ছবি: লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে
অলস্পোর্ট ডেস্ক: লালিয়ানজুয়ালা ছাংতের সঙ্গে কথাবার্তা আগেই পাকা হয়ে গিয়েছিল। সরকারি ঘোষণাটাই ছিল শুধু বাকি। সেটাও করে ফেলল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট শনিবার। ছাংতের সবুজ মেরুন জার্সিতে তিন বছরের চুক্তির বিষয়টা প্রকাশ্যে আনল। ভারতীয় ফুটবলে উইং পজিশনে দ্রুতগতি সম্পন্ন ফুটবলার হিসেবে ছাংতের পরিচিতি কারও অজানা নয়। তাঁকে দলে নিয়ে মোহনবাগান নিজেদের আক্রমণভাগের শক্তি আনেকটাই বাড়িয়ে নিল।
গোল করতে ও করাতে দক্ষ মিজো এই অ্যাটাকিং মিডিও কাম উইঙ্গারের ভারতীয় ফুটবলে সুনাম আছে ‘ মিজো ফ্ল্যাশ’ নামে। দৌড়ানোর সময় তাঁর গতি ঘন্টায় ৩৮ কিলোমিটার বা তার বেশি থাকে। এবং সেই দুরন্ত গতিতে উইং থেকে ভেতরে কাট করে ঢুকে প্রতিপক্ষ রক্ষণকে সমস্যায় ফেলতে ও গোলও করতে পারেন ছাংতে। গত চার মরশুমে মুম্বই সিটি এফসির জার্সিতে বারবার প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলে অসংখ্য গোল করেছেন। সংক্ষিপ্ত আকারের ১৩ ম্যাচের আইএসএলে ছাংতে করেন ৪ গোল। মুম্বই সিটির জার্সিতে ৯১ ম্যাচে ছাংতে করেছেন ৩০ গোল। জিতেছেন লিগ-শিল্ড।
ভারতীয় দলের জার্সিতে সমান উজ্জ্বল ও সফল ছাংতে। মিজোরামের ২৯ বছর বয়সী ছাংতে দেশের হয়ে ৫৫ ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রতিপক্ষ জালে বল জড়িয়েছেন ৯বার। এমন একজন দক্ষ ফুটবলারকে দলে পেয়ে উচ্ছ্বসিত মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের নবাগত গ্রিক কোচ পানাগয়টিস ডিমপেরিস। আর ছাংতে নিজেও ভারতের সেরা দলের জার্সিতে ট্রফি জিততে মুখিয়ে আছেন।
মোহনবাগানে সরকারিভাবে যোগদানের পরই ছাংতের প্রতিক্রিয়া, ‘ ভারতের যে কোনও ফুটবলারের সবুজ মেরুন জার্সি গায়ে খেলার স্বপ্ন থাকে। ছোটবেলা থেকেই ভাবতাম, কলকাতায় খেললে মোহনবাগানেই খেলব। সেই স্বপ্ন সত্যি হল। অন্য ক্লাবের প্রস্তাব থাকলেও মোহনবাগানকে বেছে নেওয়ার কারণ ঐতিহ্য ও সাফল্য। দেশের সেরা ক্লাব এটা। এশীয় পর্যায়ে এই ক্লাবের নাম সকলে জানে। এখনও পর্যন্ত ফুটবলার হিসেবে অনেক সুনাম ও সম্মান অর্জন করলেও, মোহনবাগানে না খেললে ফুটবলজীবন অসম্পূর্ণ থেকে যেত। তাই মোহনবাগানের প্রস্তাবে সাড়া দিতে দ্বিধা করিনি। যুবভারতীতে খেলতে নেমে মোহনবাগান সমর্থকদের ভালবাসা, উন্মাদনা ও আবেগ প্রত্যক্ষ করেছি।’
ছাংতে আরও বলেন, ‘ মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট এবার আরও শক্তিশালী দল গড়েছে। স্বদেশি ও বিদেশি মিলিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো ভারসাম্য রয়েছে দলে। আমি যে পজিশনে খেলি, সেখানে মনবীরস লিস্টনের মতো তারকা ফুটবলার আছে। তাদের সঙ্গে লড়ে আমার জায়গা পাকা করতে হবে। সুস্থ ও পেশাদারি মনোভাব নিয়ে খেলে দলে নিয়মিত জায়গা করে নেওয়ার মধ্যে একটা আলাদা তৃপ্তি ও আনন্দ আছে। মোহনবাগানের দলে জাতীয় দলের অনেক সতীর্থ আছে। তাদের পাশে খেলাটাও একটা বাড়তি প্রাপ্তি।’
ছাংতে কলকাতা ডার্বিতে খেলার জন্য বিশেষভাবে মুখিয়ে আছেন। বলেন, ‘ কলকাতায় এর আগে কখনও না খেললেও ডার্বির উন্মাদনার কথা জানা। কলকাতা ডার্বি নিয়ে আমার একটা বাড়তি আগ্রহ আছে। ছেলেবেলা থেকে ডার্বি ফলো করি। প্রায় সব ডার্বি আমি টিভিতে দেখেছি। আসাধারন একটা পরিবেশ থাকে মাঠে। যা বিশ্ব ফুটবলে দেখতে আমরা অভ্যস্ত। এবার মাঠ ভরতি মোহনবাগান সমর্থকদের সামনে সেই ডার্বি খেলার জন্য মনে মনে তৈরি থাকছি। সবুজ মেরুন সমর্থকদের জন্য ডার্বি জিততে জীবন বাজি রাখতেও প্রস্তুত। আর শুধু ডার্বি নয়, এই মরশুমে সব ট্রফি জিততে ঝাঁপাব মাঠে।’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
