ছবি: ডুরান্ড
মোহনবাগান ৬(সাহাল-৩,মনবীর,ম্যাকলারেন, অভিষেক) সিআইএসএফ ০
মুনাল চট্টোপাধ্যায়: ডুরান্ড কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ সাউথ ইউনাইটেড এফসির বিরুদ্ধে
৮-০ গোলে জেতার সুবাদে কোয়ার্টারফাইনালে যাওয়া নিশ্চিত করে ফেলেছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। সোমবার মোহনবাগান বাহিনীর কাছে কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সিআইএফএফের বিরুদ্ধে গ্রুপের শেষ ম্যাচ ছিল নিতান্তই নিয়মরক্ষার। সেই ম্যাচ জিততে কোনও গা ঘামাতে হয়নি। বরং রীতিমতো ছেলেখেলা করে সেনাবাহিনীর দলকে ৬-০ গোলে হারালো তারা। তিন ম্যাচ থেকে ৯ পয়েন্ট তুলে নিয়ে গ্রুপ লিগের ম্যাচ শেষ করল তারা। বলা ভাল কোয়ার্টারফাইনালের আগে একটা ভাল প্রস্তুতি সেরে নিল মোহনবাগান কোচ পানাগয়টিস ডিমপেরিসের দল। তবে ডুরান্ড কমিটি এই ধরনের দুর্বল দল খেলিয়ে নিজেদের টুর্নামেন্টের জৌলুস কতটা ঠিক রাখতে পারল, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই।
গত ম্যাচে সাউথ ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে দু’অর্ধে ফুটবলারদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলিয়ে ম্যাচ প্র্যাকটিসের সুযোগ করে দিয়েছিলেন বাগানের হেডস্যার পানোস। সেদিন যুবভারতীর গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেছিলেন জেমি ম্যাকলারেন। সোমবার অবশ্য মাঠে নামার সুযোগ পেলেন সিআইএসএফর বিরুদ্ধে ৬২ মিনিটে। মনবীরকে তুলে নিয়ে ম্যাকলারেনকে আনেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ান বিশ্বকাপার ও এ লিগের সর্বাধিক গোলদাতা ৬৮ মিনিটেই সাহালের পাস থেকে গোল করে বোঝালেন, তিনি গোলের বুটটা ফেলে আসেননি, সঙ্গে নিয়েই এসেছেন।
তার অনেক আগে ১৭ মিনিটে প্রথম গোলে বাগান ব্রিগেডের জয়ের উৎসবের শুরু। লিস্টনের পাস থেকে সাহাল গোল করে ফ্লাডগেট খোলেন তিনি। ১৯ মিনিটে বিধা বাধায় দ্বিতীয় গোল সবুজ মেরুনের। মনবীরের বাড়ানো থ্রু ধরে ডানপ্রান্ত দিয়ে উঠে বক্সে মাইনাস রাখলে, ফাঁকায় বল পেয়ে তা গোলের ভেতর ঠেলে দেন সাহালই। ২৪ মিনিটে দলের তৃতীয় গোল পেয়ে যায় বাগান। অভিষেকের নীচু ক্রশ নিয়ন্ত্রণে এনে মনবীর গোলে ঠেলতে কোনও ভুল করেননি। ৩৭ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় বল ধরে নিয়ে গিয়ে সিআইএসএফ গোলকিপার রাজকুমারকে কাটিয়ে ফাঁকা গোলে বল ঠেলে নিজের হ্যাটট্রিক ও দলের ৪ নম্বর গোল পূর্ণ করলেন সাহাল।
প্রথমার্ধে ৪ গোলে এগিয়ে থেকে সাজঘরে গিয়েছিল সবুজ মেরুনের সৈনিকরা। সূর্যের তেজ তখন উধাও। কিশোরভারতীর মাঠে নৈশালোকের আলো জ্বলে উঠেছে। তবে মোহনবাগানের তেজ বিন্দুমাত্র কমেনি। ৬৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা ম্যাকলারেনের গোলে ৫-০ এগিয়ে যাওয়ার পর ৭৩ মিনিটে অভিষেকের গোলে বাগানের হাফ ডজনে এগিয়ে যাওয়ার কোটা সম্পূর্ণ। মাঠ থেকে উঠে যাওয়ার আগে মনবীর ও দু’অর্ধ মিলিয়ে লিস্টন একা এত গোল মিস করেন, সিআইএসএফের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের ৮ গোলে জেতার অঙ্কটা অনায়াসে ছাপিয়ে যেতে পারত। মোহনবাগান ১২ বা তার থেকেও বেশি গোলে জিততে পারত।
কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গন থেকে ৬ গোলে জেতার খুশির পাশাপাশি সবুজ মেরুন সমর্থকরা সঙ্গে নিয়ে গেলেন ফুটবলারদের গ্যালারিতে পাঠানো এক ঝাঁক ফুটবল সঙ্গে নিয়ে।
মোহনবাগান: জাহিদ, অভিষেক, মেহতাব, আলবার্তো(সাজি), শুভাশিস(আশিস), ডেজান(কিয়ান), টাংরি, থাপা(সূর্যবংশী), লিস্টন, মনবীর(ম্যাকলারেন), সাহাল।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
