Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ সত্যি সেলুকাস কী বিচিত্র এই দেশ!‌ এই দেশের সরকার, বলা ভাল কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক। আর অবশ্যই ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। একটু খোলসা করে বললে ব্যাপারটা বুঝতে সকলের সুবিধে হবে। হঠাৎ উঠল বাই তো কটক যাইয়ের মতো ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন ঠিক করে ফেলল পানামা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ের সঙ্গে তিনটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে ভারতীয় সিনিয়র ফুটবল দল। তা খেলতেই পারে, কারণ এমন সুযোগ তো ভারতীয় ফুটবলারদের কাছে ৫০ বছরে খুব একটা আসে না। কিন্তু পানামা, ব্রাজিল, উরুগুয়ের বিরুদ্ধে না খেললে নিজেদের ক্ষমতা যাচাই করতে পারবেন না ভারতীয় ফুটবলাররা, এটা যুক্তিসঙ্গত বলে আমি অন্তত মানতে পারছি না।

অনেকে হৈহৈ করে উঠবেন, তাহলে ভারতীয় ফুটবলারদের যাচাই করার সেরা মঞ্চ কী?‌ তেমন প্রথম সারির ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ওপরের দিকে থাকা দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ কোথায় ভারতীয় দলের?‌ তাঁদের উদ্দেশ্য একটা কথাই বলতে চাই, এশীয় স্তরে ভারতীয় ফুটবল দল যখন প্রথম আটে আসার ক্ষমতা রাখে না, তখন পানামা, ব্রাজিল, উরুগুয়ের বিরুদ্ধে খেলে কী লাভবান হবে?‌ সকলেরই জানা, ভারতের পুরুষ ও মহিলা দল এশীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় প্রথম আটে না থাকার কারণে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক আসন্ন ২০২৬ জাপান এশিয়ান গেমসে ভারতীয় ফুটবল দলকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়নি। পুরুষ দল সামনে এফসি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে উঠতে না পারার কারণে এমন সিদ্ধান্তের কবলে পড়েছে, কিন্তু মহিলা দলের সামনে সুযোগ ছিল আইচি-‌নাগোয়া গেমসে অংশ নেওয়ার, এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণের শর্তপূরণ করায়। তবু কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক ভারতের মহিলা ফুটবল দলকেও সুযোগ দিল না।

এতে কী লাভ হল ভারতীয় ফুটবলের?‌ এর আগে এমনই সরকারি গোঁর সামনে পড়ে প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সি এআইএফএফ সভাপতি থাকার সময় পরপর দুটো এশিয়ান গেমসে ভারতীয় পুরুষ দল এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার অনুমতি পায়নি। সেই যে নিজেদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের ক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগটা হাতছাড়া হয়েছিল ভারতীয় ফুটবলারদের, সেই ব্যবধান আজও ঘোচেনি। এবার আবারও সেই অবিবেচক সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক সরকারি চাপে পড়ে। আর ফেডারেশনের কিছু কর্তা নিজেদের কুর্সি বাঁচাতে তা মেনেও নিলেন।

এখানেই শেষ নয়, ভারতীয় ফুটবলারদের সত্যিকারের উন্নতি বা ক্ষমতা যাটাই যাতে হতে পারত, সেই ফিফা আসিয়ান কাপে খেলার সুযোগটাও নিলেন না ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের কর্তারা। ভারতীয় ফুটবল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল ফিফার অনুমোদিত ওই টুর্নামেন্টে। খেললে ভারতের র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতিও ঘটতে পারত ভাল ফল করলে। একইসঙ্গে ভারতীয় ফুটবলারদের অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাসও বাড়ত। একটা সময় পর্যন্ত ফেডারেশন কর্তারা বলে আসছিলেন, তাঁরা পানামা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ে ম্যাচের জন্য অধিকাংশ সিনিয়রদের হাতে রেখে বাকিদের আসিয়ান কাপে খেলতে পাঠাবন। অর্থাৎ এশিয়ন গেমসে যাঁরা খেলতে যেতে পারতেন, তাঁদের নিয়ে দল গঠন করা হবে। কিন্তু সে সিদ্ধন্তও গেল বদলে। আসিয়ান কাপেও ভারতীয় দল অংশগ্রহণ থেকে সরে এল।

