Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India
আইএসএল ২০২৩-২৪

মোহনবাগান ১(‌মনবীর)‌                         চেন্নাইন ০

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ গুয়াহাটির মাঠে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ০-‌১ গোলে হেরে আইএসএল অভিযান শুরু করেছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। দিল্লির মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচে স্পোর্টিং দ্য দিল্লির বিরুদ্ধে লড়ে জিতেছিল সবুজ মেরুন ব্রিগেড ২-‌১ গোলে। সোমবার আইএসএলে ঘরের মাঠে যুবভারতীতে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে চেন্নাইন এফসির বিরুদ্ধে আধিপত্য নিয়ে না খেলেও ওস্তাদের মার শেষ রাতের মতো ৮৫ মিনিটে করা মনবীরের গোলে জিতে ৩ পয়েন্ট পকেটে পুরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল মোহনবাগান, তার সঙ্গে কোচ পানোসও। ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট পেলেও মোহনবাগানের এই জয়ে সমর্থকরা সাময়িক আনন্দ পেতে পারেন, কিন্তু খেলায় উন্নতি না হলে, আগামী ম্যাচগুলোতে দলকে ভুগতে হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

চোটের জন্য ম্যাকলারেন ও মিগুয়েল খেলবেন না জানাই ছিল। আপুইয়া অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে। স্বাভাবিকভাবে চেন্নাইন এফসির বিরুদ্ধে ম্যাচে মোহনবাগানের হেড স্যার পানোসকে প্রথম একাদশে অদলবদলের পথে হাঁটতেই হয়েছে। কিন্তু ঘরের মাঠে ৩ পয়েন্ট পেতে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার দিকে ঝুঁকলেও, গত ২ ম্যাচে গোল হজমের কথা মাথায় রেখে বাগান কোচ পানোস রক্ষিফেণের জমাট ভাব আনার ক্ষেত্রে কোনও আপোস করেননি। তাঁর পছন্দের ৪-‌৪-‌২ ছকে চার ব্যাকে মেহতাব, বেকে, আলবার্তো, অভিষেকের সামনে ডিফেন্সিভ ব্লকার পজিশনে দীপক টাংরিকে রাখার পিছনে আর তো কারণ খুঁজে পাওয়া সম্ভব ছিল না। সম্ভবত পানোস প্রতিপক্ষ চেন্নাইনকে শুরুর দিকে মেপে নিতে চেয়েছিলেন বলেই গঠনমূলক ফুটবল খেলার কারীগর অনিরুদ্ধ থাপাকে রিজার্ভ বেঞ্চে বসিয়ে রেখে টাংরির মতো ডেস্ট্রাকটিভ ফুটবলারকে ব্যবহার করাই শ্রেয় মনে করেন।

এতে অবশ্য মোহনবাগানের আক্রমণ সেভাবে দানা বাঁধেনি। এমনকি দুই উইং হাফে ছাংতে ও ড্রাজিচ, মাঝমাঠে সমীর জেলকোভিচকে খেলালেও। অভিষেক সিং বাগানে যোগদানের পর থেকে শুভাশিসের জায়গা চলে গেছে। অভিষকের ওপর বেশি ভরসা করার যুক্তি হিসেবে কোচ পানোস শুভাশিসের খারাপ ফর্মের দোহাই দিতে পারেন। হয়ত তাই। কিন্তু ফর্মে থাকা শুভাশিস রক্ষণ সামলানোর সঙ্গে সঙ্গে ওভারল্যাপে উঠে আক্রমণের যে ঝাঁজ বাড়াতেন বা গোলও করতেন, সেই খেলাটা চেন্নাইনের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে অভিষেক বা মেহতাবের খেলায় দেখা মেলেনি। উইং হাফ থেকে ছাংতে ও ড্রাজিচকেও নিষ্প্রভ লেগেছে প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিট। স্বাভাবিকভাবেই বলের জোগান না থাকায় সামনে লি এরউইন ও মনবীরকে দর্শকের ভুমিকায় কাটাতে হয়।

তার জন্য অবশ্য চেন্নাইন এফসির কোচ ক্লিফোর্ড মিরান্দাকে নম্বর না দিয়ে উপায় নেই। তিনি নিজের দলের ফুটবলারদের মোহনবাগানকে জুজু ভেবে নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগে গুটিয়ে থেকে খেলতে বলেননি, এটা বোঝা গেছে তাঁর দলের সচল মনোভাবে প্রথমার্ধে। একইসঙ্গে ক্লিফোর্ড যে রীতিমতো প্রতিপক্ষ ফুটবলারদের বিপজ্জনক হয়ে ওঠা আটকাতে তাঁদের কড়া নজরে রাখার কৌশল নিয়েছেন, সেটাও ধরা পড়েছে ছাংতে ও ড্রাজিচের মতো ফুটবলারদের বোতলবন্দী হয়ে থাকাতে। চেন্নাইন এফসির মাঝমাঠে নিকোলা, তালাল, ব্রাইসনরা এতটাই দাপট দেখান, বাগান আক্রমণ প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের ওপর কোনও চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। বরং মোহনবাগান যেখানে প্রথমার্ধে একবার মাত্র গোল করার সুযোগ তৈরি করেছিল, সেখানে চেন্নাইন এফসির ফুটবলাররা সুযোগের অপচয় না ঘটালে ও বাগান গোলকিপার বিশাল কাইথ তৎপর না থাকলে, অন্তত চার থেকে পাঁচ গোল করে ফেলতেন।

