে হবে টাইব্রেকারে শুটাররা একটাও পেনাল্টি নষ্ট করেননি। তাছাড়া ম্যাচে ফুটবলাররা প্রতি ম্যাচে প্রচুর গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন। গোল না পাওয়টা দুর্ভাগ্যের। একইসঙ্গে গোল না পাওয়াকর জন্য রেফারির ভূমিকার সমালোচনা করেন পানোস। বলেন, কেন রেফারি তাঁদের ন্যায্য পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত করছেন প্রতি ম্যাচে, সেটা তাঁর কাছে দুর্বোধ্য। তিনি চান, ফাইনালে যেন রেফারি তাঁর নিরপেক্ষা ও সঠিক মান বজায় রেখে ম্যাচটা পরিচালনা করেন।
দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার সমীর জেলকোভিচ উত্তেজিত প্রথম ডার্বি খেলার জন্য। আসলে ডুরান্ডের গ্রুপ পর্বে ডার্বির সময় তিনি দলে ছিলেন না। এবার ফাইনালে তিনি থাকছেন। বলেই দিলেন, ফাইনাল জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন। এর আগে দানি রামিরেজের পাশে খেললেও ডুরান্ড ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে মোকাবিলা করবেন জেলকোভিচ। তার জন্য মানসিকভাবে তৈরি তিনি।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
