ছবি : আইএসএল
অলস্পোর্ট ডেস্ক: পাঁচবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে ভারতীয় সিনিয়র ফুটবল দল কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ৩ অক্টোবর। সেকথা ফলাও করে মোহনবাগান দিবসের মঞ্চে পাশে ফেডারেশন সভাপতি কল্যান চৌবেকে নিয়ে ঘোষণা করেছেন বাংলার ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। কিন্তু কথায় আছে না প্রদীপের আলোর নীচেই অন্ধকারের অবস্থান, ভারতীয় ফুটবলের অবস্থাও তাই। একদিকে যখন ভারত-ব্রাজিলের ম্যাচ ঘিরে দেশের ফুটবলপ্রেমী থেকে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের মধ্যে উৎসাহ ও উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ভারতীয় ঘরোয়া ফুটবলে একটা বড় ধাক্কা লাগল, আসন্ন আইএসএল থেকে জামশেদপুর এফসি নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায়।
অতীতের আইএসএল চ্যাম্পিয়ন দল জামেশদপুর এফসি বিবৃতি দিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা ২০২৬-২৭ মরশুমে আইএসএলে অংশ নেবে না। গত মরশুমেই আইএসএল খেলা নিয়ে জামশেদপুর কর্তৃপক্ষ খুশি ছিলেন না নানা কারণে। বিশেষ করে ক্লাব জোটের ‘দাদাগিরিতে’। ক্লাব জোটের অধিকাংশ ক্লাব কর্তারা যখন আইএসএলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে পরিচালনার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন, তখন জামশেদপুর কর্তারা সেটা ভালভাবে নেননি। তাঁরা চেয়েছিলেন আইএসএলের নিয়ন্ত্রণ যাদের হাতেই থাক, ফেডারেশনের সম্মানহানি যেন না হয়। বানিজ্যিক সহযোগী ও টিভি সম্প্রচারের স্বত্ত্বের বিষয়টাও ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই যেন একটা মীমাংসায় আসা উচিত। এনিয়ে ক্লাব জোটের বৈঠকে অন্যান্য ক্লাব প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটা নরম গরম কথাও হয়েছিল জামশেদপুর এফসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে।
তবে বাকি ক্লাবগুলো যখন নানা শর্ত আরোপ করে আইএসএলে অংশগ্রহণের ব্যাপারটা দীর্ধদিন ঝুলিয়ে রেখেছিল,তখন জামশেদপুর এফসি ও নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড এফসি শুরু থেকেই বিনা শর্তে আইএসএলে অংশগ্রহনের সম্মতি দিয়ে রেখেছিল। শেষপর্যন্ত অনেক টালবাহানার পর আইএসএল অনুষ্ঠিত হয়। তবে সংক্ষিপ্ত আকারে। যাতে চ্যাম্পিয়ন হয় ইস্টবেঙ্গল।
গত মরশুমে আইএসএল আয়োজনে একটা তড়িঘড়ি ব্যাপার থাকলেও এবার সেটা ছিল না। বরং ফেডারেশন ও ক্লাব জোট অনেকটা সময় পেয়েছে আইএসএল আয়োজন নিয়ে গতবার যে সমস্যাগুলো ছিল, সেগুলো দূর করার। তার মধ্যে অন্যতম বিষয় ছিল নতুন বানিজ্যিক সহযোগী ও ম্যাচ সম্প্রচারকারী সংস্থার সঙ্গে চুক্তি পাকা করার। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেকাজে আংশিক এগোতে পেরেছে ফেডারেশন ও ক্লাব জোট। এবারও ক্লাব জোট ফেডারেশনের কাছ থেকে সম্মতি আদায় করেছে আইএসএলের পরিচালনভার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে। তার জন্য তারা একটা বড় অঙ্কের টাকা নিজেদের পকেট থেকে দিতে রাজি হয়েছে।
শোনা যাচ্ছিল, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে আইএসএল শুরু হবে। এসব নিয়ে একটা আলোচনা যখন চলছে, তখন ৩ অক্টোবর ভারত ও ব্রাজিলের মধ্যে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলার বিষয়টি এসে পড়ায় সেপ্টেম্বরে আইএসএল শুরু হওয়া নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ভারতীয় দলের ফুটবলাররা ব্রাজিল ম্যাচের জন্য ৩ অক্টোবর পর্যন্ত আটকে থাকবেন। স্বাভাবিকভাবেই কোনও ক্লাব তার আগে আইএসএলের ম্যাচ খেলতে চাইবে না। পরিস্থিতি যা তাতে ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ না হওয়া পর্যন্ত আইএসএল হওয়া সম্ভব নয়।
জামশেদপুর তাদের দেওয়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, আইএসএলে না খেললেও, তারা ভারতীয় ফুটবলের উন্নতির জন্য অন্যভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। তৃণমূল স্তর থেকে সিনিয়র স্তর পর্যন্ত ভারতীয় ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যা যা করার তা তারা করবে। সারা ভারত ঘুরে প্রতিভা খুঁজে এনে তাদের তৈরি করে ভারতীয় দলকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেবে, যা এতদিন ধরে তারা করে আসছে। জামশেদপুর এফসি দল গড়ার অনেক আগে থেকেই ভারতীয় ফুটবলার তৈরি আঁতুড়ঘর হিসেবে কাজ করে আসছে টাটা ফুটবল আকাদেমি।
জামশেদপুর এফসি আইএসএল থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে জামশেদপুর দলের সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে এতদিন ধরে জেআরডি টাটা স্পোর্টস কমপ্লেক্সের মাঠে এসে ফুটবলারদের উৎসাহ জোগানোর জন্য। জামশেদপুর কর্তৃপক্ষ ধন্যবাদ জানিয়েছে দলের ফুটবলার,স্টাফ, কোচ, কর্মীদের, যাঁরা ২০১৭ সাল থেকে দলের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। এআইএফএফকেও ধন্যবাদ জানিয়েছে জামশেদপুর এফসি তাদের এতদিন ধরে পাশে থাকার জন্য।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
