ব্রাজিল ৪(এস্তেভাও, গিলেরমো, লিনো-২) ভারত ০
মুনাল চট্টোপাধ্যায়: বিশ্বকাপে ভারতীয় ফুটবল দল কবে খেলবে জানা নেই। কারণ ভারত এখনও এশিয়া পর্যায়ে প্রথম সেরা ৮দলের মাঝে জায়গা করে নিতে পারেননি। ২০২৭ সৌদি আরবের এএফসি এশিয়ান কাপে যোগ্যতার্জন করতেই পারেনি। স্বাভাবিকভাবে ভারতীয় দলের কাছে ব্রজিলের বিরুদ্ধে খেলাটা ছিল ডেভিড আর গোলিয়াথের লড়াইয়ের মতো। তবে গল্পে ছোট ডেভিড সাহস আর বুদ্ধি দিয়ে হারিয়েছিল দৈত্য গোলিয়াথকে। কিন্তু বাস্তবে যুবভারতীর মাঠে বিশ্ব ফুটবলের দৈত্য ব্রাজিলকে বশ করতে পারেনি ভারতীয় ফুটবল দল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬ নম্বরে থাকা ৫বার বিশ্বকাপ জেতা ব্রাজিলের সঙ্গে ১৩৮ নম্বরে থাকা ভারতীয় দলের বেশিক্ষণ পাল্লা দেওয়া সম্ভব নয়, এটা জানাই ছিল। সেটাই ঘটেছে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৪৪ নম্বরে থাকা দলের সঙ্গে ১-১ ড্র করলেও, ব্রাজিলের কাছে ভারতীয় দল হারল ০-৪ গোলে। ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে যুবভারতীর মাঠে বিশ্বকাপের যোগ্যতার্জন পর্বে ০-৪ গোলের হেরেছিল জিকোর প্রশিক্ষণে থাকা জাপানের কাছে। ভারতের কোচ ছিলেন স্টিফেন কনস্টানটাইন। শনিবার ব্রাজিলের কাছে হারলেও, ভারতীয় দলের লড়াইটা প্রশংসনীয়। প্রস্তুতি ম্যাচে ব্রাজিলকে খুব মনে ধরল না।
আসলে প্রতিপক্ষ ব্রাজিল হলেও হীনমন্যতায় না ভুগে ভারতীয় দলের কোচ খালিদ জামিল আক্রমণ ও রক্ষণে ভারসাম্য রেখে খেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তাঁর ফুটবলারদের। প্রথম একাদশে দুটো পরিবর্তন আনেন। পানামা ম্যাচে খেলা রিকির জায়গায় অনিরুদ্ধ থাপাকে, ও বিক্রমপ্রতাপের জায়গায় খেলান সাহালকে। ব্রাজিল কোচ আনসেলোত্তি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলার দলের ৪ ফুটবলারকে বসিয়ে নামান নতুনদের। তবে তারকা ফুটবলার ভিনিসিয়াসকে প্রথম একাদশেই রেখেছিলেন। ব্রাজিল দলের হয়ে শুরু করেন গোলকিপার পেড্রো লুকাস, আর্থার, মারকুইনহোস, মাথিউজিনহো, ডগলাস, গ্যাব্রিয়েল, আন্দ্রে স্যান্টোস, দানিলো, এস্তেভাও, পেড্রো গিলেরমো, ভিনিসিয়াস।
খালিদ জামিল পছন্দের ৪-২-৩-১ ছকে ভারতীয় দলকে খেলালেও, ব্রাজিল কোচ আনসেলোত্তি ৪-৩-৩ ছকে দলকে খেলিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণ হেনে গোল তুলে চেষ্টা চালিয়েছিলন। প্রথম মিনিটেই ভিনিসিয়াসের ক্রশ বক্সে ক্লিয়ার করে দিয়ে ব্রাজিলের গোলের চেষ্টা রুখে দেন অনিরুদ্ধ থাপা। তবে সেই চাপ সামলে পাল্টা আক্রমণ হেনে ৫ মিনিটর মাথায় পরপর ২ টি কর্নার আদায় করে নিয়েছিল ভারত। তবে অভিজ্ঞতার অভাব ও কর্নারের বৈচিত্র না থাকার কারণে সেই কর্নারের কোনও ফায়দা তুলতে পারেননি ভারতীয় ফুটবলাররা। ভিনিসিয়াস শুরু থেকেই উইংয়ে গতি বাড়িয়ে বক্সে ঢুকে পড়ে ভারতীয় ডিফেন্ডারদের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন। ৯ মিনিটের মাথায় ভিনিসিয়াসের ডানপায়ের শট অনবদ্য ভাবে রুখে দেন ভারতীয় দলের গোলকিপার গুরপ্রীত।
তাতে অবশ্য ঘাবড়ে না গিয়ে প্রতিআক্রমণ তুলে এনে ব্রাজিল রক্ষণকে পরীক্ষায় ফেলেছিলেন ভারতের রায়ান, মনবীর, সাহালরা। কিন্তু ব্রাজিলের রক্ষণ ভেদ করে গোল করতে পারেননি তাঁরা লক্ষ্যহীনতায় ভোগায়। ভারতীয় দলের এই চনমনে ভাবে কিছুটা হলেও চিন্তায় ফেলেছিল ব্রাজিল কোচ আনসেলোত্তিকে। নইলে তাঁর মতো ঠান্ডা ঠান্ডা কুল মেজাজের কোচ কেন রিজার্ভ বেঞ্চ ছেড়ে ২০ মিনিটের মাথায় উঠে পড়ে সাইডলাইনের ধারে দাঁড়িয়ে ফুটবলারদের নির্দেশ দেবেন?
