Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

‌ইস্টবেঙ্গল ২ (‌রামিরেজ, আনোয়ার)‌             আল হুসেইন ২ (‌মারদি, আসাফ)‌

মুনাল চট্টোপাধ্যায়: একেই বলে চায়ের কাপ ও ঠোঁটের মাঝে ফারাক থেকে যাওয়া। বুধবার আম্মান স্টেডিয়ামর মাঠে জর্ডনের চ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে ২ গোলে এগিয়ে গিয়েও সেই লিড খুইয়ে ২ গোল হজম করে ইস্টবেঙ্গল যেভাবে জেতা ম্যাচ হাতছাড়া করল, তাতে এই উপমা ছাড়া আরপ কিছু মাথায় আসছে না। অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে যেখানে ৩ পয়েন্ট নিয়ে এসে প্রতিবেশী ক্লাবের কর্তা ও সমর্থকদের মনে জ্বালা ধরিয়ে দেওয়ার সুযোগ ছিল লাল হলুদ বাহিনীর সামনে, সেখানে ২-‌২ ড্র করে ১ পয়েন্ট নিয়ে ঘরে ফেরার আক্ষেপটাই বেশি থাকছে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের। তার জন্য ইস্টবেঙ্গলের পুরো শক্তি নিয়ে খেলতে না পারা, চোট, ফিটনেস ও ক্লান্তি সমস্যা কিছুটা হলেও দায়ি।

‌আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিদেশি দলের বিরুদ্ধে ঈর্ষণীয় সাফল্য আছে ইস্টবেঙ্গলের। অতীতে এশিয়া নামী দলকে হারানোর নজির আছে লাল হলুদ ব্রিগেডের। প্রয়াত সুভাষ ভৌমিকের কোচিংয়ে আসিয়ান কাপ জয় তার মধ্যে অন্যতম। মাঝে তেমন বড় কোন্ সাফল্য ছিল না ইস্টবেঙ্গলের। গত মরশুমে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তাদের সামনে এসেছিল এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-‌তে খেলার সুযোগ। প্লেঅফ ম্যাচে আল আরাবিকে যুবভারতীতে ৪-‌১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-‌র মূল পর্বে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। সেই ম্যাচ ও ডুরান্ড কাপ জেতার আত্মবিশ্বাস নিয়ে বুধবার জর্ডনের আম্মান স্টেডিয়ামে আল হুসেইনের মুখোমুখি হয়েছিল লাল হলুদ ব্রিগেড। এই ম্যাচ খেলতে নামার আগে আগের কোচ অস্কার ব্রুজোঁর বিতর্কিত মন্তব্য ইস্টবেঙ্গল শিবিরের অস্বস্তি বাড়িয়েছিল। আর সেই আবহে আল হুসেইন ম্যাচে ভাল ফল করা ছিল বর্তমান কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের কাছে মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি দলের ওপর সেই বিতর্কের প্রভাব পড়তে দেননি। এমনকি দলে চোট ও ফিটনেসের সমস্যা ছিল। শেষমুহূর্তে অসুস্থতার কারণে দলের সঙ্গে আম্মান যেতে পারেননি বিদেশি ক্রিস ইকোনোমিডিস। পাসপোর্ট ভিসা সমস্যায় ছিলেন ডিফেন্ডার লালচুংনুঙ্গা। স্ট্রাইকার ইফিয়ং এসে পৌঁছতে পারেননি এখনও। আর এক বিদেশে একে লোবা এলেন দল আম্মান পৌঁছানোর পর। রশিদ পিঠের ব্যথার কারণে আম্মান যাওয়ার আগে দু’‌দিন অনুশীলন করতে পারেনি। রামিরেজেরও ফিটনেস সমস্যা ছিল। তবু আল হুসেইন ম্যাচের মোকাবিলায় উদ্বিগ্ন ছিলেন না। বরং তিন বিদেশি রশিদ, রামিরেজ ও নবাগত ক্রোয়েশিয়ান ডিফেন্ডার জিবুলিচ এবং ঘরের ফুটবলারদের ওপর ভরসা রেখে আল হুসেইন ম্যাচের কৌশল ও ছক সাজিয়েছিলেন হাবাস।

যেমনটা আগেই বলেছিলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস আল হুসেইন ম্যাচ খেলতে নামার, তেমনই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলা শুরু করে প্রতিপক্ষকে কোনঠাসা করে দেন তাঁর ফুটবলাররা। শুধু তাই নয়, ৯ মিনিটে গোল করে এগিয়েও যায় লাল হলুদ ব্রিগেড। এডমুন্ড লালরিনডিকা উইংয়ে আলগা বল পেয়ে গতি বাড়িয়ে বক্সে ঢুকে পড়ে জোরালো শট নিলে আল হুসেইনের গোলকিপার আবুলাইলা তা আংশিক প্রতিহত করলে বল ছিটকে চলে আসে রামিরেজের পায়ে। ইস্টবেঙ্গলের বিদেশি মিডফিল্ডার সেই বল গোলে ঠেলতে ভুল করেননি।

গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পর ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা আরও বেশি করে উজ্জীবিত হয়ে খেলতে শুরু করেন। কোচ হাবাস আম্মান রওনা হওয়ার আগে কলকাতায় প্রচারমাধ্যমকে বলেছিলেন, অ্যাওয়ে ম্যাচ হলেও তিনি এক পয়েন্টের লক্ষ্যে কখনও খেলবেন না। কারণ তিনি সেই দর্শনে বিশ্বাসী নন। বরং ফুটবলারদের জেতার লক্ষ্যেই ঝাঁপাতে বলবেন। সেই দর্শন মেনেই আক্রমণ ও রক্ষণে ভারসাম্য বজায় রেখে খেলার ওপর আধিপত্য বজায় রাখেন লাল হলুদের ফুটবলাররা। তাই একটা গোল পেয়ে যাওয়ার পর নিজের দলের ফুটবলারদের আক্রমণে ওঠার ক্ষেত্রে কোনওরকম বিধিনিষেধ আরোপ করেননি কোচ হাবাস। বরং রক্ষণাত্মক খোলসে গুটিয়ে না গিয়ে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়িয়ে আল হুসেইনের চাপ বাড়ান ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা। তার সুফল মেলে ৪০ মিনিটে। রামিরেজের কর্নারে ভেসে আসা বল বক্সের মাঝে আল হুসেইন গোলকিপার দখলে নেওয়ার আগেই শূণ্যে লাফিয়ে উঠে অনবদ্য হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন আনোয়ার। তার অল্প আগে এডমুন্ড গোলের সামনে বল পেয়েও নিশ্চিত গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন।

বিরতিতে ২-‌০ গোলে এগিয়ে থেকে সাজঘরে ফিরেছিল ইস্টবেঙ্গলের লড়াকু ব্রিগেড। দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণের ঝাঁজ বজায় থাকলেও আল হুসেইনের ফুটবলাররা মরিয়া হয়ে ওঠেন গোল করে ব্যবধান কমাতে। ৬১ মিনিটে গোল পেয়েও যায় তারা লাল হলুদ রক্ষণের ভুলে। সন্দীপ মান্ডির নড়বড়ে ভাবের কারণে মামুদ আলদীব ইস্টবেঙ্গল বক্সের বাঁদিকে বল কেড়ে নিয়ে তা বাড়িয়ে দেন আল মারদির উদ্দেশ্যে। আল মারদি বল ধরে ইস্টবেঙ্গলের রশিদকে টপকে তা গোলের ভেতর পাঠান গোলকিপার প্রভুসুখন গিলের পাশ দিয়ে।

এই গোলটা বাড়তি অক্সিজেন ও উৎসাহ জোগায় আল হুসেইন শিবিরকে। তারা দ্বিতীয় গোলের জন্য চাপ বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের ওপর প্রবলভাবে। শেষ ১৫ মিনিট চাপটা এত বেশি ছিল, ইস্টবেঙ্গল রক্ষণ সংগঠনের জমাট ভাবটা নষ্ট হয়ে যায়। ইস্টবেঙ্গলের হেড স্যার হাবাসের সম্ভবত মনে হয়েছিল, দলের ফুটবলারদের মধ্যে ক্লান্তি ভর করেছে। আর তাই তিনি একসঙ্গে অনেকগুলো পরিবর্তন করেন দলে। জয় গুপ্তা, দানি রামিরেজ, এডমুন্ড লালরিনডিকাকে তুলে নিয়ে হাবাস নামাই রোহিত দানু, রেনিয়ার ফার্নান্ডেজ ও ডেভিডকে। কিন্তু রোহিত, রেনিয়ার, ডেভিডরা এখনও আন্তর্জাতিক ম্যাচের মঞ্চে চাপ নেওয়ার মতো তৈরি নন, সেটা বোঝা গেছে কিছুক্ষণের মধ্যে। তাঁরা আল হুসেইনের ফুটবলারদের শেষদিককার তীব্র গতি ও আক্রমণের ঝাঁজের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেননি। রশিদ পিঠের ব্যথা সহ্য করেই খেলতে নেমেছিলেন। গোটা ম্যাচটায় লড়লেন ঠিকই, তবে ম্যাচ যত গড়িয়েছে, তাঁর ফিটনেস সমস্যা নজর টেনেছে।

সবমিলিয়ে শেষ ৫ মিনিটে মাঝমাঠ ও রক্ষণের মধ্যে তৈরি হওয়া বাঁধুনি আলগা হয়ে যায়। সেই সুযোগ কাজ লাগিয়ে ৮৭ মিনিটে সমতা ফেরানোর মূল্যবান গোলটা তুলে নেয় আল হুসেইন। বদলি হিসেবে মাঠে নামা ওবেদা আল নামারনার ক্রশ আর এক বদলি খেলোয়াড় আমাদ আসাফ লাল হলুদের গোলে পাঠান ইস্টবেঙ্গলের দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে। তৃতীয় গোলের জন্য আরও একটা মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিলেন আল হুসেইনের ফুটবলাররা। তবে সেই প্রচেষ্টা তাঁদের সফল হয়নি। ঘরের মাঠে হারা ম্যাচ ড্র করে এক পয়েন্ট নিয়ে স্বস্তি পেয়েছে আল হুসেইন।

ইস্টবেঙ্গলের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-‌র পরের প্রতিপক্ষ ইরাকের আল শোরতা যুবভারতীতে ১৩ অক্টোবর।

ইস্টবেঙ্গল:‌ প্রভুসুখন, হার্দিক(‌নরেন্দ্র)‌, আনোয়ার, জিবুলিচ, জয়(‌রোহিত)‌, সন্দীপ, জিকসন, রশিদ, রামিরেজ(‌রেনিয়ার)‌, আসিফ(‌বিপিন)‌, এডমুন্ড(‌ডেভিড)‌।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...