মুনাল চট্টোপাধ্যায়: প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিক্সে অল্পের জন্য মীরাবাই চানুর পদক হতাছাড়া হয়েছিল। পদক না জেতার আক্ষেপ ছিল, কিন্তু ভারতীয় তারকা ভারোত্তলক মীরাবাই হতাশায় ভেঙে পড়েননি। বরং সেদিনও তাঁর মুখে অনাবিল হাসি লেগেছিল। মিক্সডজোনে দাঁড়িয়ে মীরা বলেছিলেন, দিনটা তাঁর ছিল না। তবে তিনি আবার সাফল্যের রাস্তায় ফিরবেন দারুনভাবে। সেটা যে শুধু কথার কথা ছিল না, সেটা মীরাবাই বুঝিয়ে দেন ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে তৃতীয়বার সোনা জয়ের মাধ্যমে। মাঝে দীর্ঘসময় চোটের জন্য বাইরে থাকার পর প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চে ফিরে। টোকিও অলিম্পিক্সে রুপো জয়ী মীরাবাইয়ের একটাই স্বপ্নপূরণ বাকি ছিল। মনিপুরের সফল ভারোত্তলকের পদক ক্যাবিনেটে কোনও এশিয়ান গেমস পদক ছিল না। সেই লক্ষ্যপূরণ করলেন চানু ২০২৬ আইচি নাগোয়া গেমসে ৪৯ বিভাগে রুপো জিতে। ১৯৯৮ ব্যাংকক এশিয়ান গেমসে শেষবার মহিলা ভারোত্তলনে রুপোর পদক এসেছিল করনাম মালেশ্বরীর হাত ধরে। ২৮ বছর পরে মীরাবাইয়ের হাত ধরে আবার এল এশিয়ান গেমসে পদক।
টোকিও অলিম্পিক্সে রপো জয়ী মীরাবাই আইচি নাগোয়াতে স্ন্যাচে ৮৮ কেজি ও ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১১১ কেজি, সবমিলিয়ে মোট ১৯৮ কেজি ওজন তুলে রুপো জিতলেন। দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়ার রি সং গুম স্ন্যাচে ৯৪ কেজি ও ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১২১ কেজি, মোট ২১৫ কেজি রেকর্ডব্রেকিং ওজন তুলে সোনা জেতেন। ২০১৮, ২০২৩য়ের পর ২০২৬য়ে সোনা জয়ের হ্যাটট্রিক করলেন তিনি। ব্রোঞ্জ জেতেন ইন্দোনেশিয়ার উইজয়ানা লুলুক দিয়ানা ১৯১ কেজি ( স্ন্যাচে ৮৭ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১০৩) ওজন তুলে।
চানু স্ন্যাচে ৮৩ কেজি ওপেন তুলে শুরু করেছিলেন পদক জয়ের লড়াই। পরের দু’বারে তোলেন ৮৫ ও ৮৭ কেজি। তখন ছিলেন তৃতীয় স্থানে। কিন্তু ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১১১ কেজি ওজন তুলে রুপো জয় নিশ্চিত করেন ভারতীয় তারকা ভারোত্তলক। এই পদক জয়ের সুবাদে অলিম্পিক, বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ, কমনওয়েলথ গেমস, কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপ, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পদকের সঙ্গে যুক্ত হল এশিয়ান গেমস পদক।
রিও অলিম্পিক্স ২০১৬য় ব্যর্থ হলেও কখনও হাল ছাড়েননি মীরাবাই চানু। টোকিও অলিম্পিক্সে রুপো জয়ের পর কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জেতেন তিনি । বুধবার আইচি নাগোয়া এশিয়ান গেমসে প্রথমবার পদক জেতার পর চানু নিজের উচ্ছাস লুকিয়ে রাখেননি। নিজের নখে ভারতীয় পতাকা এঁকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া চানু বলেন, ‘ এই একটা পদক আমার ছিল না। তাই খুব খুশি। যখন ১০ বছর আগে ওয়েটলিফটিং শুরু করেছিলাম, তখন লক্ষ্য ছিল এশিয়ান গেমসের আসরে নেমে পদক জিতব। দেশের পতাকা উঁচুতে তুলে ধরব। অলিম্পিক্স, কমনওয়েলথ সহ অন্যান্য প্রতিযোগিতায় পদক জিতেছিলাম। প্যারিস অলিম্পিক্সে পদক হাতছাড়া হওয়ার দুঃখ ছিল। তারওপর চোট আমাকে অনেকটা সমস্যায় ফেলেছিল মাঝের কয়েকটা বছর। তবে আমি হাল ছাড়িনি। ফিট হয়ে প্রতিযোগিতার আসরে ফিরে কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতি কিছুদিন আগে। তখন থেকেই এশিয়ান গেমসে পদক জয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম। সেই লক্ষ্যপূরণ হয়েছে। নতুন প্রজন্মের প্রতিযোগীদের বলব, ব্যর্থতা জীবনে কোনও না কোনও সময় আসতে পারে। চোট সমস্যায় ফেলতে পারে। কিন্তু তার জন্য লড়াই ছাড়লে চলবে না। বরং নতুন করে তৈরি হয়ে মনঃসংযোগ বাড়িয়ে পদক জয়ের জন্য ঝাঁপাতে হবে। দেশকে গর্বিত করতে। যেটা আমি পারায় খুব খুশি। এখন এই সাফল্যটা উপভোগ করব। তারপর আবার পরের প্রতিযোগিতার জন্য তৈরি হব।’
বলাই বাহুল্য, মীরাবাই চানুর পরবর্তী লক্ষ্য হবে ২০২৮ লস এঞ্জলস অলিম্পিক্সে পদক জেতা।