তবে বেশিক্ষণ আনসেলোত্তিকে উদ্বেগে থাকতে হয়নি। কারণ প্রথম গোলটা অবশ্য ২৮ মিনিটেই পেয়ে যায় ব্রাজিল। চেলসির তারকা ফুটবলার এস্তেভাও ভারতের মাঝমাঠে বল পেয়ে আকাশ ও আশিককে পায়ের জাদুতে টলিয়ে দিয়ে বক্সের ঠিক ভেতরে ঢুকে আসেন। ভারতীয় ডিফেন্ডারদের মাঝে সামান্য ফাঁক খুঁজে নিয়ে এস্তেভাও বাঁপায়ে জোরালো নীচু শট নিলে, তা প্রথম পোস্টে দাঁড়ানো গোলকিপার গুরপ্রীতের হাত ছুঁয়ে জালের ভেতর জড়িয়ে যায়। এস্তেভাওয়ের শটে এতটাই স্টিং ছিল, গুরপ্রীত তা রুখতে পারেননি।
৩৬ মিনিটে মাথিউজিনহোর ক্রশে পেড্রো গিলেরমোর হেড পোস্টে লাগলে দ্বিতীয় গোল হজমের থেকে বাঁচে ভারত। তবে রক্ষা হল না ৪২ মিনিটে। এস্তেভাওয়ের বাড়ানো পাস বক্সের মাঝে পেয়ে আনোয়ারকে টপকে গিলেরমো বল ধরে গড়ানো শট নিলে, তা গোলকিপার গুরপ্রীতের হাতে লেগে গড়িয়ে গোলে ঢোকে। ৪৪ মিনিটে ভিনিসিয়াসের শট গোলকিপারের হাত থেকে বেরিয়ে এলে, তা আবার গোলে পাঠানোর আগে আপুইয়া বের করে প্রথমার্ধে ০-৩ গোলে ভারতের পিছিয়ে পড়ার থেকে বাঁচান।
দ্বিতীয়ার্ধে দলে একাধিক বদল করেন ভারতীয় দলের কোচ খালিদ জামিল ও ব্রজিলের কোচ কার্লেস আনসেলোত্তি। ব্রাজিল দলের তারকা ভিনিসিয়াস উঠে যাওয়ায় বিরতির পর শুরুর ১০ মিনিট বেশ তেড়েফুঁড়ে খেলেছিল ভারত। ভিনিসিয়াসের জায়গায় নামেন স্যামুয়েল লিনো। মনবীরের একটি প্রচেষ্টা ব্রাজিল গোলকিপার পেড্রো লুকাসকে চাপেও ফেলে। তবে ভারত গোল পায়নি। ব্রাজিল ফুটবলাররা অবশ্য ভারতীয় দলকে দ্রুত কাবু করে ফেলতে দেরি করেননি। ৫৮ মিনিটে বিজয় ভার্গিসের ভুলে ভিনিসিয়াসের বদলে স্যামুয়েল লিনো বল পেয়ে বক্সে ঢুকে উঁচু শট নিলে, তা গুরপ্রীতের বদলি গোলকিপার প্রভুসুখনের নাগাল এড়িয়ে গোলের ভেতর পাঠান।
গোল করার একটা দারুন সুযোগ এসেছিল ভারতের কাছে। ৬৪ মিনিটে রায়ান বল ধরে ব্রাজিলের ডিফেন্ডারকে শরীরের ঝটকায় টলিয়ে দিয়ে আগুয়ান গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে গোল লক্ষ্য করে শট নিলে, তা গোললাইন থেকে ফেরান ডগলাস স্যান্টোস। আলগা বল বক্সের মাঝে ভারতের ফুটবলাররা শট নেওয়ার আগেই তা ঝাঁপিয়ে পড়ে বের করেন ব্রাজিলের গোলকিপার পেড্রো লুকাস। ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক ম্যাচে নিজেকে শিট ক্লিন রাখতে পেরেছেন লুকাস।
দ্বিতীয়ার্ধের সংযুক্তি সময়ের প্রথম মিনিটে ভ্যান্ডারসন ডি অলিভেরার শট রুখে দিয়ে ব্রাজিলের গোল বাড়ানোর প্রচেষ্টায় বাধ সাধেন গোলকিপার গুরপ্রীত। তবে ৯৪ মিনিটে এডমুন্ডকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে মাটি ঘেঁষা শটে গোলকিপার প্রভুসুখনকে হার মানান স্যামুয়েল লিনো।
ভারত: গুরপ্রীত(প্রভসুখন), অভিষেক(ভালপুইয়া), আনোয়ার(মেহতাব), বিজয়(প্রমবীর), আকাশ(জয়), মনবীর(বিক্রমপ্রতাপ), আপুইয়া(ফারুক), অনিরুদ্ধ(ম্যাকারটন), আশিক(সানান), সাহাল(এডমুন্ড), রায়ান(রহিম)।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
