অলস্পোর্ট ডেস্ক: বাংলাদেশের ঢাকার ন্যাশানাল স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের অভিযান শুরু করছে ভারতীয় ফুটবল দল। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে। বাংলাদেশের ঢাকায় দল নিয়ে পৌঁছে সমস্যায় পড়েন ভারতীয় দলের কোচ নৌশাদ মুসা ও তাঁর সহকারি বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজ। ঢাকায় পৌঁছে ভারতীয় ফুটবল দলের একটি প্রাইভেট হোটেলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঢাকা বিমানবন্দরে ভারতীয় দলকে চার ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় হোটেলের ঘর পেতে। পরে ক্লান্ত শরীরে ফুটবলাররা হোটেলের ঘরে পৌঁছন। কেন এমন বিভ্রাট হল, তার জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের কর্তারা পরস্পরের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছেন। দোষ যারই হোক, এঁদের মধ্যে যে কোনও তালমিল নেই, এটা খুব স্পষ্ট।
এমন একটা টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়া যে কি খুব জরুরি ছিল ভারতীয় দলের জন্য? কতটা লাভবান হবে ভারতীয় দল এতে খেলে? বিশেষ করে জোড়াতালি দিয়ে একটা দল পাঠিয়ে চ্যাম্পিয়ন না হলে ভারতেরই নাম খারাপ হবে। বলতে গেলে বিনা প্রস্তুতিতে সাফে দল নিয়ে গেছেন কোচ নৌশাদ। প্রথমে ১৯ জন ফুটবলার নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। পরে যোগ দিয়েছেন আরও ৪ জন। অন্য দলগুলো যখন তাদের সিনিয়রদের খেলাবে, পুরো শক্তি নিয়ে লড়বে, তখন ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে, যে দলে রয়েছেন মূলত অনূর্ধ্ব ২৩ ফুটবলার।
এর আগে ৯বার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে। সামনে ১০ম বার জেতার সুযোগ। ভারতের ফিফা র্যাঙ্কিং ১৩৮। পাকিস্তানের ১৯৭। দু’দল এর আগে মুখোমুখি হয়েছে ২৯ বার। যার মধ্যে ভারত জিতেছে ১৬ বার, পাকিস্তান ৪ বার, ড্র হয়েছে ৯ বার। শেষবার ভারত ও পাকিস্তান বেঙ্গালুরুর মাঠে মুখোমুখি হয়েছিল ২০২৩ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। ভারত জিতেছিল ৪-০ গোলে। সুনীল ছেত্রী হ্যাটট্রিক করেছিলেন। এক গোলে এসেছিল উদান্তা সিংয়ের পা থেকে।
তবে অতীত জয় ও পরিসংখ্যান মাথায় রাখতে নারাজ ভারতীয় দলের কোচ নৌশাদ মুসা। পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা বলে বাড়তি চাপ আছে বলেও মনে করেন না। তাঁর সাফ বক্তব্য, ‘ অতীতে কী হয়েছে, সেটা বড় কথা নয়। আগের পাকিস্তান দল আর এই পাকিস্তানের শক্তি হবে, এটা ভেবে খেললে ভুল হবে। মাঠে নেমে আমাদের ফুটবলারদের সেরা দিতে হবে ম্যাচ জিততে। ২০২৩ সালে ঘরের মাটিতে কুয়েতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। এখন ঘর থেকে দূরে খেতাব ধরে রাখার জন্য লড়তে হবে। সিনিয়র ফুটবলাররা নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে ম্যাচ খেলতে। তাই অপেক্ষাকৃত নবীন ফুটবলারদের নিয়ে বাংলাদেশে এসেছি খেতাব ধরে রাখতে। নবীন ফুটবলারদের কাছে নিজেদের প্রমাণের এটা বড় সুযোগ। খেতাব জেতা দরকার, কিন্তু তার জন্য বাড়তি চাপ নিয়ে খেলা খারাপ করাটাও ঠিক নয়। বরং ভাল ও উপভোগ্য ফুটবল খেলে সকলের মন জয় করতে হবে ভারতীয় খেলোয়াড়দের।
ভারতের গ্রুপে আছে পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলার পর ১১ নভেম্বর মালদ্বীপের মুখোমুখি হবে ভারত। অন্য গ্রুপে আছে বাংলাদেশ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। দুই গ্রুপের প্রথম স্থানাধিকারী দুটি করে দল সেমিফাইনালে লড়বে ১৪ নভেম্বর। ফাইনাল ১৭ নভেম্বর।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
