Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ কথায় বলে ইচ্ছাশক্তির জোরে অসাধ্যসাধন করা যায়। তার জলন্ত উদাহরণ হলেন আফগানিস্তানের মহিলা সাইক্লিস্ট ফারিবা হাসিমি। এসকেপ টু ভিকট্রি বললেও বেশি বলা হবে না, সবধরনের বাধা দূর করে তালিবানি শাসনের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে ফারিবা স্রেফ মনের জোর ও অধ্যাবসায়কে কাজে লাগিয়ে ২০২৬ আইচি নাগোয়া এশিয়ান গেমসে মহিলাদের সাইক্লিং রোড রেসে রুপো জিতেছেন। যা কোনওঅংশে সোনা জয়ের থেকে কম কৃতিত্বের নয়। তার কারণ তালিবানি শাসনের শাসানিতে খেলাধুলো করা দূরে থাক, বেঁচে থাকাই দুরুহ হয়ে যেত ফারিবি হাসিমির ২০২১ সালে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারলে।

২৩ বছরের ফারিবা এখন থাকেন ইতালিতে। তিনি ও তাঁর বোন আফগানিস্তান ছেড়ে পালাতে পেরেছিলেন তালিবানিদের নজর এড়িয়ে ১৯৯৭ রোড সাইক্লিংয়ে ইতালির প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আলেসান্দ্রা কাপেলোত্তোর সাহায্যে। তাঁর জন্যই ইতালির সরকারের পাঠানো বিশেষ বিমানে তিনি ও তাঁর বোন ইয়ালদুজ ভেনেতো অঞ্চলে এসে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ পান। পরে ফারিবা ইতালিতে থেকে ট্রেণিং শুরু করেন আলেসান্দ্রার কাছে। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আইচি প্রিফেকচারের সিনশিরোয় এশিয়ান গেমসে রুপো জিতে নিজের স্বপ্নপূরণ করেছেন। ফারিবির অল্পের জন্য সোনা হাতছাড়া হয় চীনের লি গুয়াওয়ের কাছে হারায়। যদিও দু’‌জনেই ২ ঘন্টা ৫০ মিনিট ৫ সেকেন্ড নেন রেস শেষ করতে। হংকংয়ের লিউং উইং ই ব্রোঞ্জ পদক পান ৪১ সেকেন্ড পরে রেস শেষ করায়। সাইক্লিং রেসে ফারিবা প্রথম সাফল্য পেয়েছিলেন ২০১৭ সালে। সেই পথ চলা, বলা ভাল দৌড় আজ পূর্ণতা প্রাপ্তি পেয়েছে এশিয়ান গেমসে পদক জয়ের মধ্যে দিয়ে।

অথচ এই সাফল্য পাওয়ার কাজটা মোটেই সহজ ছিল না। ফারিবার কথায়, ‘‌ বলে বোঝাতে পারব না এই রুপো জয়ের আনন্দ কতটা। সঙ্গে এটার মূল্য কী অপরিসীম। আমি আফগানিস্তানে সাইক্লিং শুরু করেছিলাম ১৫ বছর বয়সে অনেক বাধা ও বিধিনিষেধের মাঝে। নিজেদের সাইকেল ছিল না। অন্যের কাছ থেকে ধার করে ট্রেণিং শুরু করি। বোন ইয়ালদুজের সঙ্গে সাইক্লিং প্র‌্যাকটিস করতে বেরুতাম রাস্তায় মুখ ঢেকে। পুরুষের পোশাকে সেজে। যাতে কেউ চিনতে না পেরে। তাও মাঝেমধ্যে ধরা পড়ে যেতাম। আমাদের দু’‌জনের দিকে পাথর ছুঁড়ত মানুষ, যাতে আমরা সাইক্লিং না করে ঘরে বসে থাকি। একবার আমার বোনের সাইকেলে ধাক্কা মেরেছিল এক রিক্সাওয়ালা। আমার বোনের কব্জি ভেঙে গিয়েছিল। আমাদের বাবা একবার এক সাইক্লিং রেসের আগে ভয় পেয়ে বলেছিলেন, দেখিস, সাবধানে রেস করিস। কেউ যেন তোদের মেরে না ফেলে। হয়ত কেউ মেরেও ফেলতে পারত। আমরা এমন একটা দেশে জন্মেছিলাম, যেখানে মেয়েদের স্বপ্নপূরণ করা দূরে থাক, স্বপ্ন দেখাটাও অপরাধ মনে করা হয়। ২০২১য়ে তালিবান শাসকরা দেশের দখল নেওয়ার পর সাইক্লিং করা দূরে থাক, প্রাণ বাঁচানোটাই কঠিন ছিল। সময়মতো দেশ ছেড়ে চলে যেতে পেরেছিলাম বলেই আজ এশিয়ান গেসমের আসরে রুপো জিততে পেরেছি। এর জন্য অনেক আত্মত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। মার কাছ থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি। মা ছাড়াও নিজেদের ভাই বোনদের খুব মিস করি। তাই এই জয়ের যে কী অনভূতি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। এটা শুধু আফগানিস্তানের মহিলাদের জন্য প্রেরণা মনে করি না, গোটা বিশ্বের মহিলাদের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার লড়াই হিসেবে দেখছি।’‌

ফারিবা ও তাঁর বোন ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিক্সেও অংশ নিয়েছিলেন। এখন তাঁদের নজর ২০২৮ লস এঞ্জেলস অলিম্পিক্স। ফারিবা আশাবাদী, লস এঞ্জেলসে ভাল কিছু অপেক্ষা করে আছে তাঁদের জন্য।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...