Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

 

ইস্টবেঙ্গল ৫(‌রামিরেজ,বিষ্ণু,লোবা-২, লুকাস)‌   ইন্টার কাশী ১(লালচুংনুঙ্গা-‌নিজ গোল)‌

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ আইএসএলের প্রথম ম্যাচে গোয়ার মাঠে চার্চিলকে ৪-‌০ গোলে হারিয়ে দারুন শুরু করেছিল গত মরশুমের চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল। এবারও চ্যাম্পিয়ন সুলভ মেজাজ বজায় রেখে দ্বিতীয় ম্যাচে পুনের বালেওয়াড়ি স্টেডিয়ামে ইন্টার কাশীকে ৫-‌১ গোলে গুঁড়িয়ে ২টি অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে ৬ পয়েন্ট ঘরে তুলল লাল হলুদ ব্রিগেড।

গত মরশুমে আইএসএলের শেষ ম্যাচে কিশোরভারতীর মাঠে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে শুরুতে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয়ার্ধে ২ গোল করে অস্কার ব্রুজোঁর কোচিংয়ে প্রথমবার আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয় লাল হলুদ ব্রিগেড। শুক্রবার বর্তমান কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের তত্ত্বাবধানে চলতি মরশুমে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলা শুরু করে তারা। ডুরান্ড ফাইনাল ডার্বিতে ও ইরাকের আল শোরতার কাছে হার হাবাসের দলকে দমাতে পারেনি। তিনি দলটাকে নতুন করে বেঁধেছেন দেশি বা বিদেশি ফুটবলারদের আলাদাভাবে প্রাধান্য না দিয়ে। তাঁর সাফ কথা, যে ভাল খেলবে, সেই সুযোগ পাবেন দলে। এটাই হাবাসের দলের সংহতি তুঙ্গে রেখেছে। সঙ্গে সেরা খেলাটাও বের করে আনছে। ইন্টার কাশীর ওপর রোলার চালিয়ে ৫-‌১ গোলের জয় তুলে নিল ইস্টবেঙ্গল তার জোরে।

শুক্রবার ইন্টার কাশী ম্যাচে শুরু থেকেই চেনা ছন্দে আক্রমণ শানিয়ে দ্রুত গোল তুলে নেয় ইস্টবেঙ্গল। কোচ হাবাস দলে ক্লান্তি যাতে ভর না করে তার জন্য প্রথম একাদশে ৫টি বদল করেন কচ হাবাস। শুরুতেই ব্যবহার করন লোবা ও বিপিনকে। প্রথম গোল পেয়ে যায় ৮ মিনিটে। সেন্টার সার্কেলের কাছে ক্লিয়ার হওয়া বল রশিদের পা ঘুরে লোবার কাছে এলে, তিনি তা বাড়িয়ে দেন আড়াআড়ি ভাবে রামিরেজের দিকে। ইন্টার কাশী ডিফেন্ডার বাধা দিতে এসে বল তাঁর পায়ে লেগে সামনের দিকে চলে যায়। রামিরেজ সেই ড্রপ পড়া বল দখলে নিয়ে দর্শনীয় লবে গোলকিপার আলবিনো গোমসের মাথার ওপর দিয়ে দ্বিতীয় পোস্টের কোন দিয়ে জালের ভেতর পাঠান।

প্রথম গোল পাওয়ার পর লাল হলুদের আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়ে। এদিন প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পেয়ে তার সদ্ব্যবহার করেন ইস্টবেঙ্গলের আইভরি কোস্টের অ্যাটাকার লোবা। একে রামিরেজ রক্ষা নেই, তারওপর লোবা। তিনি গোল করালেন ও করলেন। ১৬ মিনিটে লোবা ডানদিকে বল বাড়িয়েছিলেন পিভি বিষ্ণুকে। তিনি গতি বাড়িয়ে বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। লোবা বক্সে অপেক্ষা করেছিলেন বিষ্ণুর পাসের জন্য। বিষ্ণু বল পাস না দিয়ে গোল লক্ষ্য করে গড়ানো শট নেন। সবাইকে অবাক করে বিষ্ণুর শট ধরতে গিয়ে ফসকান গোলকিপার আলবিনো। বল তাঁর পায়ের তলা দিয়ে গড়িয়ে জালের ভেতর চলে যায়।

খেলার গতির বিরুদ্ধে ১৮ মিনিটে গোল করে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল ইন্টার কাশী। লালচুংনুঙ্গাকে কটিয়ে আয়ুস চিকারা বল বক্সে রাখলে, তাতে শট নেন রোজেনবার্গ। সেই বল ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার প্রভুসুখনের হাতে লেগে পোস্টে লেগে ফেরে।

ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণের লাইভওয়ার হলেন রামিরেজ। বাঁপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে এগোনোর চেষ্টা করলে ওয়েন ভাজ তাঁকে টেনে ধরে ফেলে দিলে রেফারি ইস্টবেঙ্গলের অনুকূলে পেনাল্টি দেন। একে লোবা ২২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ইস্টবেঙ্গলের তৃতীয় গোল করে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন।

লাল হলুদের আক্রমণের চাপের মুখে আচমকাই গোল পায় ইন্টার কাশী। সম্ভবত তিন গোলে এগিয়ে যাওয়ায় ইস্টবেঙ্গলে না চাইতেও একটা আত্মতুষ্টির মনোভাব এসেছিল দলে। বিশেষ করে রক্ষণে। সেই আলগা ভাবের সুযোগে ২৮ মিনিটে গোল পেয়ে যায় ইন্টার কাশী। লালডিনলিয়ানা বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়ে পাস বাড়ান আয়ুস চিকারাকে। তাঁর নেওয়া জোরালো শট লালচুংনুঙ্গার পায়ে লেগে গোলকিপার প্রভুসুখনকে হার মানিয়ে গোলে ঢোকে(‌৩-‌১)‌। রেফারি এটা লালচুংনুঙ্গার নিজ গোল দিয়েছেন।

এভাবে গোল খাওয়াটা ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাসের পছন্দ হয়নি। তিনি সাইডলাইন থেকে ফুটবলারদের পুরোন ছন্দে ফেরার নির্দেশ দেন। তাতে কাজ হয়। ৩৫ মিনিটে চতুর্থ গোল পায়। রামিরেজ মাঝমাঠে বল ধরে ডানদিকে বিপিনকে বাড়ান। বিপিনের মাপা ক্রশে অনবদ্য হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন লোবা।

গোলের সংখ্যা বাড়াতে ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস দলে তরতাজা ভাব আনতে বিপিনের জায়গায় জিকসন, রশিদের পরিবর্তে ইকোনোমিডিস, লোবার জায়গায় লুকাস জোলোনিস্কিকে নামান। সারা মাঠ জুড়ে খেলে ক্লান্ত হয়ে পড়া রামিরেজকে ৭৮ মিনিটে তুলে নিয়ে ডেভিডকে। ৮১ মিনিটে ইকোনোমিডিসের পাস থেকে গোল দলের পঞ্চম গোল করেন লুকাস জোলোনিস্কি।

ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে দুরন্ত জয় এসিএল টু-‌র ম্যাচে ওমানের আল সিবের মোকবিলার আগে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে নিল হাবাসের ইস্টবেঙ্গল।

ইস্টবেঙ্গল:‌ প্রভুসুখন, হার্দিক, আনোয়ার, লালচুংনুঙ্গা, জয়, বিপিন(‌জিকসন)‌, রশিদ(‌ইকোনোমিডিস)‌, রোহিত, বিষ্ণু, রামিরেজ(‌ডেভিড)‌, লোবা(‌জোলোনিস্কি)‌।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...