Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ ঘরে যুবভারতীতে প্লেঅফ ম্যাচে কুয়েতের আল আরাবিকে ৪-‌১ গোলে হারিয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টায়ার টু-‌র মূল পর্বে খেলার জায়গা করে নিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। বুধবার জর্ডনের আম্মানে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টায়ার টু-‌র মূল পর্বের প্রথম ম্যাচে লাল হলুদ ব্রিগেডের সামনে জর্ডনের ক্লাব আল হুসেইনি। একে অ্যাওয়ে ম্যাচ, তারওপর শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, লড়াইটা যে কঠিন, সেটা বিলক্ষণ জানেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস।

দল পুরোপুরি সমস্যা মুক্ত এমনও নয়, তবু কোচ হাবাস ও তাঁর ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাসের অভাব নেই। একইসঙ্গে আল হুসেইনি ম্যাচটাকে তাঁরা বিশেষ চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছেন, গত মরশুমে ইস্টবেঙ্গলকে আইএসএল ট্রফি জেতানো কোচ অস্কার ব্রুজোঁর দলের সাফল্য নিয়ে সাম্প্রতিক করা বিতর্কিত মন্তব্যে। গোটা দলটাই তাই চেগে রয়েছে আল হুসেইনি ম্যাচে সেরা দিতে। প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেও, অ্যাওয়ে ম্যাচে গুটিয়ে থাকার পরামর্শ ফুটবলারদের দেননি বর্তমান কোচ হাবাস, বরং জেতার জন্য নিজেদের উজাড় করে দেওয়ার জন্য তৈরি থাকতে বলেছেন।

চলতি মরশুমে আল আরাবিকে প্লেঅফ ম্যাচে হারানোর পাশাপাশি ডুরান্ড কাপ জয়ে লাল হলুদ ব্রিগেডের ফুটবলারদের মধ্যে একটা বাড়তি জোস রয়েছে আল হুসেইনি ম্যাচ খেলতে নামার আগে। আম্মান পৌঁছে দু’‌দিনের অনুশীলনে নতুন পরিবেশ ও মাঠের সঙ্গে অনেকটাই সড়গড় হয়েছেন তাঁরা। মঙ্গলবার সন্ধেতে পেত্রা স্টেডিয়ামে অলুশীলন সেরেছে দল। অতীতে ২০০৫ এএফসি কাপ গ্রুপ পর্বে আল ফয়জালি ও ২০২৮ এএফসি কাপ গ্রুপ পর্বে আল উইদাতের মুখোমুখি হলেও জর্ডনের আল হুসেইনির বিরুদ্ধে এবারই প্রথম সামনা সামনি হচ্ছে ইস্টবেঙ্গল। আল উইদাতের বিরুদ্ধে ২-‌০ গোলে জিতেছিল তারা। এখন দেখার হাবাসের ফুটবলাররা অতীতের মতো উজ্জীবিত ফুটবল খেলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে জয় এনে দিতে পারে কিনা?‌

ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস অবশ্য আল হুসেইনি ম্যাচটা পুরো শক্তি নিয়ে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না। অনেকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে নাইজেরিয় স্ট্রাইকার ইফিয়ং কলকাতায় এসে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। কিন্তু তাঁর দেখা এখনও মেলেনি। আর এক বিদেশি এক লোবা কলকাতা এসে পৌঁছলেন সোমবার রাতে, ইস্টবেঙ্গল দল আম্মানে পা রাখার পর। তাই তাঁর দলের সঙ্গে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই ছিল না। বিদেশি মিডফিল্ডার ক্রিস ইকোনোমিডিসের ফিটনেসে উন্নতি হয়েছে, দলের সঙ্গে আম্মান যাচ্ছেন, কোচ হাবাস জানানোর পরই ওই ফুটবলার এমন অসুস্থ হয়ে পড়লেন, যেতে হল তাঁকে হাসপাতালে। পরে ছাড়া পেলেও, তাঁর আর যাওয়া হয়নি আম্মান। দলের সঙ্গে গেছেন অধিনায়ক রশিদ, মিডফিল্ডার দানি রামিরেজ, ও নবাগত ক্রোয়েশিয়ান ডিফেন্ডার জিবুলিচ। রশিদ পিঠের ব্যথার জন্য আম্মান যাওয়ার আগে সেভাবে অনুশীলন করতে পারেননি। এখনও যে পুরো ফিট সেকথা বলা যাবে না। রামিরেজ এখনও তাঁর চেনা ফর্মে ফেরেননি। আর জিবুলিচ তো দলে নিতান্তই নতুন। এখনও দলের সঙ্গে বোঝাপড়া গড়ে ওঠা দূরে থাক, সতীর্থদের ভাল করে চিনে উঠতে পারেননি। তারওপর ডিফেন্ডার লালচুংনুঙ্গা পাসপোর্ট ও ভিসা সমস্যার কারণে আম্মান যেতে পারেননি মঙ্গলবার পর্যন্ত।

তাই বলতে গেলে ঘরের ছেলেদের ওপরই বেশি ভরসা রাখছেন কোচ হাবাস আল হুসেইনি ম্যাচে। তাঁর সাফ কথা, যাঁরা নেই তাঁদের নিয়ে ভেবে বা মাথা খারাপ করে লাভ কী?‌ বরং যাঁরা আছে, তাঁদের নিয়ে ম্যাচ জেতার জন্য ঝাঁপানো জরুরি। আক্রমণে ডেভিড, জেসিন টিকে, এডমুন্ড লালরিনডিকা, ফিট হয়ে আসা বিষ্ণু, বিপিন, আর মাঝমাঠ ও রক্ষণে জিকসন, আনোয়ার আলির মতো সাহসী ফুটবলারদের ওপর ভরসা রাখছেন তিনি। হাবাসের মতে, এসিএল টায়ার টু-‌তে খেলার সুযোগ পাওয়াটা বড় ব্যাপার। তাই সেটার ফায়দা ওঠানোটা জরুরি। আমি ও দলের প্রতিটি ফুটবলার উত্তেজিত এমন একটা ম্যাচ নিয়ে। সেরা দেওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছে সকলে। অ্যাওয়ে ম্যাচ বলে এক পয়েন্টের লক্ষ্যে রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলার প্রশ্নই নেই। অন্তত আমি সেই দর্শনে বিশ্বাসী নই। দল জেতার লক্ষ্যে আক্রমণাত্মক ফুটবলই খেলবে। অবশ্যই আক্রমণ ও রক্ষণে ভারসাম্য বজায় রেখে। তারপর ৯০ মিনিটের শেষে যা ফল হবে, সেটা মেনে নেব।’‌

ইস্টবেঙ্গল অধিনায়ক রশিদের মতে, ‘‌ আল হুসেইনি গত তিন মরশুম ধরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূল পর্বে খেলছে। তাই ওরা অনেকবেশি অভিজ্ঞ এই ধরনের মঞ্চে। ওদের সঙ্গে লড়াইটা কঠিন, কিন্তু মানসিকভাবে ওদের সঙ্গে সমানে সমানে লড়তে তৈরি আমরাও। লাল হলুদ জার্সির সম্মান ও সমর্থকদের আবেগের কথা মাথায় রেখে।’‌

ইস্টবেঙ্গল ও আল হুসেইনি দুই ক্লাবেই আগে খেলেছেন হিজাজি মাহির। আম্মানে ইস্টবেঙ্গলের হোটেলে এসে লাল হলুদ কোচ হাবাস ও ফুটবলারদের শুভেচ্ছা জানিয়ে গেছেন তিনি।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...