Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

চেন্নাইন এফসি ৫(‌ব্রাইসন-‌২, রামন, ইরফান-‌২)‌  ইস্টবেঙ্গল ৩(‌লোবা, রামিরেজ, ডেভিড)‌

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ দীপাবলীর রাতে অন্ধকারে ডুবল ইস্টবেঙ্গল। একা আনোয়ার না থাকতে কী হয় সেটা দেখা গেল চেন্নাইন এফসির বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের নড়ূবড়ে ভাবে। লাল হলুদ কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস রক্ষণ জমাট করতে আনোয়ারের বিকল্প হিসেবে জিবুলিচের সঙ্গে সন্দীপ মান্ডিকে জুড়ে দিয়েছিলেন। লেফট ব্যাকে জয় গুপ্তাকে রেখে রাইটব্যাকে লালচুংনুঙ্গাকে। কিন্তু আনোয়ারের অভাব ঢাকার মতো ক্ষমতা এঁদের কারও ছিল না। পারেওনি। আর তাতেই চেন্নাইনের গোলে ৩ বার ঢুকিয়ে ৫ গোল হজম করে ম্যাচ হারতে হল ইস্টবেঙ্গলকে। আইএসএলের প্রথম ২ ম্যাচে জয় পেলেও তৃতীয় ম্যাচে চেন্নাইয়ের মাঠে চেন্নাইন এফসির কাছে ৩-‌৫ গোলে হারল লাল হলুদ।

৪ মিনিটের মাথায় গোল করে এগিয়ে যায় চেন্নাইন। মাঝমাঠে বল ধরে মাদি তালাল ডানদিকে বাড়িয়েছিলেন রামনকে। তিনি ইস্টবেঙ্গল বক্সে মাইনাল রাখলে, চলন্ত বলে আলতো ব্যাক হিল করেন ইরফান। বল চলে যায় ফাঁকায় দাঁড়ানো ব্রাইসনের কাছে। তিনি জোরালো শট হার মানান লাল হলুদ গোলকিপার প্রভুসুখনকে।

গোল খাওয়ার পরও নিজেদের গোছাতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। চেন্নাইন আক্রমণের ঝাঁজ অব্যাহত রেখেছিল। ১৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোল পেয়েও যায় লালচুংনুঙ্গার দোষে। ব্রাইসন যখন বক্সের বাইরে বল ধরেন, তখন লালচুংনুঙ্গা সামনেই ছিলেন। কিন্তু তিনি ব্রাইসনকে ব্লক করতে ব্যর্থ হন। বরং ব্রাইসনকে শট নেওয়ার জন্য ফাঁকা জায়গা করে দেন। ব্রাইসন উঁচু শট নিয়ে বল গোলকিপার প্রভুসুখনের নাগাল এড়িয়ে দ্বিতীয় পোস্টে লেগে গোলে ঢোকে।

২ গোল হজমের পর সম্বিত ফিরেছিল লাল হলুদ ব্রিগেডের। ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস প্রথম একাদশে রাখেননি এডমুন্ড ও ডেভিডকে। বদলে শুরু থেকে ব্যবহার করেন লোবা ও বিষ্ণুকে। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল রক্ষণ নিজেরা এতটাই চাপে ছিল, আক্রমণ তুলে আনার কোনও সুযোগ পায়নি। তাও এর মাঝে চেন্নাইন রক্ষণকে পরীক্ষার মুখে ফেলার চেষ্টা করছিলেন রামিরেজ ছটফটানি দেখিয়ে। ২৯ মিনিটে রামিরেজ প্রতিপক্ষ ফুটবলারের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে সামনে লোবাকে দিলে, তিনি জোরালো উঁচু শটে গোল করে এক গোলের ব্যবধান কমান(‌২-‌১)‌।

