অলস্পোর্ট ডেস্ক: সত্যি সেলুকাস কী বিচিত্র এই দেশ! শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্র ভবনের সংগ্রহশালা থেকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সারা বিশ্বের গর্বে র নোবেল চুরি যায়। মাঝেমধ্যেই এমন মূল্যবান সম্পদ চুরির কথা জানা যায়। কবিগুরুর নোবেলের মতো যার রার কোনও খোঁজ মেলে না। এবার চুরির তালিকায় যুক্ত হল আর এক অমূল্য পদক। ১৯৮০ মস্কো অলিম্পিক্সে সোনা জয়ী ভারতীয় হকি দলের সদস্য ছিলেন এমএম সোমায়া। তাঁর বাড়ি থেকে অন্যান্য পদকের সঙ্গে চুরি হয়ে গেছে সেই সোনার পদকটিও। ভাবা যায়, ৮০ অলিম্পিক্সের পর ভারতীয় হকি দল আর সোনার মুখ দেখেনি। এরপর দীর্ঘ সময়ের পর ২০২১ টোকিও ও ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিক্সে ব্রোঞ্জ পদক জেতে ভারত।
ভারতের বিভিন্ন পত্র পত্রিকার খবর অনুযায়ী তিনবার অলিম্পিক্সে প্রতিনিধিত্ব করা অর্জুন এমএম সোমায়ার ৮০ মস্কো অলিম্পিক্সে জেতা সোনার পদক চুরি গেছে গতমাসে তাঁর বেঙ্গালুরুর বাড়ি থেকে। ভারতীয় হকি দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সোমায়া ইতিমধ্যেই কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারকে চিঠি দিয়ে এই পদক চুরির কথা জানিয়েছেন। মস্কো অলিম্পিক্সের সোনার পদকের সঙ্গে সোমায়ার বেঙ্গালুরুর থিপ্পাসান্দ্রার বাড়ি থেকে ২৮ অক্টোবর ভোর রাতে চুরি গেছে আরও তিনটি আন্তর্জাতিক পদক। সেগুলি হল ১৯৮২ নিউ দিল্লি এশিয়ান গেমসের রুপোর পদক, ৮৬ সিওল এশিয়াডের ব্রোঞ্জ পদক, ও ৮২ আমস্টারডাম চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ব্রোঞ্জ পদক।
চোর সোনা, রুপো, ব্রোঞ্জ পদক ছাড়াও ঘর থেকে নিয়ে গেছে সোনা ও রুপোর অলংকারের সঙ্গে নগদ ৩০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে যার মূল্য আনুমানিক সাড়ে ৩ লাখ টাকা। অলিম্পিক্স বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় জেতা পদকগুলির তো টাকায় কোনও মূল্যায়ন হতে পারে না। সেগুলি অমূল্য সম্পদ, শুধু সোমায়ার ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, দেশেরও।
কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠিতে ৬৭ বছর বয়সী সোমায়া লিখেছেন, ‘ একটা অলিম্পিক সোনার পদক একজনের ক্রীড়াবিদের ব্যক্তিগত অ্যাচিভেমেন্টের থেকেও অনেক বড়। কারণ এর সঙ্গে দেশের সম্মান জড়িয়ে আছে খেলোয়াড়ের রক্ত ঘাম ঝরানোর পাশাপাশি। খেলাধুলোর সর্বোচ্চ গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ মঞ্চে এই প্রাপ্তির কারণে। ভারতীয় হকিতে এটাই আমাদের শেষ সোনা জয়। এর তাৎপর্য ব্যক্তিগত প্রাপ্তির থেকে অনেক বড়।’ যাতে এগুলি ফেরত পাওয়া যায়, তার জন্য সোমায়া জোরালো আবেদন রেখেছেন।
ইন্দিরানগর পুলিশ একটি কেস রেজিস্টার করেছে এই চুরির ব্যাপারে। সিসিটিভি ফুটেজে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি দেখে তাদের ধরার ব্যাপারে সক্রিয় হয়েছে পুলিশ। যাতে চুরি যাওয়া পদক ও অন্যান্য মূল্যবান বস্তু ফেরত পাওয়া যায়। কবিগুরুর নোবেল আজ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। দেখা যাক, সোমায়ার অলিম্পিক্সের সোনার পদক সেখানকার পুলিশ উদ্ধার করতে পারে কিনা।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
