Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক: নাইজেরিয় স্ট্রাইকার ইফিয়ংয়ের জন্য অপেক্ষা করতে করতে বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল টিম ম্যানেজমেন্ট। অবশেষে তারা আর অপেক্ষা না করে একবছরের জন্য চুক্তি করল পোল্যান্ডের স্ট্রাইকার লুকাস জোলিনস্কির সঙ্গে। পোল্যান্ডের হয়ে অনূর্ধ্ব ২০ জাতীয় দলের খেলা লুকাস পোল্যান্ডর টপ টায়ার লিগে একস্ত্রাকলাসা ক্লাবের হয়ে ২০০র বেশি ম্যাচ খেলেছেন। লুকাসের অন্তর্ভুক্তিতে সামনের শিল্ডের ম্যাচে ও পরের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার ২র ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের হাত শক্ত করল ও বিকল্প বাড়াল।

‌অতীতে ২০০৫ এএফসি কাপ গ্রুপ পর্বে আল ফয়জালি ও ২০২৮ এএফসি কাপ গ্রুপ পর্বে আল উইদাতের মুখোমুখি হলেও জর্ডনের আল হুসেইনের বিরুদ্ধে এবারই প্রথম সামনা সামনি হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। আল উইদাতের বিরুদ্ধে ২-‌০ গোলে জিতেছিল তারা। তেমন একটা জয়ের সুযোগ এসে গিয়েছিল বুধবার ইস্টবেঙ্গলের সামনে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-‌র ম্যাচে আল হুসেইনের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে ২ গোলে এগিয়ে যাওয়ায়। ম্যাচে যথেষ্ট আধিপত্যও ছিল লাল হলুদ ব্রিগেডের। কিন্তু দানি রামিরেজ ও আনোয়ার গোলে এগিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে খেলার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায় ইস্টবেঙ্গল। লাল হলুদের বিচক্ষণ কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস চেষ্টা করেও প্রতিপক্ষ আল হুসেইনের মরিয়া হয়ে হার বাঁচানোর লড়াইকে দমিয়ে রাখতে পারেননি। আল হুসেইন ২ গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায় ও ইস্টবেঙ্গলের নিশ্চিত জয় ছিনিয়ে নেয় ম্যাচ ২-‌২ ড্র করে।

অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট পাওয়া মোটেই খারাপ নয়। বিশেষ করে জর্ডনের আম্মানের মাঠে প্রতিপক্ষ আল হুসেইনিকে চাপে রেখে। যদিও এই ম্যাচ খেলার আগে কলকাতাতে বসে ও আম্মান পৌঁছে ইস্টবেঙ্গলের হেড স্যার হাবাস বলেই দিয়েছিলেন, তাঁর দল অ্যাওয়ে ম্যাচ হলেও এক পয়েন্টের লক্ষ্যে খেলবে না। খেলবে জেতার জন্য। সেই পথেই ম্যাচে হেঁটেছিলেন কোচ হাবাস। তবে সে লক্ষ্যপূরণ হয়নি দ্বিতীয়ার্ধে দলের খেলার ছন্দপতন ঘটে যাওয়ায়। ম্যাচ না জেতায় হাবাসের আক্ষেপ আছে, তবে কোনও হতাশা নেই। এমনকি ফুটবলারদের তিনি দুষছেন না ম্যাচ জিততে না পারায়।

হাবাসের সাফ বক্তব্য, ‘‌ ম্যাচ জিততেই মাঠে নেমেছিল ফুটবলাররা। প্রথমার্ধে খেলার দখল ছিল আমাদের ফুটবলারদের হাতে। ২ গোলে এগিয়েও গিয়েছিল। আরও গোল আসতে পারত সুযোগ সদ্ব্যহার করতে পারলে। তাতে ম্যাচটা পুরোপুরি পকেটে চলে আসতে পারত। কিন্তু জর্ডন শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তাছাড়া ওরা নিজেদের মাঠে খেলেছিল। সঙ্গে দর্শন সমর্থন। সে সুবাদেই দ্বিতীয়ার্ধে ওরা খেলায় ফেরে জোরালোভাবে। আমাদের ফুটবলাররা সেটা সামাল দিতে পারেনি। ২ গোল হজম করে। ম্যাচটা ড্র হয়েছে। ৩ পয়েন্ট পেলে ভাল হত, তবে আগেই বলেছিলাম ৯০ মিনিট লড়াই করা ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার পর যে ফলটা হবে , সেটাই মেনে নেব। তাই এক পয়েন্টেই সন্তুষ্ট থাকছি। আল হুসেইন ম্যাচের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-‌র বাকি ম্যাচগুলোর মোকাবিলায় তৈরি হবে দল।’‌

আল হুসেইন ম্যাচে দানি রামিরেজ নিজে করেছেন এক গোল, আর তাঁর কর্নার থেকে হেডে দলের দ্বিতীয় গোল করেন আনোয়ার। আল হুসেইন ম্যাচ ড্র করা নিয়ে রামিরেজের বক্তব্য, ‘‌ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে খেলে এক পয়েন্ট পেতে সাহায্য করা। যদিও ৩ পয়েন্ট পেতেই মাঠে ঝাঁপিয়েছিলাম, তবু এক পয়েন্ট পাওয়া যথেষ্ট ভাল। জর্ডনের মাঠ থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে ফেরা যে কোনও ভিজিটিং ক্লাবের পক্ষেই কৃতিত্বের। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে দ্বিতীয় গোল করতে পেরে খুশি। আর সেটা এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-‌র মতো বড় মঞ্চে পাওয়ার ফলে। আমার কর্নার থেকে হেডে আনোয়ারের কার গোলটাও দুরন্ত।’‌

রামিরেজ আত্মবিশ্বাসী এসিএল ২র পরের ম্যাচ নিয়ে। ১৩ অক্টোবর ঘরে যুবভারতীতে ইরাকের আল শোরতার মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল। তাঁর মতে, ‘‌ আল হুসেইন ম্যাচে যেভাবে লড়েছি, তাতে ঘরের মাঠে আল শোরতা ম্যাচ জেতার আশা রাখি। সমর্থকদের গর্বিত করতে পারব। তবে আমাদের কয়েকটা জায়গায় উন্নতি করতে হবে। আল হুসেইন ম্যাচে এক দল হিসেবে খেলে ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট পেয়েছি। আল শোরতা ম্যাচে ৩ পয়েন্ট ঘরে তুলতে পারব ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের প্রেরণায়।’‌

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...