১১ মিনিটে ব্রাইসন বক্সের মধ্যে সুবিধাজনক অবস্থায় বল পেয়ে বাউন্ডুলে ছেলের মতো সেই বলটা অবিশ্বাস্যভাবে বাইরে মেরে সুযোগটা নষ্ট করে বাগান শিবিরকে স্বস্তি এনে দেন। ২৭ মিনিটে মাদি তালালের থ্রু বক্সে সামনে ফাঁকায় পেয়ে গিয়েছিলে ইরফান। একা অসহায় গোলকিপার বিশাল কাইথকে পেয়ে গিয়েও সেই বল গোলে ঠেলতে পারলেন না তিনি। ইরফানের বাঁ পায়ের শট গোলকিপার বিশালের পায়ে লেগে বেরিয়ে গেলে আবার বাঁচে। ৩৮ মিনিটে চেন্নাইনের মহম্মদ শাহিফের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

খেলার গতির বিরুদ্ধে ৩৯ মিনিটে প্রথম গোলের সুযোগ পায় মোহনবাগান। সমীর জেলকোভিচের বাড়ানো বল লি এরউইন যখন ধরেন, তখন অনেকটা ফাঁকা জায়গা পেয়েছিলেন সামনে। সেই স্পেস কাজে লাগিয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে কোনাকুনি শট নিলে চেন্নাইন গোলকিপার মহম্মদ নওয়াজ রুখে দিলে বল শূণ্যে উঠে গিয়েছিল। সেই বলে মনবীর হেডে ফাঁকা গোলে রাখতে পারেননি। বল ক্রশপিশের ওপর দিয়ে উড়ে যায়।

ছাংতের অফফর্ম দেখেই দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে তুলে সাহালকে নামান বাগান কোচ পানোস। তবে বাগান ব্রিগেড নিজেদের নতুন করে গোছানোর আগেই ৫০ মিনিটে ইরফানের নেওয়া শট কর্নারের বিনিময়ে বের করে দলকে গোল খাওয়ার থেকে বাঁচান গোলকিপার বিশাল। এরপরই সাহালের আচমকা নেওয়া একটি শট গোলের আশা জাগিয়েও পোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। গোল আসছে ন, অথচ সময় বয়ে যাচ্ছে বুঝে জেলকোভিচের জায়গায় অনিরুদ্ধ থাপাকে নামান বাগান কোচ পানোস। তাতেও সবুজ মেরুনের আক্রমণভাগ চেন্নাইন রক্ষণব্যুহ ভেদ করতে পারেনি। বাগান কোচ রক্ষণের গঠন বদলে রাহুল বেকের জায়গায় শুভাশিসকে নামান আক্রমণের বাড়তি ধার আনতে। ৬৪ মিনিটে ড্রাজিচের থ্রু বক্সের ভেতর মনবীর ধরার আগেই ক্লিয়ার করে দেন চেন্নাইন গোলকিপার নওয়াজ।

শেষ ২৫ মিনিট গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ঝাঁপিয়েছিল মোহনবাগান। কিন্তু গোল করার কাউকে খুঁজেই পাওয়া গেল না বাগানে। উল্টে ৭৮ মিনিটে নিকোলার জোরালো শট গোলকিপার বিশালের নাগাল এড়িয়ে ক্রশপিস কাঁপিয়ে ফিরে আসে। পরের মিনিটেই নিকোলার গড়ানো শট রোখেন বিশাল। মোহনবাগানের মতো বড় দলের বিরুদ্ধে হাফডজনের ওপর নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করলে যে ভুগতে হয়, সেটা ৮৫ মিনিটে গোল হজম করে বুঝল চেন্নাইন।

খারাপ খেলার দিনেও বড় দলের জন্য একটা সুযোগই যথেষ্ট প্রতিপক্ষের ভুল কাজে লাগিয়ে গোল করার। এটাই অনেকে লাক ফ্যাক্টর বলেন। মোহনবাগান সেই লাক ফ্যাক্টর থেকেই ৮৫ মিনিটে জয়ের গোলটা পেয়ে গেল। ৮২ মিনিটে ড্রাজিচের জায়গায় লিস্টনকে নামান কোচ পানোস। ৮৫ মিনিটে উইংয়ে বল ধরে বক্সের ধারে পৌঁছে বাঁ পায়ে ক্রশ ভাসালে মনবীর বুক দিয়ে সেই বল গোলে ঠেলে জয় এনে ৩ পয়েন্ট পাওয়া নিশ্চিত করেন। সবুজ মেরুন সমর্থকদের পাশাপাশি যুবভারতীতে উপস্থিত ১৮,৪৩২ জন দর্শকের এটাই একমাত্র প্রাপ্তি মোহনবাগানের পানসে ফুটবল থেকে।

আর সেকারণে ম্যাচের শেষে মোহনবাগান কোচ পানোস স্বীকারই করে নেন চেন্নাইন এফসি ম্যাচে তাঁর দল প্রত্যাশামাফিক খেলতে পারেনি। ঘরের মাঠে এই পারফরমেন্সের জন্য তিনি সমর্থকদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। অনেক ভুল হয়েছে খেলায়। ভাগ্যের জোরে জয় এসেছে। খেলায় আরও উন্নতি করতে হবে আগামী ম্যাচগুলোয় ভাল কিছু পেতে।

মোহনবাগান:‌ কাইথ, মেহতাব, আলবার্তো, বেকে(‌শুভাশিস)‌, অভিষেক, ছাংতে(‌সাহাল)‌, টাংরি(‌সূর্যবংশী)‌, জেলকোভিচ(‌অনিরুদ্ধ)‌, ড্রাজিচ(‌লিস্টন)‌, মনবীর, এরউইন।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...