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে হ্যামস্টিংয়ে টান ধরায় উঠে যান চেন্নাইনের লাইভওয়্যার মাদি তালাল। মনে হয়েছিল, তালাল উঠে যাওয়ায় ইস্টবেঙ্গল বুঝি প্রতিপক্ষকে পেড়ে ফেলবে। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের হাল এত খারাপ আনোয়ার না থাকায়, আর লালচুংনুঙ্গার অবস্থা এত খারাপ, খনি বললেও ভুল হবে না, চেন্নাইনকে গোল করে এগিয়ে যাওয়ার মত সিচুয়েশন তিনি তৈরি করে দিলেন। বল নিয়ে ব্রাইসন ঢুকে পড়লে লালচুংনুঙ্গা তাঁকে আটকাতে পারেননি। সামনে ছিলেন জিকসন। তাঁর পা লেগে পড়ে যান ব্রাইসন বল নিয়ে এগোতে গিয়ে। রেফারি হরিশ কুন্ডু চেন্নাইনের অনুকূলে পেনাল্টি দিতে দ্বিধা করেননি। রামন পেনাল্টি থেকে গোল করে ৩-‌১ করেন।

বিরতির পর ইস্টবেঙ্গল গোল করে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল। ৪৭ মিনিটে রামিরেজের থ্রু লোবার পায়ে যায় বক্সের মাঝে। লোবা শট নিলে তা হাতে লাগে সামনে দাঁড়ানো চেন্নাইনের শাহিফের। রেফারি পেনাল্টি দেন। রামিরেজের পেনাল্টি গোলে ৩-‌২ হলেও লাল হলুদের কাঁপুনি ধরা রক্ষণ আবার ডোবালো। এবারও গোল হল সেই লালচুংনুঙ্গার দিক দিয়ে। ৫৯ মিনিটে রামনের জোরালো পাস তালালের পরিবর্ত হিসেবে নামা হারিতার পায়ে লেগে বক্সে এলে ইরফান সেই বল গোলে পাঠান(‌৪-‌২)‌।

ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস রক্ষণের হাল ফেরাতে লালচুংনুঙ্গাকে তুলে হার্দিক ভাটকে নামান। দলে একাধিক পরিবর্তন আনেন আক্রমণে জোস আনতে। নামিয়ে দেন ডেভিড, এডমুন্ডকে। এতে ইস্টবেঙ্গল আক্রমণে সামান্য হলেও চনমনে ভাব এসেছিল। কিন্তু আনোয়ারবিহীন ইস্টবঙ্গল রক্ষণের বেহাল অবস্থা তো ছেঁড়া মশারির ফুটোর মতো। আর তাই ৬৭ মিনিটে রামনের থ্রু থেকে ইরফান নিজের দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোল করতে ভুল করেননি(‌৫-‌২)‌। তবে এই গোলের সময় ইরফান অফসাইডে ছিলেন বলে মনে হয়েছে। তবে লাইন্সম্যান অফসাইড দেননি। রেফারিও গোল বাতিল করেননি। আইএসএলে রেফারিং নিয়ে যা প্রহসন চলছে, বলতে গেলে ভুলে ভরা রেফারিং নিয়ে দলগুলো যা ভুগছে, তাতে এমন ভুল তো এখন রোজই ঘটছে। তবে এই গোলটা না হলেও ইস্টবেঙ্গলের হার বাঁচত না।

৯১ মিনিটে চেন্নাইন রক্ষণের ভুলে বল পেয়ে সামনে ফাঁকা জমি পেয়ে বক্সে ঢুকে কোনাকুনি প্লেসিং শটে চেন্নাইন গোলকিপার নওয়াজকে হার মানিয়ে ডেভিড দলের তিন নম্বর সান্ত্বনা গোল করলেও, হার বাঁচেনি।

ইন্টারন্যাশানাল ব্রেকের পর ২০ নভেম্বর ঘরের মাঠে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল। ওই ম্যাচে চোট সারিয়ে আনোয়ার না ফিরলে রক্ষণের বেহাল অবস্থা বদলাবে না। ফরোয়ার্ডরা গোল পেলেও ম্যাচ জেতা কঠিন হয়ে যাবে। সবচেয়ে বড় কথা, ২০ নভেম্বর ম্যাচের পর ইস্টবেঙ্গলকে খেলতে হবে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের বিরুদ্ধে ২৯ নভেম্বর মেগা ডার্বিতে।

ইস্টবেঙ্গল:‌ প্রভুসুখন, লালচুংনুঙ্গা(‌হার্দিক)‌, জিবুলিচ, সন্দীপ, জয়, বিপিন(‌দানু)‌, রশিদ, জিকসন, বিষ্ণু(‌এডমুন্ড)‌, রামিরেজ(‌রোহিতকুমার)‌, লোবা(‌ডেভিড)‌।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...