Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

মোহনবাগান ০(‌৪)‌                 নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড ০(‌৩)‌

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌বুধবার গোলকিপার প্রভসুখন গিলের হাতে ভর করে যুবভারতীতে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ডুরান্ড কাপ ফাইনালে উঠেছিল ইস্টবেঙ্গল। আর ঠিক তার পরদিন বৃহস্পতিবার শিলংয়ের মাঠে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে গোলকিপার বিশাল কাইথের কেরামতিতে গতবারের চ্যাম্পিয়ন নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডকে টাইব্রেকারে ৪-‌৩ গোলে হারিয়ে ডুরান্ডের ফাইনালে পৌঁছালো মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। কোয়ার্টারফাইনালেও জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে দীর্ঘ টাইব্রেকারে জয় পেয়েছিল বাগান বাহিনী এই বিশালের হাতে ভর করেই। পরপর তিনবার ডুরান্ড ফাইনালে ওঠার স্বপ্নভঙ্গ হল নর্থ ইস্টের।

ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার প্রভুসুখন ডুরান্ডের প্রথম সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে দিল্লির ফুটবলার পেনার শট সেভ করেছিলেন। তাতেই জয় এসেছিল। আর বাগানের বিশ্বস্ত প্রহরী বিশাল দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের নেওয়া রবিন যাদব ও গোগোইয়ের নেওয়া চতুর্থ ও পঞ্চম শট ঠান্ডা মাথায় তৎপরতার সঙ্গে রুখে দিয়ে দলকে ফাইনালে তুললেন। নর্থ ইস্টের নিনকোভিচ, আলাদিন আজারে ও এতিয়ান পেনাল্টি থেকে গোল করলেও রবিন ও গোগোইয়ের শট বিশাল রুখে দেওয়ায় হার বাঁচেনি। সবুজ মেরুনের হয়ে রাহুল বেকে, শুভাশিস বসু, লিস্টন কোলাসো ও জেমি ম্যাকলারেন পেনাল্টি থেকে গোল করতে এতটুকু ভুল করেননি। সারা ম্যাচে ভাল খেললেও নর্থ ইস্টের গোলকিপার গুরমিত এই চারজনের শট রুখতে পারেননি। এর অর্থ রবিবার ডুরান্ড ফাইনালে আবার কলকাতা ডার্বিতে খেতাবী লড়াইয়ে মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল এফসি ও মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট।

এর থেকে ভাল আর কী চাইতে পারতেন ডুরান্ড কাপের সংগঠকরা। ২০২৩য়ের পর ডুরান্ড ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আবার মোহনবাগান এসজি ও ইস্টবেঙ্গল এফসি। এবারের টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছিল যুবভারতীতে কলকাতা ডার্বি দিয়ে। যা জিতেছিল মোহনবাগান। ফাইনালে দু’‌দল আবার মুখোমুখি। ইস্টবেঙ্গলের সামনে ফাইনাল ডার্বি জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ও মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ। ২০২৩য়ে গ্রুপ পর্যায়ের ডার্বি ম্যাচ হেরেছিল বাগান ব্রিগেড। ফাইনালে অবশ্য ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে খেতাব জিতেছিল তারা। তৎকালীন কোচ জুয়ান ফেরান্দোর প্রশিক্ষণে। এবার ডুরান্ড ফাইনালে উঠল মোহনবাগান এসজি নতুন কোচ পানাগয়টিস ডিমপেরিসের কোচিংয়ে। তবে ফাইনালে যে সবুজ মেরুনের সামনে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করে আছে, সেটা বলাই বাহুল্য। কারণ ডুরান্ডের প্রথম ডার্বিতে হারের পর লাল হলুদ কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস তাঁর দলকে অনেকটাই গুছিয়ে নিয়েছেন। তাই বলতে দ্বিধা নেই রবিবার একটা উপভোগ্য ডুরান্ড ফাইনাল অপেক্ষা করে রয়েছে কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য।

