Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

মোহনবাগান ৮(‌মনবীর-‌৩, আলবার্তো, বেকে,নোয়েল-‌আত্মঘাতী, সুহেল-‌২)‌   সাউথ ইউনাইটেড ০

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ ডুরান্ড ডার্বি জেতার পর গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে বেঙ্গালুরুর সাউথ ইউনাইটেডকে ৮-‌০ গোলে হারিয়ে গোল উৎসবের অনুভূতি এনে দিল মোগনবাগান সুপার জায়ান্ট। একইসঙ্গে ২ ম্যাচ থেকে ৬ পয়েন্ট নিয়ে চলে গেল কোয়ার্টারফাইনালে। বাড়তি প্রাপ্তি মনবীরের হ্যাটট্রিক। বদলি হিসেবে নেমে সুহেলের ২ গোল। বাকি গোলদাতা রাহুল বেকে ও আলবার্তো রড্রিগেজ। আর এক গোল এসেছে সাউথ ইউনাইটেডের নোয়ালের থেকে।

দিল্লি থেকে ঘটা করে ডুরান্ড কাপ নিয়ে এসেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। লক্ষ্য ছিল দিনে দিনে ডুরান্ড কাপের জনপ্রিয়তা বাড়ানো। একইসঙ্গে যুক্তি ছিল, দিল্লিতে ডুরান্ড কাপে দর্শক হয় না। এছাড়া কলকাতার তিন প্রধান মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহমেডান সহ ভারতের অধিকাংশ দল দিল্লিতে খেলতে আসতে আগ্রহ দেখায় না। তাই ২০২৯য়ে কলকাতায় ডুরান্ড কাপকে নিয়ে আসে সেনাবাহিনী কর্তৃপক্ষ। বলতে দ্বিধা নেই, শুরুর বছরটা জমেছিল টুর্নামেন্ট কলকাতায়। কিন্তু পরের বছর করোনার কারণে ডুরান্ড হয়নি। ২০২১য়ে ডুরান্ড হলেও ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান টুর্নামেন্টে অংশ নেয়নি টুর্নামেন্ট খেলার জন্য দল তৈরি ও সময়মতো প্রস্তুতি নিতে না পারায়। ২০২২ থেকে দুই প্রধান মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলকে ভর করে ডুরান্ড কাপের সংগঠকরা টুর্নামেন্টের জনপ্রিয়তা বাঁচিয়ে রাখার একটা চেষ্টা চালিয়ে যান। একইগ্রুপে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলকে রেখে ডুরান্ড ডার্বি ম্যাচ করার ব্যাপারটা পাকা করে ফেলেছিলেন মাঠে দর্শক টানতে ও একইসঙ্গে আর্থিক লাভ বাড়াতে। এর ওপর নকআউটে বা ফাইনালে আর একবার মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গল মুখোমুখি হলে, তা ছিল সোনায় সোহাগা। এমনটা কয়েকবার হওয়াতে বেশ খুশিই ছিল ডুরান্ড কর্তৃপক্ষ। সঙ্গে বাংলার মসনদে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী।

তবে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানকে সামনে রেখে একটা ডার্বি ম্যাচ করে ডুরান্ডের জনপ্রিয়তা বজায় রাখার ব্যাপারটা বুঝতে কারও বাকি ছিল না। আর সেটা চলতি বছর ডুরান্ডে খুবই দৃষ্টিকটূ ভাবে সামনে আসে। দুই প্রধান নিজেদের দল গুছিয়েই উঠতে পারেনি। দেশি ফুটবলাররা দলে যোগ দিলেও বিদেশিরা অধিকাংশই আসেননি। যাঁরা এসেছেন, তাঁরা খেলার মতো ফিট ছিলেন না। তবু সেসব তোয়াক্কা না করেই ডুরান্ডের সংগঠকরা কলকাতার গ্রুপে প্রথম ম্যাচ ডার্বি রাখেন। কোনওরকম প্রস্তুতি ছাড়া মাঠে খেলতে নামলে যা হয়। দু’‌প্রধানের ডার্বির লড়াই কোনওসময় একটা নির্দিষ্ট মানে পৌঁছয়নি। ম্যাচের ফল মোহনবাগানের অনুকূলে যাওয়া ছাড়া উল্লেখ করার মতো কিছু ছিল না ওই ডার্বিতে।

