মুনাল চট্টোপাধ্যায়: শ্রীনিধি ডেকানকে নিজেদের মাঠে প্রথম ম্যাচে ৬-০ গোলে হারিয়ে আইএফএ শিল্ডের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। এই গ্রুপে শ্রীনিধি ডেকানের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড। মঙ্গলবার মোহনবাগান মাঠে গ্রুপের শেষ ম্যাচে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের মুখোমুখি হবে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। ম্যাচটা নিয়মরক্ষার হলেও ড্রয়ের লক্ষ্যে খেলতে চায় না তারা। ড্র করলেও গ্রুপ শীর্ষে থাকবে বাগান গোল পার্থক্যে এগিয়ে থেকে। বরং জেতার অভ্যাস বজায় রাখতে যখন চায় সবুজ মেরুন ব্রিগেড, গ্রুপ শীর্ষে থাকার লক্ষ্য নিয়ে।
ইস্টবেঙ্গল নিজেদের গ্রুপে প্রথম ম্যাচে কলকাতা কাস্টমসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিল আগেই। গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে পাঞ্জাব এফসি ৭-০ গোলে কাস্টমসকে হারিয়ে গোল পার্থক্যে এগিয়ে রয়েছে লাল হলুদের থেকে। এমন একটা পরিস্থিতিতে গ্রুপ শীর্ষে থাকতে হলে বুধবার ইস্টবেঙ্গল মাঠে পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে জিততেই হবে মশাল বাহিনীকে। ড্র করলেও পাঞ্জাব এফসি গ্রুপ শীর্ষে চলে যাবে।
এখন এটা নিয়ে জোর জল্পনা, মোহনবাগান এসজি গ্রুপ শীর্ষে থাকলে আর ইস্টবেঙ্গল গ্রুপ শীর্ষে না উঠতে না পারলে, গ্রুপে দ্বিতীয় হলে, শিল্ডের সেমিফাইনালে কলকাতা ডার্বি কি হবে? আইএফএ কি আদৌ চাইবে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সেমিফাইনালে মুখোমুখি হোক? সূচীতে কোনও উল্লেখ নেই এব্যাপারে। তাই মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গল নিজেদের গ্রুপে শীর্ষে না থাকলেও, এ-গ্রুপের ১ নম্বর দলের সঙ্গে অন্য গ্রুপের ২ নম্বরের সেমিফাইনাল করার পথে হাঁটতে নাও পারে আইএফএ, সেমিফাইনালে ডার্বি এড়াতে। তেমন পরিস্থিতিতে দুটো গ্রুপের এক নম্বর দলের মধ্যে সেমিফাইনাল করে দিতে পারে বলে সম্ভাবনা। যাতে ফাইনালের আগে কলকাতা ডার্বি না হয়, দু’দল সেমিফাইনালে জিতলে। যতটুকু খবর, দুটি সেমিফাইনালের একটি, অর্থাৎ মোহনবাগান এসজি খেলবে কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গনে, অন্যটি অর্থাৎ ইস্টবেঙ্গল খেলবে বারাসতের মাঠে। সেমিফাইনালের দুটি ম্যাচই ৫ অক্টোবর হওয়ার সম্ভাবনা। যদিও সূচীতে ৪ অক্টোবর উল্লেখ আছে। ভারত-ব্রাজিল ৩ অক্টোবর ও ভারত-উরুগুয়ে ৬ অক্টোবরের ম্যাচ না হওয়ার পর্যন্ত যুবভারতী মিলবে না। তাই শিল্ড ফাইনাল ৮ অক্টোবরের আগে যুবভারতীতে হওয়া সম্ভব নয়, কলকাতা ডার্বি হলে। অন্য মাঠে শিল্ড ফাইনাল হতে পারে ডার্বি না হলে।
মঙ্গলবার নিজেদের মাঠে দর্শক সমর্থন সঙ্গে থাকলেও নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডকে হাল্কাভাবে নিচ্ছেন না মোহনবাগান এসজির কোচ পানাগয়টিস ডিমপেরিস (পানোস)। চলতি মরশুমে ডুরান্ডের সেমিফাইনালে শিলংয়ের মাঠে নর্থ ইস্টের মুখোমুখি হয়েছিল মোহনবাগান। আগের সব ম্যাচ কলকাতায় খেলার পর শিলংয়ের মাঠে খেলতে যেতে হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বাগানের কোচ পানোস। যাতায়াতের ধকল নিয়ে শিলংয়ের মাঠে গিয়ে টাইব্রেকারে ম্যাচ জিতে আসার পরও পানোসের অখুশি ভাব বিন্দুমাত্র কমেনি। সেকথা এখনও পানোসের মুখ থেকে বেরিয়ে আসে। ডুরান্ড ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে হারের পর পানোসের গায়ের জ্বালা আরও বাড়ে। এবার ঘরের মাঠে নির্ধারিত সময়ে নর্থ ইস্টকে হারাতে মরিয়া পানোস ও তাঁর ফুটবলাররা। শ্রীনিধি ডেকানকে দুরমুশ করে হারানোর পর নর্থ ইস্ট ম্যাচে কোনওরকম আত্মতুষ্টি বাগান শিবিরে ঢুকতে দিচ্ছেন না কোচ পানোস। বরং সোমবার বাগানের মাঠে প্রস্তুতি সারার পর নিজের জন্মদিনের কেক কাটার উৎসব পালনে যোগ দিলেও, ফুটবলারদের ফোকাস ঠিক রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন নর্থ ইস্ট ম্যাচের জন্য।
শ্রীনিধি ডেকান ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে নিজের অস্তিত্ব টের পাইয়েছেন ছাংতে। ওই মাচের দলটাকেই মূলত নর্থ ইস্ট ম্যাচে ধরে রাখবেন বলেই মনে হয়েছে। তবে অনুশীলনের ধরন দেখে একটা সম্ভাবনা রয়েছে দলে এক জায়গায় বদলের। সেটা হল শুরুতে ম্যাকলারেনকে দলে না রেখে নর্থ ইস্টের তুরুপের তাস গোলগেটার আলাদিন আজারেকে রুখতে প্রথম একাদশে ফিট হয়ে যাওয়া সমীর জেলকোভিচকে মার্কার হিসেবে রাখতে পারেন বাগান কোচ পানোস। বাগান শিবিরের স্বস্তির জায়গা একটা, শ্রীনিধি ডেকান ম্যাচের দিন প্রবল বর্ষণের কারণে মাঠ খেলার অযোগ্য ছিল। বল কাদায় বারবার আটকে যাওয়ার দুটো পাস সঠিক ভাবে দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। মঙ্গলবার বৃষ্টি হবে এমন কোনও পুর্বাভাস এখনও নেই। তাই মাঠ আগের তুলনায় অনেক ভাল জায়গায়। বাগানের বল প্লেয়াররা জমিতে বল রেখে ভাল ফুটবল খেলার সুযোগ পাবেন।
কলকাতায় এসেছেন পাঞ্জাব এফসির নতুন কোচ পাবলোস, অথচ ইস্টবেঙ্গল , মোহনবাগান ছাড়াও শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান দেখবেন না, তা কী হয়? মোহনবাগান অনুশীলন শেষে পাবলোস হঠাৎ হাজির তিনি বাগানের তাঁবুতে। ঘুরে দেখলেন সবুজ মেরুনের মাঠ। স্বদেশীয় পানোস তখন ক্লাব ছেড়ে চলে গেলেন। থাকলে হয়ত ইস্টবেঙ্গলের মুখোমুখি হওয়ার আগে কিছু টিপস নিতে পারতেন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
