Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ ডুরান্ড কাপ জেতার আগেই যুবভারতীতে ১২ আগস্ট এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টায়ার টু-‌র প্লেঅফ ম্যাচে কুয়েতের আল আরাবিকে ৪-‌১ গোলে হারিয়ে মূল পর্বে খেলার যোগ্যতার্জন করেছেন ইস্টবেঙ্গল। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-‌র মূল পর্বে লাল হলুদের অভিযান শুরু হচ্ছে ১৬ সেপ্টেম্বর অ্যাওয়ে ম্যাচ দিয়ে। ইস্টবেঙ্গলের প্রতিপক্ষ জর্ডনের প্রতিপক্ষ আল হুসেইন। সেই ম্যাচ খেলতে যাতে ফুটবলাররা নতুন পরিবেশে ও মাঠে অসুবিধায় না পড়ে, তার জন্য ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস কলকাতা থেকে জর্ডনের আম্মানের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন দল নিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর। ওই ম্যাচে শুধু ভাল ফল করাই নয়, জয়ের লক্ষ্যে ঝাঁপাতে ডুরান্ড কাপ জয়ের পর প্রস্তুতিতে কোনও ফাঁক রাখেননি হাবাস।

আর সেটা আরও বেশি করে বোঝা গেছে, সোমবার বারাসতের মাঠে অনুষ্ঠিত কলকাতা ফুটবল লিগের ডার্বিতে একজনও সিনিয়র ফুটবলকে কোচ হাবাস ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলার জন্য না ছাড়ায়। এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। এক, যে ফুটবলাররা এতদিন খেলে দলটাকে কলকাতা ফুটবল লিগের সুপার সিক্সে তুলেছিল, তাদের ডার্বিতে না খেলালে সেটা হত চরম অণ্যায়। তাদের বঞ্চিত করা হত, একইসঙ্গে তাদের মন ভেঙে দেওয়া হত। দ্বিতীয়ত, কলকাতা ফুটবল লিগের নিয়মরক্ষার ডার্বিতে সিনিয়র ফুটবলারদের খেলাতে গিয়ে একজনেরও যদি চোট লাগত, সেটা মোটেই ভাল হত না হাবাসের জন্য এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-‌র ম্যাচের জন্য।

একইসঙ্গে আইএফএ শিল্ডের খেলা শুরু হওয়ার কথা ২০ সেপ্টেম্বর থেকে। পুরো শক্তির দল ওই টুর্নামেন্টেও যে খেলাবেন ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস আইএসএলের প্রস্তুতি হিসেবে সেটা বলাই বাহুল্য। আইএসএল শুরু হবে ১০ অক্টোবর। তবে শিল্ডের সময় হাবাস পাবেন না এডমুন্ড লালরিনডিকা, জয় গুপ্তা, আনোয়ার আলি ও গোলকিপার প্রভুসুখন গিল। কারণ পানামা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ে ম্যাচের জন্য এই চার ফুটবলার থাকবেন জাতীয় শিবিরে। ৬ অক্টোবর উরুগুয়ে ম্যাচের পর এই ফুটবলাররা লাল হলুদ ব্রিগেডে ফিরবেন। তবে আগেও ফিরতে পারেন ভারতীয় দলের চিফ কোচ খালিদ জামিল যদি তাঁদের চুড়ান্ত দলে শামিল না করেন। ১০ অক্টোবর ইস্টবেঙ্গলের আইএসএলের ম্যাচ থাকবে বলে মনে হয় না। কারণ ঘরের মাঠে যুবভারতীতে ১৩ অক্টোবর ইরাকের দল আল শোরতার বিরুদ্ধে ম্যাচ রয়েছে লাল হলুদের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-‌তে।

কিন্তু সেটা কোনও ব্যাপার নয়। একটা সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছিল ১৩ অক্টোবর যুবভারতীতে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে। সামনেই দুর্গা পুজো। তৃতীয়ার দিন আল শোরতার সঙ্গে ম্যাচ ইস্টবেঙ্গলের। যেহেতু মহালয়া থেকেই কলকাতায় দুর্গা পুজো জোর কদমে শুরু হয়ে যায়, তাই কলকাতা ও বিধাননগর পুলিস প্রশাসন যুবভারতীতে ১৩ অক্টোবর ইস্টবেঙ্গল ও আল শোরতা ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি দেওয়া নিয়ে প্রথমে চিন্তিত ছিল। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের প্রাথমিক আপত্তি ছিল যুবভারতীতে খেলা দেখতে আসা দর্শকদের মাঠে আসা নিয়ে। দুর্গা পুজোর জন্য কলকাতা ও বিধাননগরের সিংহভাগ পুলিশ ব্যস্ত থাকবেন পুজো মন্ডপ ও রাস্তায় থাকা দর্শনার্থীদের সামলাতে। তাই পুলিশ প্রশাসন প্রথমে চেয়েছিল, হয় আল শোরতার সঙ্গে ম্যাচটা কলকাতা তো বটেই বাংলার বাইরে কোথাও গিয়ে খেলুক ইস্টবেঙ্গল ঝামেলা এড়াতে। আর যদি সেটা সম্ভব না হয়, তাহলে দর্শকহীন মাঠে যুবভারতীতে খেলুক ইস্টবেঙ্গল ম্যাচটা নির্দিষ্ট দিনেই। কিন্তু এই দুটো বিষয়ই পছন্দ হয়নি ইস্টবেঙ্গল কর্তৃপক্ষের। কারণ, বাইরে গিয়ে ম্যাচ খেলার অনেক হ্যাপা, বাড়তি খরচ তো আছেই। আর দর্শকহীন স্টেডিয়ামে ম্যাচ খেলা মানে সমর্থকদের ঘরের মাঠে খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত করা।

তবে এই সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে ইস্টবেঙ্গলের তরফে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রকের কাছে চিঠি লেখার পর। ক্রীড়ামন্ত্রকের হস্তক্ষেপে যুবভারতীতেই আল শোরতার বিরুদ্ধে ১৩ অক্টোবরেই এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ খেলবে ইস্টবেঙ্গল। তবে নিরাপত্তার খাতিরে ও পুলিস প্রশাসনের স্ট্রেংথের কথা মাথায় রেখে যুবভারতী স্টেডিয়ামে দর্শক আসন সংখ্যায় কিছুটা কাটছাঁট হতে পারে। তাত অবশ্য লাল হলুদ ব্রিগেডের কোনও আপত্তি নেই। এমনিতেই পুজোর মুখে শারদ উৎসবের মুডে চলে যাওয়া ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের কতজন আল শোরতা ম্যাচ দেখার উৎসাহ বোধ করবেন, সেটা সময়ই বলবে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...