শিলংয়ের প্রতিকূল আবহাওয়া ও মাঠে খেলে ফাইনালে ওঠার জন্য মোহনবাগান কোচ ও ফুটবলারদের বাড়তি কৃতিত্ব দিতেই হবে। সঙ্গে প্রশংসাও প্রাপ্য। দলে চোট সমস্যা রয়েছে। চোটের কারণে ডেজান ড্রাজিচ শিলং যেতে পারেননি দলের সঙ্গে। তারওপর কোয়ার্টারফাইনাল ম্যাচ খেলেই প্রায় বিনা বিশ্রাম ও প্রস্তুতিতে শিলংয়ের অচেনা পরিবেশে সেমিফাইনাল ম্যাচ খেলতে যেতে হয়েছিল বাগান ফুটবলারদের। শিলংয়ের উচ্চতাও যেখানে অস্বস্তির কারণ ছিল বাগানের কাছে।  ম্যাচের আগে শিলংয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে জোরালো বৃষ্টির কারণে মাঠে জল জমেছিল। ঘাসের নীচে জল এতটাই জমে ছিল যে বল ভাল করে গড়াচ্ছিল না। দু’‌দল ফুটবলারদের পক্ষেই পরপর দুটো পাস খেলা কঠিন হয়ে গিয়েছিল। তবু বাগান ও নর্থ ইস্টের ফুটবলাররা নিজেদের মধ্যে দেওয়া নেওয়া করে আক্রমণ হানার কাজটা চালিয়ে যান পুরো ৯০ মিনিট। যার মধ্যে বাগানের আক্রমণের ভাগটাই ছিল বেশি। সারা ম্যাচে লিস্টন, সাহাল ফ্রিকিক সহ দূরপাল্লার শট নিয়ে নর্থ ইস্ট গোলকিপার গুরমিতকে অস্বস্তিতে ফেলেন বারবার। তবে গুরমিত নির্ধারিত ৯০ মিনিটে সেই প্রচেষ্টাগুলো রুখলেও টাইব্রেকারে ব্যর্থ হন।

মোহনবাগান কোচ পানোস শুরুতে প্রথম একাদশে শুধুমাত্র একজন বিদেশি জেলকোভিচকে রেখে আক্রমণ শানিয়েছিলেন ঘরের ফুটবলারদের ওপর বেশি ভরসা রেখে। চোট সারিয়ে দলে ফিরেছিলেন আপুইয়া। পূর্ব পরিকল্পনামতোই নর্থ ইস্টের গোলমেশিন আলাদিন আজারে ও জিতিন এমএসের জন্য মার্কিং রেখেছিলেন কোচ পানোস। তাতে নর্থ ইস্টের কোচ পেড্রো বেনালের তুরুপের তাস আলাদিন বিশেষ কিছু করতে পারেননি এলোমেলো কিছু প্রচেষ্টা করা ছাড়া। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে বাগান কোচ পানোস একাধিক বদল আনেন দলে। পরপর জেমি ম্যাকলারেন, মিগুয়েল ফেরেরা, অনিরুদ্ধ থাপা ও ছাংতেকে নামিয়ে দেন সবুজ মেরুন কোচ আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াতে। তাতেও অবশ্য গোল আসেনি নির্ধারিত সময়ে। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। আর সেই পর্বে নায়ক মোহনবাগান গোলকিপার বিশাল কাইথ দুটি দুরন্ত সেভ করে। গত মরশুমে আইএফএ শিল্ড ফাইনালেও সবুজ মেরুনকে জয় এনে দিয়েছিলেন গোলকিপার বিশাল ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে এমনই সেভ করে।

মোহনবাগান:‌ বিশাল, অভিষেক, বেকে, আলবার্তো, শুভাশিস, কিয়ান(‌ম্যাকলারেন)‌, আপুইয়া, জেলকোভিচ(‌মিগুয়েল)‌, লিস্টন, সাহাল(‌থাপা)‌ ও মনবীর (‌ছাংতে)‌।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...