ভারতীয় ফুটবলের কী উন্নতি হবে জানা নেই, তবে ফুটবল ফেডারেশনের কর্তারা উৎফুল্ল পানামা, ব্রাজিল আর উরুগুয়ে ম্যাচ নিয়ে। এই তিনটি ম্যাচ আয়োজনে ফেডারেশনের কোনও বাড়তি খরচ নেই। যাবতীয় খরচ জোগাচ্ছে ‘‌গৌরী সেন’‌। অর্থাৎ ম্যাচ আয়োজক এজেন্ট ও স্পনসরের দল। নিজেদের গ্যাঁটের কড়ি খরচ না হলে তো ফেডারেশনের কোনও আপত্তি থাকার তো কথা নয়। বরং এশিয়ান গেমসে বা আশিয়ান কাপ দল পাঠালে সরকারের অর্থ খরচ হত, একইসঙ্গে ফেডারেশকেও আংশিক খরচ বহন করতে হত। পানামা, ব্রাজিল বা উরুগুয়ে ম্যাচের ক্ষেত্রে ফেডারেশনের সে দায় দায়িত্ব নেই।

কয়েকজন প্রাক্তন ফুটবলার, ফুটবল বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলেছেন, পানামা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ে দলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ফুটবল দলের খেলা আয়োজন করতে গিয়ে ৭০ থেকে ১০০ কোটি টাকা খরচ করার পিছনে কী যৌক্তিকতা?‌ তার থেকে এটা ভারতীয় ফুটবলের পরিকাঠামো, উন্নতিতে ব্যবহার করলে লাভ হত বেশি। তাঁদের কথাটা যেমন ভুল নয়, তেমন একথাটাও মনে রাখতে, যে টাকাটা পানামা, ব্রাজিল বা উরুগুয়ে ম্যাচের জন্য বিনিয়োগ করছে বিশেষ কোনও গোষ্ঠী, এজেন্ট বা স্পনসর, সেটা তাদের কাছে এটা একটা ব্যবসা মাত্র। তারা ভারতীয় ফুটবলের উন্নতির কথা ভেবে এই ম্যাচের আয়োজনে এগিয়ে আসেনি। এসেছে নিজেদের লাভ বুঝে নিতে, ব্যবসায় ফায়দা তুলতে। ফেডারেশনের তো এখানে অন্য কোনও ভূমিকাই নেই, জাতীয় শিবিরের জন্য পরিকাঠামো দেওয়া আর কিছু অর্থ ব্যয় করা ছাড়া। আইএসএলের জন্য ফেডারেশন ও ক্লাব জোট যেখানে স্পনসর জোগাড় করতে হিমসিম খাচ্ছে, সেখানে পানামা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ে ম্যাচের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করতে এগিয়ে আসছে বিশেষ একটি গোষ্ঠী, এজেন্ট ও স্পনসর।

আসলে নিজেদের পকেট যেখানে কোনও খরচ নেই, সেখানে ফেডারেশনে ক্ষমতাসীন বর্তমান কর্তারা মনে করছেন, পানামা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মতো দলের সঙ্গে ভারতীয় দলের ম্যাচ করিয়ে নিজেদের নাম কামিয়ে নিতে। বলা ভাল, সামনে ফেডারেশনের নির্বাচন রয়েছে, যার সময় হয়ে গেলেও, ফিফার নির্দেশে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ঝুলে আছে। তারপর নির্বাচন হলে ফেডারেশনের কর্তাদের একাংশ বিশেষ করে সভাপতি কল্যান চৌবে, সেক্রেটারি জেনারেল সত্যনারায়ণের ধারনা, চটকদার ম্যাচ আয়োজনের সুবাদে তাঁরা একটা বাড়তি মাইলেজ পেয়ে যাবেন কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক ব্যাকআপ সহ। তাতেই তাঁরা আবার ক্ষমতায় থেকে যাবেন। এতে ভারতীয় ফুটবলের কতটা উন্নতি বা অবনতি হল, তাতে কী আসে যায়।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...