Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

ইস্টবেঙ্গল ০                আল সিব ০

মুনাল চট্টোপাধ্যায়: এসিএল টু-‌র প্রথম ম্যাচে‌ জর্ডনের আল হুসেইনের বিরুদ্ধে ২ গোলে এগিয়ে গিয়েও ২ গোল হজম করে ১ পয়েন্ট নিয়ে ঘরে ফিরেছিল ইস্টবেঙ্গল। যুবভারতীতে দ্বিতীয় ম্যাচে ইরাকের আল শোরতার বিরুদ্ধে ২ বার এগিয়ে গিয়েও জিততে পারেনি লাল হলুদ। ম্যাচটা হেরেছিল। মঙ্গলবার ওমানের মাঠে এসিএল টু-‌র তৃতীয় ম্যাচে সংগঠিত ফুটবল খেললেও গোলের সুযোগ তৈরি করতে না পারা ও অ্যাটাকিং থার্ডে পৌঁছে ফিনিশিংয়ের দুর্বলতার কারণে আল সিবের সঙ্গে গোলশূণ্য ড্র করেই সন্তুষ্ট থাকতে হল মশাল বাহিনীকে। ৩ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে লিগ টেবিলে পয়েন্ট প্রাপ্তির দিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ল ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচ থেকে আল সিবের প্রাপ্তি এই গ্রুপ থেকে প্রথম পয়েন্ট।

ডুরান্ড কাপ থেকে ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা একের পর এক টুর্নামেন্ট আর ম্যাচ খেলেই চলেছেন। শিল্ডের সঙ্গে এসিএল টু প্লেঅফের পর এসিএল টু-‌র মূল পর্বের পাশাপাশি আইএসএলের দুটি অ্যাওয়ে ম্যাচে অংশ নিতে হয়েছে লাল হলুদ ব্রিগেডকে। তাতে ঘন ঘন ম্যাচ খেলার ধকল ফুটবলারদের ওপর পড়াটাই স্বাভাবিক। এটা বুঝেই ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস জানিয়েছিলেন, ক্লান্তি ফুটবলারদের পারফরমেন্সে প্রভাব যাতে না ফেলে, তার জন্য ফুটবলারদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলানোটা দরকার। সেই পথে হেঁটে প্রতি ম্যাচেই প্রথম একাদশে কিছু না কিছু বদল আনছেন হাবাস। ওমানের ক্লাব আল সিবের বিরুদ্ধে লাল হলুদের প্রথম একাদশে সেই বদলটা চোখে পড়েছে। ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে আইএসএলের ম্যাচে শুরু থেকেই হাবাস ব্যবহার করেছিলেন আইভরি কোস্টের স্ট্রাইকার একে লোবা, পিভি বিষ্ণুকে। কিন্তু তাঁকে বা গত ম্যাচে গোল পাওয়া জোলোনিস্কিকে আল সিবের বিরুদ্ধে শুরু না করিয়ে প্রথম একাদশে বিপিনের সঙ্গে রাখেন এডমুন্ড ও ডেভিডকে আক্রমণ শানাতে।

ঘরের মাঠে আল সিব এর আগে কোনও ম্যাচ জেতেনি বলেই সম্ভবত ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অলআউট আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করেনি। আরও একটা কারণ থাকতে পারে আল সিবের এই সতর্কতার খোলসে মোড়া ফুটবলে। সেটা হল আল হুসেইন ও আল শোরতার বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের দাপুটে ফুটবল দেখেছেন আল সিবের কোচ। ইস্টবেঙ্গল আক্রমণের শক্তি ও গোল করার ক্ষমতা তাঁর জানা। তাই অধিকাংশ সময় নিজেদের পায়ে বল রেখে খেলাটা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যান ওমানের ক্লাবের ফুটবলাররা।

অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা কোচ হাবাসের নির্দেশ মেনে শেপ ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে আল সিবকে ঘাড়ে চেপে বসার সুযোগ দেননি। সময় সময়ে আক্রমণ তুলে আনলেও আল সিবের বক্সের সামনে গিয়ে আটকে যায় বারবার প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের জমাট ভাবের প্রতিরোধের সামনে। গত দুটি এসিএল টু ও আইএসএল ম্যাচে লাল হলুদ ফুটবলারদের গোল প্রাপ্তিতে এডমুন্ড, ডেভিড, লোবা, রামিরেজের বড় ভূমিকা ছিল। কিন্তু আল সিবের বিরুদ্ধ প্রমম ৪৫ মিনিটের খেলায় তাঁদের সেই গোল খিদেটা নজরে আসেনি। অ্যাটাকিং থার্ডে পৌঁছে ফিনিশিংয়ের দুর্বলতার কারণে গোল আসেনি। ডেভিডের নেওয়া একটি গড়ানো শট তৎপরতার সঙ্গে আল সিবের গোলকিপার ধরে নেন। এছাড়া প্রথমার্ধে গোল করার মতো কোনও উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে পারেনি লাল হলুদ। তার জন্য আল সিব ডিফেন্ডারদের কৃতিত্ব দিতে হবে। দেখে মনে হয়েছে, আল সিব কোচ রীতিমতো হোমওয়ার্ক করেই তাঁর ফুটবলারদের মাঠে নামিয়েছেন বিপিন, এডমুন্ড, ডেভিড, রামিরেজকে ফাঁকা জায়গা না দিতে আক্রমণ শানাতে।

দু’‌দলই বাড়তি ঝুঁকি না নেওয়ায় প্রথমার্ধ গোলশূণ্য অবস্থায় শেষ করে সাজঘরে গিয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধে দু’‌দলই মাঠে ফেরে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে আক্রমণে বাড়তি ঝাঁজ বাড়িয়ে। প্রথম ৪৫ মিনিটে পরস্পরকে মেপে নেওয়ার পর আল সিব ও ইস্টবেঙ্গল কোচ জয়ের গোলের জন্য ফুটবলারদের খোলস ছেড়ে বেরুনোর নির্দেশ দিয়ে থাকলে, সেটা অস্বাভাবিক নয়। গোল পেতে ডেভিডের জায়গায় লোবাকে নামান কোচ হাবাস। একইসঙ্গে দলে বাড়তি এনার্জি আনতে মাঝমাঠে জিকসনকে তুলে রোহিত কুমার ও সাইডব্যাকে লালচুংনুঙ্গার বদলে আনেন সন্দীপ মান্ডিকে।

তাতেও যে প্রচুর গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল ইস্টবেঙ্গল তা নয়, তবে ৫২ মিনিটে বিপিনের নেওয়া বাঁপায়ের শট ওমান গোলকিপারকে হার মানিয়ে ক্রশপিসে লেগে ফেরায় গোল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। ৮০ মিনিটে রশিদের বাড়ানো বলে বিপিনের শট তৎপরতার সঙ্গে রুখে দলকে পিছিয়ে পড়ার হাত থেকে বাঁচান আল সিব গোলকিপার। পরের মিনিটেই আল সিবের ফুটবলারের নেওয়া শট ব্লক করতে গিয়ে হেডে নিজের গোলে প্রায় ঢুকিয়ে ফেলেছিলেন জিবুলিচ। ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার লাচেনপা গোলে ঢোকার মুহূর্তে ফিস্ট করে ক্রশপিসের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠালে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে লাল হলুদ শিবির। ৯২ মিনিটে হাসানের নেওয়া দূরপাল্লার শট গোলকিপার লাচেনপার নাগাল এড়িয়ে পোস্টে লেগে ফেরায় ওমানের মাঠ থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পারল ইস্টবেঙ্গল।

ম্যাচ না জেতার জন্য ফুটবলারদের ক্লান্তিকেই দায়ি করেন ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস। বলেন, একটানা ম্যাচ খেলার পাশাপাশি পরপর অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলার ধকল ফুটবলারদের পারফরমেন্স প্রভাব ফেলেছে। সেরা দেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ম্যাচ হারার থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে ঘরে ফেরা একদিক থেকে ভাল। তবে এবার কলকাতায় ফিরে কিছুদিন সুযোগ মিলবে ফুটবলারদের রিকভারির জন্য। আশা করছেন ঘরের মাঠে যুবভারতীতে দর্শক সমর্থন সঙ্গে নিয়ে আল সিবের বিরুদ্ধে ৩ নভেম্বর এসিএল টু-‌র ফিরতি ম্যাচে দল আরও বাল খেলবে ও জিতবে।

ইস্টবেঙ্গল:‌ লাচেনপা, লালচুংনুঙ্গা(‌সন্দীপ)‌, আনোয়ার, জিবুলিচ, জয়, এডমুন্ড(‌আসিফ)‌, জিকসন(‌রোহিত)‌, রশিদ, রামিরেজ, বিপিন, ডেভিড(‌লোবা)‌।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...