Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

মোহনবাগান ০                           পাঞ্জাব এফসি ০
 (‌‌টাইব্রেকারে জয়ী মোহনবাগান ৪-‌৩)‌ ‌

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ রবিবার কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও পাঞ্জাব এফসির মধ্যে শিল্ড সেমিফাইনালের ম্যাচে ১২০ মিনিটের যন্ত্রণাদায়ক ফুটবলের অবসান টাইব্রেকারে নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূণ্য থাকার পর। টাইব্রেকারে গোলকিপার বিশাল কাইথের বিশ্বস্ত হাতে ভর করে শিল্ড ফাইনালে গেল সবুজ মেরুন বাহিনী ৪-‌৩ ফলে জিতে। টাইব্রেকারে পাঞ্জাবের সাইজার নেওয়া তৃতীয় ও বিশাল যাদবের শট রুখে দিয়ে বাগানের গোলের নীচে ভরসা কাইথ জয়ের রাস্তা প্রশস্ত করেন। তাই বাগানের পক্ষে ড্রাজিচের শট পাঞ্জাব গোলকিপার মুজিথ সাবির রুখে দিলেও, পঞ্চম পেনাল্টি শট নিতে আসার সময় বাড়তি চাপে ছিলেন না মিগুয়েল। তিনি গোল করে দলের ফাইনালে ওঠা নিশ্চিত করেন। মোহনবাগানের বাকি গোলদাতা রাহুল বেকে, শুভাশিস বসু, আলবার্তো। পাঞ্জাবের হয়ে টাইব্রেকারে সফল গোলদাতা মেসি বাউলি, অশবীর সিং ও ঋষিকান্ত। গতবারের শিল্ড চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগানের সামনে আবার সেই ট্রফি জয়ের সুযোগ। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ইস্টবেঙ্গল ও নর্থ ইস্টের বিজয়ী দল। তবে এমন খেললে জেতা মুশকিল ফাইনালে। একইসঙ্গে আইএসএলে খেলার মতো তৈরি নয় তারা।

শ্রীনিধি ডেকানকে গ্রুপ লিগের ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারালেও, নর্থ ইস্টের বিরুদ্ধে ১-‌১ ড্র করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল মোহনবাগানকে। সেখানে পাঞ্জাব এফসি গ্রুপ লিগের দু’‌টি ম্যাচ আধিপত্য বিস্তার করে জিতে সেমিফাইনালে উঠেছিল। যার মধ্যে ছিল ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে জেতা ম্যাচও। স্বাভাবিকভাবে শিল্ডের প্রথম সেমিফাইনালে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের মুখোমুখি হওয়ার আগে পাঞ্জাবের দলের ফুটবলার আত্মবিশ্বাস বেশি থাকাটাই স্বাভাবিক ছিল। কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গনের মাঠে চনমনে ভাব নিয়েই খেলা শুরু করেছিল পাঞ্জাব। সামনে মেসি বাউলি ও আলফ্রেড মোয়াকে রেখে।

সেটা বুঝে বাগান কোচ পানাগয়টিস ডিমপেরিস(‌পানোস) ৪-‌২-‌৩-‌১ ছকে‌ রক্ষণ জমাট রাখার পাশাপাশি আক্রমণে বৈচিত্র আনতে শুরু থেকেই উইংয়ে ছাংতে, লিস্টনের সঙ্গে ড্রাজিচ, লি হ্যারি এরউইনকে রেখে পাঞ্জাবের ওপর চাপ বাড়াতে চেয়েছিলেন। একটু পিছন থেকে অপারেট করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন সমীর জেলকোভিচকে। আক্রমণ তুলে আনছিল বারবার বাগান, কিন্তু গোল করার মতো ফিনিশার তো সেভাবে চোখেই পড়েনি। বারবার গোলরল সামনে পৌঁছে আটকে গেলেন বাগানের ফুটবলাররা। মোহনবাগান কোচ পানোস নর্থ ইস্ট ম্যাচের পর বলেছিলেন, ফুটবলারদের অসংখ্য গোল মিসে তিনি অখুশি। তবে দল একবার গোল করতে শুরু করলে, আর নাকি থামবে না। কিন্তু সেই গোলের বর্ষণ শুরু কবে হবে?‌

