ছবি: সিবিএফ
মরক্কো ১( সাইবারি) ব্রাজিল ১(ভিনিসিয়াস)
মুনাল চট্টোপাধ্যায়: নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম জুড়ে হলুদ জার্সির প্রাধান্য থাকলেও মাঠের খেলায় মরক্কোর বিরুদ্ধে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সেই একাধিপত্য দেখাতে পারেনি ব্রাজিল। আর তাতেই মরক্কোর সঙ্গে ১-১ ড্র করেই সন্তুষ্ট থাকতে হল বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের হার্টথ্রব ব্রাজিলকে। বলা ভাল মরক্কোর সাইবারির গোলে পিছিয়ে পড়া ব্রাজিলের হার ও সম্মান বাঁচল ভিনিসিয়াস জুনিয়ারের অনবদ্য গোলে। তবে আক্রমণ ও প্রতি আক্রমণে জমে ওঠা ফুটবলে এটাকে যুক্তিসঙ্গত ফল বললে ভুল হবে না।
কাঁটে কা টক্কর বলতে যা বোঝায়, তাই দেখা গেল ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যে ম্যাচে। প্রত্যাশিতমতোই ব্রাজিল একাদশে ছিলেন না নেইমার জুনিয়ার। ব্রাজিল জাতীয় দলের চিফ কোচ কার্লো আনসেলোত্তি বলেই দিয়েছিলেন, নেইমার চোট সারিয়ে ফিট হতে ব্যস্ত আছেন। ফিট হলে মাঠে নামবেন। তবে ব্রাজিল যে এখন আর নেইমার নির্ভর নয়, সেটা বুঝিয়েই দিয়েছিলেন আনসেলোত্তি তাঁর বক্তব্যে। মরক্কো ম্যাচে তাঁর দলের খেলাতেও সেটা স্পষ্ট ধরা পড়েছে। ভিনিসিয়াসকে সামনে রেখে ব্রাজিল কোচ আনসেলোত্তি ৪-২-৩-১ ছকে মরক্কোকে চাপে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যে কোনও কারণেই হোক, ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিট ব্রাজিলকে তাদের চেনা ছন্দে পাওয়া যায়নি। সম্ভবত দীর্ঘসময় বিশ্বকাপের আসরে সাফল্য না পাওয়ার কারণে একটা স্নায়ুচাপ তাদের খেলায় পড়তে পারে। সেটা কাটিয়ে উঠতে সময় লেগেছে।
তাতেই শুরুর দিকে খেলায় মরক্কোকে অনেক বেশি চনমনে লেগেছে। মরক্কো কোচ মহম্মদ কুয়াবির এটা প্রথম বড় দায়িত্ব হলেও, তিনি ব্রাজিলের বিরুদ্ধে গুটিয়ে থাকা ফুটবল খেলার পথে হাঁটেননি। বরং তিনিও ৪-২-৩-১ ছকে আক্রমণাত্মক ফুটবলে ব্রাজিল রক্ষণকে বারবার পরীক্ষার মুখে ফেলে দেন। ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিট বলের দখল অধিকাংশ সময় ছিল মরক্কোর ফুটবলারদের পায়ে। ওই সময়ে নিজেদের মধ্যে ঘন ঘন পাস খেলে ব্রাজিল বক্সে একাধিকবার পৌঁছে গিয়েছিল মরক্কো মূলত তাদের তারকা ফুটবলার আচরাফ হাকিমির সৌজন্যে। হাকিমি ম্যাচের আগে বলেছিলেন, ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার ভিনিসিয়াস জুনিয়ারকে আটকানোর ছক নিয়ে তিনি তৈরি। সেই কড়া মার্কিংটা ম্যাচের শুরু দিকে ছিল বলেই ভিনিসিয়াসকে তেমন কার্যকরী ভূমিকায় দেখা যায়নি।
