অলস্পোর্ট ডেস্ক: আশিয়ান কাপে অংশ না নিয়ে ভারতীয় ফুটবল দল ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার বিরুদ্ধে নিজেদের ‘ক্ষমতা’ যাচাইয়ের ম্যাচ খেলেছিল। পানামা ম্যাচে ড্র ছাড়া বাকি ২ ম্যাচে ভারতীয় দলের যা পারফরমেন্স , তাতে প্রাপ্তির নিট ফল শূণ্য বললে এতটুকু ভুল হবে না। এরপর আবার ভারতীয় দল চলতি সপ্তাহের শেষ নিউজিল্যান্ড যাবে ১২ নভেম্বর ও ১৫ নভেম্বর দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে অংশ নিতে।
কিন্তু আইএসএল চলার মাঝে বিনা প্রস্তুতিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলে ভারতীয় দলের কী লাভ হবে বোঝা দায়। ৭ নভেম্বর পর্যন্ত জাতীয় দলের জন্য নির্বাচিত ফুটবলাররা আইএসএলে খেলতে ব্যস্ত থাকবেন। এখনও পর্যন্ত যা ঠিক আছে, ভারতীয় দলের ফুটবলাররা পরদিন অর্থাৎ ৮ নভেম্বর বেঙ্গালুরুতে জড়ো হয়ে সেদিন রাতেই নিউজিল্যান্ড রওনা দেবেন। ভারতীয় দলের কোচ খালিদ জামিলকে বলতে গেলে কোনওরকম অনুশীলন ছাড়াই নিউজিল্যান্ড পৌঁছতে হবে। একে তো ফুটবলারদের আইএসএলে খেলার ক্লান্তি থাকবে, তারওপর নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার বিমান ধকল, জেট ল্যাগ কাটতেই সময় লেগে যাবে। ১২ নভেম্বর ম্যাচের আগে ফুটবলাররা নতুন পরিবেশ, সময়ের পার্থক্যের সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন?
খালিদ কি ম্যাজিক জানেন নাকি, যে দু’দিনের প্রস্তুতিতে নিউজিল্যান্ডের মতো দলের বিরুদ্ধে ফুটবলারদের সেরাটা বের করে আনবেন? তাছাড়া ভারতীয় দলের ফুটবলাররাই বা কতটা উজাড় করে দেবেন মাঠে, বাকি মরশুমে ক্লাবের হয়ে খেলার কথা মাথায় রেখে? চোট পেলে তো ফুটবলারদের যেমন ক্ষতি, তেমন মাথায় হাত ক্লাব কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টের। ঘন ঘন ম্যাচ খেলার ফল যে কী হতে পারে, তার প্রমাণ মিলেছে মঙ্গলবার আল সিবের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের এসিএল টু ম্যাচে। শুরুতেই পায়ের পেশিতে টান ধরায় বসে যান আনোয়ার। প্রাথমিক শুশ্রুষা করেও তাঁকে মাঠে রাখা সম্ভব হয়নি। মরশুমের শুরু থেকে ক্লাব ও দেশের হয়ে একটার পর একটা ম্যাচ জান দিয়ে খেলে গেছেন আনোয়ার। তার প্রভাব তো পড়বেই।
এই মুহূর্তে যা খবর, তাতে আনোয়রের পক্ষে ১০ দিন মাঠে নামা সম্ভব নয়।
এর অর্থ আনোয়ারকে ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস ৭ নভেম্বর চেন্নাইন এফসির বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচে পাচ্ছেন না। একইসঙ্গে এটা বলা যেতেই পারে, ভারতীয় কোচ খালিদ জামিলও নিউজিল্যান্ড গামী দলে আনোয়ারকে পাবেন না। এতে তো খালিদকে রীতিমতো সমস্যায় পড়তে হবে। আর যাই হোক, মোহনবাগানে খেলা মেহতাব কোনওমতেই আনোয়ারের বিকল্প হতে পারেন না। পানামা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ে ম্যাচের দলে সন্দেশ ঝিঙ্গানকে রাখেননি খালিদ। এখন আনোয়ার না থাকায় নিজের গোঁ ছেড়ে খালিদকে দলে ফেরাতে হবে সন্দেশকে। তা যদি না করেন তবে রাহুল বেকে বা চিঙ্গলেসানাকে দিয়ে কাজ চালাতে হবে। সেটা করলে ভারতীয় দলের রক্ষণ যে কতটা জমাট হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। ব্রাজিল, উরুগুয়ে ম্যাচের মতো আরও হারের লজ্জা চেপে বসলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
চোট সমস্যায় এখন বেশ কিছু দিন মাঠের বাইরে থাকতে হবে সাহাল আব্দুল সামাদকে। মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের এই ফুটবলারেরও নিউজিল্যান্ড সফরে যাওয়া সম্ভব নয় বলেই মনে হচ্ছে। এক্ষেত্রেও খালিদকে তাঁর বিকল্প খুঁজতে হবে। মোহনবাগান মাঝমাঠের স্তম্ভ আপুইয়া অসুস্থতার কারণে এখনও দলের সঙ্গে অনুশীলনই করেননি। তিনিই বা কীভাবে নিউজিল্যান্ড সফরে যাবেন খেলার মতো ফিট না হলে। যদি তাঁকে জোর করে দলের সঙ্গে খালিদ জামিল নিউজিল্যান্ড নিয়ে যান, তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। আপুইয়ার যদি ভারতের হয়ে খেলতে গিয়ে কোনও চোট হয় বা শারীরিক সমস্যা বাড়ে, তাহলে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট কর্তৃপক্ষ কিন্তু ছেড়ে কথা বলবে না।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