তবে ৮ মিনিটে গোল পেতে পারত মোহনবাগান। বক্সের ঠিক বাইরে বাগানের আশিস রাইকে ফাউল করেন পাঞ্জাবের এক ডিফেন্ডার। বল ছিটকে চলে গিয়েছিল বক্সের মাঝে লি এরউইনের পায়ে। তিনি শট নিতে গেলে, তাঁকে ট্রিপ করে ফেলে দেন পাঞ্জাবের আর এক ডিফেন্ডার। রেফারি বিমলেন্দু মন্ডল ফাউলের বাঁশি বাজালেন। তবে বোঝা গেল না বাগানের পক্ষে পেনাল্টি না দিয়ে, কেন আশিস রাইকে বক্সের বাইরে করা ফাউলকে বিবেচনা করে ফ্রিকিকের নির্দেশ দিলেন?‌ এরউইন যদি গোল করে ফেলতেন, তখন কি রেফারি সেটা বাতিল করে দিতেন? ৯ মিনিটে বক্সের মাথা থেকে নেওয়া এরউইনের ফ্রিকিক গোলকিপার আর্শদীপের হাতে লেগে ক্রশপিসে লেগে ফেরায় বাঁচে পাঞ্জাব।

তবে গোল না পাওয়ার বেশি ক্ষতি হয়ে গেল বাগানের। আশিস রাইয়ের চোটটা বেশ গুরুতর। প্রেস বক্স থেকে দেখে মনে হয়েছে, হাঁটুতে বড়সড় আঘাত। উঠে দাঁড়াতেই পারছিলেন না তিনি। মোহনবাগানের ডাক্তার ও ফিজিওর কাঁধে চেপে মাঠ থেকে বের হন আশিস। আর মাঠে নামতে পারেননি তিনি। সবেমাত্র ফিট হয়ে মাঠে নেমে খেলা শুরু করেছিলেন আশিস, কিন্তু মরশুমের শুরুতেই এই চোটটা তাঁকে অনেকটা পিছিয়ে দিতে পারে। আইএসএলে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের প্রথম ম্যাচ ১২ অক্টোবর নর্থ ইস্টের বিরুদ্ধে গুয়াহাটির মাঠে। আশিস ফিট হয়ে কবে সবুজ মেরুন জার্সিতে মাঠে নামতে পারবেন, তা নিয়ে সন্দেহ থাকছে। তবে জাতীয় দলে থাকা অভিষেক ফিরে গেলে আশিসের খেলতে পারার অভাব মিটবে।

পরবর্তী সময় আক্রমণের ঝাঁজ বাড়িয়ে পাঞ্জাবকে চেপে ধরেছিল বাগান ব্রিগেড। ৩৮ মিনিটে গোলের সুযোগ তৈরি করে নিয়েছিল তারা। বাঁদিক থেকে জেলকোভিচের তোলা নীচু বলে শরীর শূণ্য ভাসিয়ে বাঁপায়ে দুরন্ত ভলি নিয়েছিলেন ছাংতে। পাঞ্জাব গোলকিপার আর্শদীপ ততোধিক তৎপরতায় বল দখলে নিয়ে দলকে পিছিয়ে পড়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে দেন।

লিস্টনের ফর্ম এত খারাপ যাচ্ছে, বাগান কোচ পানোস আর বিরতির পর তাঁকে আর মাঠে রাখেননি। তাঁর জায়গায় নামান মিগুয়েলকে। কিন্তু তারপরেও গোলের মুখ খুলতে পারেননি সবুজ মেরুনের ফুটবলাররা। বরং পাঞ্জাবের ফুটবলাররা চেপে ধরেন প্রতিপক্ষকে। রক্ষণে আলবার্তো একা কুম্ভের মতো বাগান দুর্গ আগলে রাখায় গোল হজম করেনি।

৮৬ মিনিটে মিগুয়ের ফ্রিকিকে শুভাশিসের হেড পাঞ্জাবের বদলি গোলকিপার মুজিথ সাবিরের হাতের ফাঁক গলে জালের ভেতর গেলেও রেফারি অফসাইডের কারণে গোল বাতিল করেন। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১২০ মিনিটে কোনও দলই গোল করতে না পারায়, ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। শেষপর্যন্ত বিরক্তিকর ঘুমপাড়ানি ফুটবলের নিষ্পত্তি তাতে। মিলল শিল্ডের ফাইনালিস্ট মোহনবাগানকে। ফাইনালে উঠলেও বাগান শিবির কতটা স্বস্তিতে বলা মুশকিল। ম্যাকলারেন চোট পেয়ে খেলতে না পারায়, বাগানের গোলকানা যে চেহারাটা ধরা পড়েছে সেমিফাইনালে, তাতে ফাইনালে গোল করার লোক খুঁজতে কোচ পানোসকে বিজ্ঞাপন দিতে হতে পারে।

মোহনবাগান:‌ বিশাল, আশিস(‌অভিষেক)‌, আলবার্তো, বেকে, শুভাশিস, ছাংতে(‌সায়ন)‌, দীপক, জেলকোভিচ(‌আলেক্স)‌, লিস্টন(‌মিগুয়েল)‌, ড্রাজিচ, এরউইন(‌সুহেল)‌।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...