৬ মিনিটের মাথায় মরক্কো গোল করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। ব্রাজিল বক্সের থেকে ছিটকে আসা বল মরক্কোর এল আয়নুয়াইয়ের পায়ে এসেছিল। অনেকটা ফাঁকা জায়গা দেখে গোল লক্ষ্য করে শট নিয়েছিলেন তিনি। ব্রাজিল গোলকিপার অ্যালিসন জায়গায় ছিলেন না। আয়নুইয়ার শট সময়মতো ব্লক করে দলের পতন রোখেন গ্যাব্রিয়েল। ওই সময় মরক্কোর বল পজেশন অবিশ্বাস্য ভাবে ছিল ৭২ শতাংশ। গোল লক্ষ্য করে শট ছিল ৬টা। তার মাঝেই বলতে গেলে খেলার গতির বিরুদ্ধে একটা হাফ চান্স চলে এসেছিল ব্রাজিলের কাছে। উইং থেকে ভাসানো ক্রশ ব্রাজিলের থিয়াগোর মাথায় এলেও, তিনি তা গোলে রাখতে পারেননি ঠিকমতো। এতে মরক্কোর গোলকিপার বোনুর পক্ষে বল ধরে ফেলতে অসুবিধা হয়নি।
ব্রাজিল যখন খেলাটা সবে ধরতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই ২১ মিনিটে রক্ষণের অসর্কতায় গোল হজম করে তারা। একইসঙ্গে কৃতিত্ব দিতে মরক্কোর ফুটবলারদের প্রেসিং ফুটবলের জোরে ব্রাজিল রক্ষণকে ভুলের ফাঁদে ফেলতে বাধ্য করে। সেন্টার সার্কলের সামনে ব্রাজিলের ফুটবলার বল লুজ করলে, তা পেয়ে যান মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজ। তাঁর বাড়ানো থ্রু গতি বাড়িয়ে অনুসরণ করে ব্রাজিল ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েলকে টপকে ও আগুয়ান গোলকিপার অ্যালিসনের মাথার ওপর দিয়ে আলতো চিপ করে জালের ভেতর পাঠান ইসমাইল সাইবারি।
গোল খেয়ে সম্বিত ফেরে ব্রাজিলের। চেনা ছন্দে ফেরে মারকুইনোস, পাকুয়েতা, রাফিনহা, ভিনিসিয়াস জুনিয়ারের মিলিত আক্রমণ তুলে আনার প্রচেষ্টায়। সেসময় মরক্কো রক্ষণে অস্বস্তি বাড়ে। ৩২ মিনিটে সমতা ফেরানোর গোলটা পেয়েই যায় ব্রাজিল ভিনিসিয়াসের সৌজন্যে। রিয়েল মাদ্রিদের এই তারকা ফুটবলারের ওপর কেন যে কোচ আনসেলোত্তি এতটা ভরসা করেন, সেটা বুঝতে অসুবিধা হয়নি তাঁর করা গোলটা দেখে। বক্সের বাঁদিকে ভিনিসিয়াসকে লক্ষ্য করে ছোট একটা পাস বাড়ান ব্রুনো গুইমারেস। ভিনিসিয়াস সেই বল ধরে মরক্কো ডিফেন্ডারকে শরীরের ঝটকায় টলিয়ে দিয়ে ভেতরে কাট করে ঢুকে এসে কোনাকুনি নেওয়া উঁচু শট দ্বিতীয় পোস্টের কোন দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন। এটা ভিনিসিয়াসের ৫০ তম ম্যাচ ব্রাজিল জার্সিতে। তাই গোলটা তাঁর জন্য আরও বেশি স্পেশাল। বিশেষ করে দলের হার বাঁচানোর জন্য।
বিরতিতে খেলার ফল ছিল ১-১। দ্বিতীয়ার্ধে দু’দলের খেলায় বাড়তি কোনও ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়নি। বরং বেশি সময় নিজেদের পায়ে বল রেখে খেলার চেষ্টাই করেন দু’দলের ফুটবলাররা। গোল করার সুযোগ দু’দলের সামনে এসেছিল। তবে সেগুলি ক্লিয়ার চান্স না বলে, হাফ চান্স বলাই ভাল। ব্রাজিলের পারকুয়েতার ভলি যেমন বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে ক্লিয়ার করেন মরক্কো গোলকিপার বোনু, রাফিনহার শট ধরে ফেলেন জায়গায় থেকে, তেমন সংযুক্তি সময়ের শেষ মিনিটে এল আয়নুইয়ার শট গোলে ঢোকার হাত থেকে বাঁচান ব্রাজিল গোলকিপার অ্যালিসন ডানদিকে ঝাঁপিয়ে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
