Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

আল সিব ২(‌ মেয়ে, জাহির)‌            ইস্টবেঙ্গল ০

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ নুন ছাড়া বিরিয়ানি, আর গোল ছাড়া ভাল খেলার যে কোনও মূল্য নেই, সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেল ইস্টবেঙ্গল ৮৫ মিনিটের গোলে আল সিবের কাছে প্রথম গোল হজম করে। দ্বিতীয় গোল খায় ৯১ মিনিটে। ওমানের মাঠে আল সিবের বিরুদ্ধে গোলশূণ্য ড্র করে ফিরেছিল ইস্টবেঙ্গল। সেখানে মঙ্গলবার যুবভারতীতে ঘরের মাঠে দর্শক সমর্থন সঙ্গে নিয়েও আল সিবের কাছে ০-‌২ গোলে হেরে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-‌র নকআউট পর্যায়ে যাওয়া কঠিন শুধু নয়, কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ল। ৪ ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের সংগ্রহ মাত্র ২ পয়েন্ট। আল সিবের সংগ্রহ ৪ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট। গ্রুপের অন্য দু’‌দল আল হুসেইনির ৩ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট ও আল শোরতার ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট। বিরাট কোনও অঘটনের অঙ্ক ছাড়া ইস্টবেঙ্গলের নকআউটে খেলা সম্ভব নয়।

পরপর ম্যাচ খেলার ক্লান্তি ও যাতায়াতের ধকলের উল্লেখ করলেও, ওমানের মাঠে খেলে আসা দলটাকেই যুবভারতীতে ঘরের মাঠে আল সিবের বিরুদ্ধে ফিরতি ম্যাচে অপরিবর্তিত রাখলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। সম্ভবত তাঁর মনে হয়েছে, দলে বারবার বেশি বদল আনলে, ফুটবলারদের মধ্যে বোঝাপড়া নষ্ট হতে পারে। তাতে ছন্দপতন ঘটা অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে যেখানে ঘরের মাঠে আল সিবের বিরুদ্ধে জেতাটা জরুরি ছিল এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-‌র খেলায় নকআউটে যাওয়ার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে।

এক দল ধরে রেখে খেলানোর হাবাসের সিদ্ধান্তটা অবশ্যই সঠিক। তার ফলটা অবশ্য লাল হলুদ খেলায় ধরা পড়ছিল। শুরু থেকেই আক্রমণ শানিয়ে আল সিব রক্ষণকে অস্বস্তিতে রাখেন বিপিন, রামিরেজ, রশিদ, এডমুন্ড, ডেভিডরা। হচ্ছিল সবকিছুই, কিন্তু কাঙ্খিত গোলটাই আসছিল না ফিনিংশের অভাবে।

যখন ইস্টবেঙ্গল প্রবলভাবে আল সিবকে চেপে ধরেছিল গোলের জন্য। আক্রণের ঢেউ তুলে আনছিল আল সিব বক্সে, ঠিক তখনই ১৮ মিনিটের মাথায় পা চেপে ধরে মাটিতে বসে পড়েন লাল হলুদের রক্ষণের মূল স্তম্ভ আনোয়ার। শুশ্রুষা করেও তাঁকে খেলার মতো উপযোগী করা যায়নি। তিনি মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান। তাঁর জায়গায় নামেন সন্দীপ মান্ডি। আনোয়ারের চোটটা চিন্তা বাড়ালো লাল হলুদ শিবিরের। ৭ নভেম্বর চেন্নাইন এফসির বিরুদ্ধে আইএসএলের অ্যাওয়ে ম্যাচ রয়েছে হাবাস বাহিনীর। তার মধ্যে আনোয়ার ফিট হয়ে মাঠে ফিরতি পারবেন কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। আনোয়ারের ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দু’‌টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নেওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিল।

২০ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যাওয়ার নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করে ইস্টবেঙ্গল। গোলের সামনে থেকে নেওয়া এডমুন্ডের শট আল সিব গোলকিপার ইব্রাহিম সালে দারুনভাবে বাঁচালে, আলগা বল চলে আসে বিপিনের পায়ে। সেই বল বিপিন হাল্কা লবে ফাঁকায় দাঁড়ানো রশিদকে দিলে, রশিদ ২ গজ থেকে অবিশ্বাস্যভাবে বাইরে পাঠান হেড করে। গোটা গোলটা ফাঁকা পড়ে থাকতেও তিনি দ্বিতীয় পোস্টে বল রাখতে গেলেন, এটাই দুর্বোধ্য। বল দ্বিতীয় পোস্টের পাশে ড্রপ পড়ে বেরিয়ে গেল।

প্রথমার্ধের ৩০ মিনিট পর্যন্ত আল সিব ব্যস্ত ছিল গোল বাঁচাতে, আগাগোড়া আটকে ছিল নিজেদের অর্ধে। হাফ চান্স বলতে তারপর শুধু একটাই। ৩১ মিনিটে অ্যাক্সেল মেয়ের শট তৎপরতার সঙ্গে ধরে নেন লাল হলুদ গোলকিপার লাচেনপা। বাকি সময় তাদের অত্যন্ত সাদামাটা লেগেছে।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করে ইস্টবেঙ্গল। ৫৫ মিনিটে জয় গুপ্তার ক্রশ বক্সের ভেতর গোলের সামনে ভেসে এলে এডমুন্ড হেডে সেই বল গোলে রাখতে ব্যর্থ হন। এমন সহজ সুযোগ নষ্ট করলে যে কোনও দলের পক্ষে ম্যাচ জেতা কঠিন হয়ে পড়ে।

গোল আসছে না দেখে ডেভিডকে তুলে কোচ হাবাস নামান লোবাকে। আর মাঝমাঠে সচলতা আনতে জিকসনের জায়গায় রোহিত কুমারকে। লোবা নেমেই ৬১ মিনিটে গোলের ঠিকানা লেখা একটা পাস বাড়িয়েছিলেন রামিরেজকে। সেই বলে রামিরেজের শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে ক্লিয়ার করেন আল সিব গোলকিপার কর্নারের বিনিময়ে।

সুযোগ নষ্টের খেসারত দিয়ে ম্যাচটা শেষপর্যন্ত হেরেই গেল ইস্টবেঙ্গল। ৮৫ মিনিটে জয়ের গোলটা পেয়ে গেল আল সিব আচমকাই। পরিবর্ত জাহির সুলেমানের শট ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে আসে। সেই বল হাসান আমেদ বাড়িয়ে দেন অ্যাক্সেল মেয়ের উদ্দেশ্যে। তাঁর নেওয়া শট ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার লাচেনপাকে হার মানিয়ে গোলে ঢোকে।

ওই গোল খেয়ে খেলা থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। তাতেই ৯১ মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম লাল হলুদের। অ্যাক্সেল মেয়ের থ্রু ইস্টবেঙ্গল মাঝমাঠে ফাঁকায় পেয়ে গতি বাড়িয়ে বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে জালের ভেতর পাঠান জাহির সুলেমান।

ইস্টবেঙ্গল:‌ লাচেনপা, লালচুংনুঙ্গা, আনোয়ার(‌সন্দীপ)‌, জিবুলিচ, জয়, বিপিন(‌হার্দিক)‌, রশিদ, জিকসন(‌রোহিত)‌, রামিরেজ,এডমুন্ড(‌জোলিনিস্কি)‌, ডেভিড(‌লোবা)‌।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...