এখানেই শেষ নয়। মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের গ্রুপে থাকা অন্য দলগুলোর তো আরও হাঁড়ির হাল। ডার্বি হারের পর সিআইএসএফকে ৮ গোল দিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। আর দ্বিতীয় ম্যাচে মোহনবাগানের প্রতিপক্ষ বেঙ্গালুরুর সাউথ ইউনাইটেডও পাতে দেওয়ার অযোগ্য। এর থেকে কলকাতা লিগে খেলা দলগুলো অনেক বেশি শক্তিশালী, ভাল মানের। ডুরান্ড সংগঠকরা সর্বভারতীয় চেহারা দিতে গিয়ে যেসব দল খেলাচ্ছেন, তাতে ফুটবলের কোনও ভাল বিজ্ঞাপন বলা যাচ্ছে না। এমন একটা দুর্বল দলের বিরুদ্ধে কোনও স্ট্র‌্যাটেজি লাগে না ম্যাচ জিততে। তাই মাথা খাটাতেও হয়নি মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কোচ পানাগয়টিস ডিমপেরিসকে। সাউথ ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে শুরু থেকে তিনি নামিয়ে দেন দুই বিদেশি ডেজান ও আলবার্তোকে। আপুইয়ার চোট যাতে না বাড়ে, তার জন্য প্রথম একাদশে রেখেছিলেন দীপক টাংরিকে। প্রতিপক্ষ এত দুর্বল, ম্যাচ যত এগিয়েছে, তত তিনি একের পর এক ফুটবলার বদলে তাঁদের ম্যাচ প্র‌্যাকটিস দিয়ে গেলেন।

৪ মিনিটে গোল উৎসবের শুরু সবুজ মেরুনের। প্রতিপক্ষ বক্সের মাথায় অনিরুদ্ধ থাপা হল ধরে সামনে মনবীরকে দিলে, তিনি আলতো শটে বল জালের ভেতর পাঠান। ১০ মিনিটে থাপার কর্নারে আলবার্তো রড্রিগেজের হেডে বাগানের দ্বিতীয় গোল। ১৯ মিনিটে কর্নার থেকে দেজান ড্রাজিচের মাপা ক্রশে রাহুল বেকে হেডে গোল করে ৩-‌০ করেন। ২২ মিনিটে সাহালের বাড়ানো বলে মনবীরের দ্বিতীয় ও চতুর্থ গোল মোহনবাগানের। ৩২ মিনিটে সাহালের শট পোস্টে না লাগলে, তখনই সবুজ মেরুন ব্রিগেড ৫ গোলে এগিয়ে যেত। ৩৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া সাহালের জোরালো শট আবার পোস্টে লেগে ফেরে। তার আগে সাহাল গোল করার তিনটি প্রচেষ্টা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। বিরতির ঠিক আগে ডেজানের পাস থেকে বক্সের মাঝে সুবিধাজনক অবস্থায় বল পেয়েও, ফাঁকা গোলে বল ঠেলতে পারেননি মনবীর। পারলে তখনই হ্যাটট্রিক হয়ে যেত মনবীরের। ৫৪ মিনিটে আলার্তোর শট পোস্টে লাগায় সেইমুহূর্তে মোহনবাগানের গোল সংখ্যা আর বাড়েনি। তবে ৬০ মিনিটে থাপার কর্নারে মনবীরের হ্যাটট্রিকের গোলে মোহনবাগানের ঝুলিতে ৫ নম্বর গোল। ৬৯ মিনিটে ডেজানের মাইনাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজ গোলে বল পাঠান সাউথ ইউনাইটেডের নোয়েল। বাগানের ৬ নম্বর গোল। ৯০ মিনিটে বদলি সুহেলের গোলে ৭ গোল। সংযুক্তি সময়ে সায়নের পাস থেকে সুহেলের দ্বিতীয় ও মোহনবাগানের ৮ নম্বর গোল। সিআইএসএফের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের দেওয়া ৮ গোল ছুঁয়ে ফেলল বাগান ব্রিগেড।

৩৭ মিনিটে প্রথম একটা গোল করার প্রচেষ্টা নজর কেড়েছিল সাউথ ইউনাইটেড এফসির পক্ষে। বক্সের বাইরে থেকে ড্যানিয়েলের নেওয়া মাটি ঘেঁষা জোরালো শট তৎপরতার সঙ্গে বাঁচান মোহনবাগান গোলকিপার বিশাল কাইথ বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে। সারা ম্যাচে ওই একবারই সাউথ ইউনাইটেডকে চোখে পড়েছিল। ডুরান্ডের সংগঠকরা আশা করি উপলব্ধি করছেন, এইসব নিম্মমানের দল খেলিয়ে টুর্নামেন্টের জৌলুস বাড়ানো দূরে থাক, অদূর ভবিষ্যতে ধরে রাখাও সম্ভব নয়। যুবভারতী স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে জেমি ম্যাকলারেন বলে হাত কামড়েছেন, এমন একটা দলের বিরুদ্ধে মাঠ নামার জন্য তৈরি না থাকায়। যদি নামতেন, এটা ডাবল হ্যাটট্রিক করেও ফেলতেন সম্ভবত। হাতে গোনা সবুজ মেরুন সমর্থকরা মাঠ ছাড়লেন আনন্দে আত্মহারা হয়ে, কিন্তু এমন একটা দলের বিরুদ্ধে জয়ে বাড়তি তৃপ্তি কি মিলেছে?‌

মোহনবাগান:‌ বিশাল, অভিষেক(‌আশিস)‌, বেকে, আলবার্তো, শুভাশিস, ডেজান(‌সায়ন)‌, টাংরি(‌সূর্যবংশী)‌, থাপা, লিস্টন(‌কিয়ান)‌, সাহাল, মনবীর(‌সুহেল)‌।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *