Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদল ঘটে গেছে বেশ কিছুদিন আগে। এবার আইএফএতেও পালাবদলের ইঙ্গিত সভাপতি পদ থেকে অজিত ব্যানার্জি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইস্তফা দেওয়ার ফলে। অজিত ব্যানার্জি যত না বেশি পরিচিত রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বড়দা হিসেবে, তার থেকে কলকাতা ময়দানে অনেক বেশি জনপ্রিয় ‘‌ষষ্ঠীদা’‌ নামে। জলকাদার মাঠে ঘুরে বেড়িয়ে ক্লাব ফুটবলের নাড়ি নক্ষত্র জানা মানুষটি আইএফএ সভাপতি পদে হয়েছিলেন কালীঘাট মিলন সংঘের সাধারন সদস্য হিসেবে ষাঠের দশকে পথ চলা শুরু করে। অজাতশত্রু ষষ্ঠী বিশ্বাসের সঙ্গে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলেরই সম্পর্ক ছিল না, এমনকি মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা ব্যানার্জি থাকাকালীন তাঁকে কোনওদিন বাড়তি অহঙ্কারী হতে দেখা যায়নি। বাড়তি কোনও সুবিধা নিতেও না। তাই রাজ্যে পালাবদলের পর আইএফএ সভাপতি পদ ছাড়াও জন্য তাঁর ওপর কোনও চাপ আসেনি।

তবে অজিত ব্যানার্জি নিজেই সরে দাঁড়ালেন, কেন্দ্রীয় ক্রীড়ানীতির নিয়মে তাঁর সভাপতি পদে থাকা আটকে যেতে পারে বুঝেই। পুজোর পরই আইএফএতে নতুন জাতীয় ক্রীড়ানীতি মেন নির্বাচন হবে। তাই তার আগেই আইএফএ সচিব অনির্বান দত্ত ও রাজ্য ফুটবল সংস্থার অনুমোদিত সব সংস্থার সদস্য ও কর্তাদের উদ্দেশ্যে তাঁর পদত্যাগ করার কথা জানান। যোগাযোগ করলে অজিত বিশ্বাস জানান, অনেক আগেই তিনি বয়সজনিত ও শারীরিক কারণে আইএফএর সভাপতি ছাড়ার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু যেহেতু কলকাতা লিগ চলছিল, তাই তার মাঝে সরে দাঁড়ালে প্রশাসনিক কাজকর্মে সমস্যা হতে পারে বলে, সেটা সাময়িক স্থগিত রেখেছিলেন। এখন লিগ একবারে শেষ পর্যায়ে চুড়ান্ত আকর্ষণীয় পর্যায়ে রয়েছে, তাই সরে দাঁড়ানোর সিন্ধান্ত নিয়েছেন।

অজিত ব্যানার্জি পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন, ‘‌ আইএফএ সভাপতি পদে থাকাটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি। সভাপতি হিসেবে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে যে বয়সে পৌঁছেছি, তাতে কিছুদিনের মধ্যে এই পদে থাকার অযোগ্য হয়ে পড়তাম। সেই সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে পদ ছেড়ে দেওয়াটাই শ্রেয় মনে করেছি। আমার বিশ্বাস আগামী প্রজন্মের প্রশাসকরা বাংলার ফুটবলকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও ফুটবলের প্রতি আমার ভালবাসা অক্ষু্ন্ন থাকবে। আইএফএ আমার কাছে পরিবারের মতো। এখন থেকে পদের বাইরে থেকেও আইএফএর শুভাকাঙ্খী হিসেবে রয়ে যাব।’‌

রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই নানা বদল হচ্ছে। আইএফএতেও যে তার প্রভাব পড়বে বলাই বাহুল্য। ঘরে ও বাইরে আইএফএর বর্তমান সচিব অনিবার্ন দত্তকে অনেক বিরোধিতা সামলাতে হয়েছে ও হচ্ছে। এতদিন মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন অনির্বানের ওপর আসা যাবতীয় ঝড়ঝাপটা সামাল দিয়ে এসেছেন সভাপতি পদে থাকা অজিত ব্যানার্জি। এখন অজিত ব্যানার্জি সরে দাঁড়ানোর পর কে বা কারা সচিব অনির্বানকে বিরোধিতার হাত থেকে বাঁচায়, সেটাই এখন দেখার। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সভাপতি পদে নতুন কে বসবেন?‌ বর্তমানে রাজ্যে ক্ষমতায় আসা সরকারের কোনও প্রভাবশালী কোনও ব্যাক্তি, না ময়দানের পোড়খাওয়া কোনও কর্তা?‌ চলতি বছরের শেষে এএআইএফএফের সভাপতি পদ হাতছাড়া হতে পারে কল্যান চৌবের, যদি না কেন্দ্রীয় সরকারের আশীর্বাদর হাত তাঁর মাথার ওপর থাকে। ফেডারেশন সভাপতি পদ গেলেও কল্যান যে আইএফএর কোনও পদের দখল নিতে আসবেন না, সেটা বলাই যায়। তবে তাঁর ঘণিষ্ঠ, প্রিয় বা অনুগামী কেই আইএফএর মসনদে বসলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। প্রাক্তন সচিব জয়দীপ মুখার্জির সঙ্গে কল্যানের বর্তমানে ঘণিষ্ঠতা খুব বেড়েছে। তাই তাঁর পছন্দের কেউ আইএফএতে ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে নামতে পারেন। তবে এখনও পর্যন্ত যা ইঙ্গিত, বর্তমান রাজ্য সরকারের সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়িয়ে অনির্বান দত্ত সভাপতি পদে বসতে পারেন। কারণ নতুন জাতীয় ক্রীড়ানীতিতে আসল ক্ষমতা থাকবে সভাপতির হাতে। সচিবের ভূমিকা হবে নগন্য। তাই আইএফএ সচিব পদে অনিবার্নের অনুগামী কেউ বসলে ভাল, না বসলেও খুব একটা সমস্যা হবে না অনির্বানের আইএফএর কাজকর্ম চালাতে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...