মুনাল চট্টোপাধ্যায়: অনেক টালবাহানার পর গত মরশুমে একদফার সংক্ষিপ্ত আইএসএলের আয়োজন সম্ভব হয়েছিল অংশগ্রহনকারী ক্লাব ও এআইএফএফের যৌথ উদ্যোগে। লিগ পর্যায়ের প্রতিযোগিতাতেই সীমাবদ্ধ ছিল টুর্নামেন্ট। দীর্ঘ ২২ বছর পর সর্বভারতীয় স্তরে লিগ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় সাফল্য পায় ইস্টবেঙ্গল, ২০২৫-২৬ মরশুমের আইএসএলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে শিল্ড জিতে। কিন্তু সময় ও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে নক আউটের খেলা হয়নি।
এবার নতুন ২০২৬-২৭ মরশুমে আইএসএল ফিরছে পুরোন ফরম্যাটে। লিগ শিল্ডের লড়াইয়ের সঙ্গে ফিরছে নকআউট প্রতিযোগতাও। আইএসএল কবে শুরু হবে তা নিয়ে নানা জল্পনা ছিল। তবে সবকিছুর অবসান ঘটিয়ে ক্লাব জোট ও ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন জানিয়ে দিল, আইএসএল শুরু ১০ অক্টোবর। চলবে ২০২৭ মে পর্যন্ত। প্রচলিত আগের ফরম্যাট মতো হোম ও অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে অংশগ্রহণকারী দলগুলি নিজেদের মধ্যে লিগ পর্যায়ের ম্যাচে অংশ নেবে। শীর্ষ স্থানাধিকারী দল লিগ শিল্ড জিতবে। সেই দল এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-র প্লে অফে অংশ নেবে, বর্তমান এএফসির নিয়মানুযায়ী।
একইসঙ্গে এবার দলগুলি ও তাদের সমর্থকদের জন্য খুশির খবর, লিগ শিল্ড জয়ের পর নকআউটে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ থাকছে লিগ শেষে প্রথম স্থানাধিকারী ৬ দলের কাছে। এই ৬ দল আইএসএল কাপ জেতার জন্য লড়বে। ৮ মাস জুড়ে চলা প্রতিযোগিতায় ১৬৩ ম্যাচে অংশ নেবে অংশগ্রহণকারী দলগুলি।
ভারতীয় ফটবল ফেডারেশন ও ক্লাব জোটের মিলিত উদ্যোগে আইএসএল নতুন জোসে শুরু হচ্ছে। ক্লাব জোটের মডেল অনুসরণ করেই একটা নতুন দিশা পেতে চলেছে ভারতের ঘরোয়া প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে। ২০২৬-২৭ মরশুমের ফরম্যাট, সূচী ও শুরুর দিন ঠিক করার আগে ফেডারেশন ও ক্লাব জোটকে ভারতীয় ও ক্লাব দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলির কথা মাথায় রাখতে হচ্ছে। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ইস্টবেঙ্গল তাদের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-র অভিযান শুরু করছে। এর সঙ্গে ভারতীয় ফুটবল দলের পানামা, ব্রাজিল, উরুগুয়ে ছাড়াও একাধিক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ রয়েছে বিভিন্ন দলের বিরুদ্ধে। এই কারণেই আইএসএল শেষ হতে মে মাস হয়ে যাবে।
এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তাতে ১৩ দল নিয়ে আইএসএল হবে হোম ও অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে। জামশেদপুর এফসি আইএসএল অংশ নেওয়া থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। তারা নিজেদের স্বত্ত্ব ১০০ টাকায় বেচে দিয়েছে গোয়ার ক্লাব চার্চিল ব্রাদার্সকে। আশা করা ফেডারেশন আইএসএলে চার্চিল ব্রাদার্সের অংশগ্রহণে কোনও আইনি ফ্যাকরা তুলবে না। যদিও চার্চিল গত মরশুমে ইন্ডিয়ান ফুটবল লিগ অংশই নেয়নি। বরং যারা ইন্ডিয়ান ফুটবল লিগে অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আইএসএলে প্রোমোশন পেয়েছিল, সেই ডায়মন্ড হারবার এফসি ২০২৬-২৭ মরশুমে আইএসএলে খেলার অনুমতি পায়নি নানা আইনি সমস্যার কারণে। তারা সময়মতো অংশগ্রহণবাবদ ফি জমা করতে পারেনি ফেডারেশনে। আর মহমেডানের খেলার সুযোগ নেই আইএসএলে অবনমন ঘটে যাওয়ায়।
তাই যারা খেলার সুযোগ পাচ্ছে এবার সেই তালিকায় আছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল, রানার্স মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, বেঙ্গালুরু এফসি, চেন্নাইন এফসি, এফসি গোয়া, ইন্টার কাশী, কেরালা ব্লাস্টার্স, মুম্বই সিটি এফসি, নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড , ওড়িশা এফসি, পাঞ্জাব এফসি, স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি, ও চার্চিল ব্রাদার্স (শর্তসাপেক্ষে অনুমতি মিললে)। ২০২৬-২৭ মরশুমের ফরম্যাট অনুযায়ী লিগের প্রোমোশন ও অবনমনের নিয়ম মেনে ডায়মন্ড হারবার সরাসরি অবনমনের আওতায় পড়ে গেছে। তাদের পয়েন্ট শূণ্য ধরে নেওয়া হচ্ছে। আর তাই ২০২৬-২৭ মরশুমে আইএসএলে তারা থাকছে লিগের একবারে শেষ স্থানে শূণ্য পয়েন্ট নিয়ে। ২০২৭-২৮ মরশুমে আইএসএলে খেলার সুযোগ পেতে হলে ডায়মন্ড হারবারকে ২০২৬-২৭ মরশুমে ইন্ডিয়ান ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়ন হতে হবে প্রোমোশন পেয়ে উঠতে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
