অলস্পোর্ট ডেস্ক: একপ্রকার বিনা প্রস্তুতিতেই খেলে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে পৌঁছেছে ইস্টবেঙ্গল। রবিবার ফাইনালে সামনে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। কে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ডুরান্ড কাপ ঘরে তুলবে, তার জন্য দু’দলের সমর্থকদের যুবভারতীর ফাইনালের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে ডুরান্ড কাপ শেষ হলেই ইস্টবেঙ্গল দল বা কোচ হাবাসের চিন্তা কিছু কমবে না। কারণ ডুরান্ড কাপ ফাইনালের প্রতিপক্ষ মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের সামনে আইএসএল শুরু না হওয়া পর্যন্ত এখনই কোনও টুর্নামেন্ট বা খেলা না থাকলেও ইস্টবেঙ্গলের আছে। মোহনবাগান যদি না আইএসএলের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কোনও ঘরোয়া টুর্নামেন্ট বা প্রীতি ম্যাচে অংশ নিলে আলাদা কথা।
কিন্তু ঘরের মাঠে প্লেঅফে কুয়েতের আল আরাবিকে ৪-১ গোলের হারানো লাল হলুদ ব্রিগেডের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-র মূল পর্বে প্রথম ম্যাচ রয়েছে ১৬ সেপ্টেম্বর। তাও সেটা আবার অ্যাওয়ে ম্যাচ। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ জর্ডনের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আল হুসেইনের বিপক্ষে। খেলা হবে আম্মানের ইন্টারন্যাশানাল স্টেডিয়ামে। আল হুসেইন দলে রয়েছেন ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা জর্ডন জাতীয় দলের ৫ ফুটবলার। তাই বলাই বাহুল্য প্রথম ম্যাচেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে হাবাসের দলকে।
ইতিমধ্যেই ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে ভারতের সিনিযর দল ৩ অক্টোবর যুবভারতীতে ব্রাজিল জাতীয় দলের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে অংশ নেবে। তার জন্য ভারতীয় দলের একটা শিবির তো হবেই। অবশ্য তার জন্য ইস্টবেঙ্গলের ১৬ সেপ্টেম্বর আল হুসেইনি ম্যাচ খেলতে যাওয়া বা ফুটবলার পাওয়া নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না। এমনকি ৬ অক্টোবর ভারতের মাটিতে, সম্ভবত কোচিতে, ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে নজর কাড়া দল কেপ ভার্দে জাতীয় দল খেলতে এলেও তার কোনও প্রভাব ইস্টবেঙ্গলের ওপর পড়বে না লাল হলুদের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-র দ্বিতীয় ম্যাচ ১৩ অক্টোবর ঘরের মাঠ যুবভারতীতে থাকায়। অবশ্য যদি না ঠিক পুজোর মুখে এই ম্যাচ আয়োজন নিয়ে কলকাতা ও বিধাননগর পুলিশ প্রশাসন কোনও আপত্তি না জানায় শৃঙ্খলারক্ষার প্রশ্নে। ১৩ অক্টোবর ম্যাচের প্রতিপক্ষ ইরাক স্টার্স লিগের সফল দল আল শোরতা। হার্প নামে পরিচিত আল শোরতা দলে রয়েছেন ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া জর্ডন জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার অধিনায়ক জালান হাসান।
এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-র তৃতীয় ম্যাচে ২৭ অক্টোবর আল সিব স্টেডিয়ামে ইস্টবেঙ্গলের প্রতিপক্ষ ওমানের প্রিমিয়ার লিগে শক্তিশালী দল আল সিব। চার বছর আগে তারা এএফসি কাপ চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল। তবে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব কিছুটা আশান্বিত হতে পারে এটা ভেবে, গতবছর আগস্টে ওমানের আল সিবকে প্লেঅফ ম্যাচে ২-১ গোলে হারিয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টায়ার টু-র গ্রুপ পর্বে খেলার সুযোগ করে নিয়েছিল এফসি গোয়া। এই আল সিবের বিরুদ্ধে ৩ নভেম্বর যুবভারতীতে ফিরতি ম্যাচ রয়েছে ইস্টবেঙ্গলের। ২৪ নভেম্বর যুবভারতীতেই ঘরের মাঠে হাবাসের দল ফিরতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে আল হুসেইনির। ৮ নভেম্বর এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-র গরুপ পর্বে শেষ ম্যাচ খেলবে ইস্টবেঙ্গল বাগাদাদের আল জাওরা স্টেডিয়ামে ৮ ডিসেম্বর আল শোরতার বিপক্ষে।
এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-র ম্যাচের মাঝেই আইএসএল খেতাব ধরে রাখার লড়াই চালাতে হবে ইস্টবেঙ্গলকে। স্বাভাবিকভাবেই কোচ হাবাসকে একটা বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। প্রয়োজন দুটো সমান শক্তির দল তৈরি রাখতে হবে নিজেদের সম্মান বাঁচাতে ও সাফল্য পেতে। একটাই স্বস্তির খবর থাকবে কোচ হাবাস ও তাঁর দলের সমর্থকদের জন্য, ডুরান্ড ফাইনাল খেলার আগে যখন ইস্টবেঙ্গল কোচের হাতে পুরো কোটার বিদেশি নেই, যথেষ্ট প্রস্তুতির অভাব, ফুটবলারদের চোট সমস্যা মাথা ব্যথার কারণ হয়ে আছে, সেটা এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু ও আইএসএল ম্যাচ খেলার সময় থাকবে না বলেই বিশ্বাস।
ভারতীয় ফুটবল দলে ব্রাজিল ও কেপ ভার্দে ম্যাচ থাকায়, ভারতীয় দলের আরও কিছু আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলার ভাবনা ও ইস্টবেঙ্গলের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু সূচী মাথায় রেখেই ভারতীয় ফুটবল ফেডারেন ও ক্লাব জোটকে ১৩ দলের হোম ও অ্যাওয়ে সূচী তৈরি করতে হবে। সব কিছু দেখেশুনে মনে হচ্ছে, অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহের আগে আইএসএল শুরু করা বেশ কঠিন ফেডারেশনের পক্ষে। এবার আর এক দফা ম্যাচের সংক্ষিপ্ত লিগ হবে না। ১৩ দলের ২৪ টি করে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ম্যাচ। ফলে অনেক বেশি সময় লাগবে লিগ শেষ হবে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
