অলস্পোর্ট ডেস্ক: এশিয়ান গেমসে হকিতে ভারতীয় পুরুষ দলকে সেমিফাইনালে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছিল পাকিস্তান। শেষমুহূর্তের গোলে জিতে ফাইনালে ওঠে ভারত। হকির মতো ক্রিকেটে ভারতীয় দল জুজু পাকিস্তানের কাছে। বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পাকিস্তান ক্রিকেট দলের জেতার কোনও পরিসংখ্যান নেই ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে। তাই মনে হয়েছিল ২০২৬ আইচি নাগোয়া এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ফাইনালে অনায়াসে পাকিস্তানকে হারিয়ে সোনা জিতবে পাকিস্তান। কিন্তু জয়টা যতটা সহজে আসবে ভাবা হয়েছিল, সেভাবে আসেনি। টি২০ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শনিবার ভারত শুরুতে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২১১ রান তুলেছিল। সেই রান তাড়া করে ২০ ওভারে জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল পাকিস্তান। ৬ উইকেট খুইয়ে ১৯২ রান করে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছিল। ১৯ রানে জিতে হ্যাংঝৌ ২০২৩ এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের পুনরাবৃত্তি করল শ্রেয়স আইয়ারের ভারত আইচি নাগোয়াতে।
ভারত ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে খেলা শুরু করলে বৈভব সূর্যবংশী দ্বিতীয় ওভারে মারমুখী মেজাজে পরপর দুটি ছক্কা মেরে পাকিস্তান বোলরাদের মনোবলে চিড় ধরিয়ে দেন। বৈভব নিজে ১৫ রান করে আউট হয়ে গেলেও, তাঁর ওপেনিং পার্টনার অভিষেক শর্মা ২০ বলে ৫০ রানে পৌঁছে ভারতের ইনিংস মজবুত করার পথে হাঁটেন। অভিষেকের ৬১ রান করার পিছনে অবশ্য পাকিস্তানের নড়বড়ে ফিল্ডিং দায়ি। দু’বার তাঁর ক্যাচ ফেলেন পাকিস্তান ফিল্ডাররা। ৪৬ রানে অভিষেককে রান আউট করার সুযোগটাও নষ্ট করেন তাঁরা।
অভিষেক ৬১ রানে ও ইশান কিষাণ ২০ রানে প্যাভিলিয়ানে ফিরে গেলে পাকিস্তান বোলাররা ভারতীয় ব্যাটারদের কিছুক্ষণের জন্য বেঁধে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। ১৫ ওভারে ভারত ৫ উইকেট খুইয়ে ১৩৩ রান তোলে। সেখানে থেকে বিধ্বংসী মেজাজে ব্যাট করে তিনক ভার্মা(৫১) ও শিভম দুবে(২৭) শেষ ৫ ওভারে ৬২ রান যোগ করে ভারতকে ২১১ রানে পৌঁছে দেন।
টি২০ ক্রিকেটে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে ভাল স্কোর পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ২০৮-৩। শনিবার জাপানের মাঠে ভারতের করা রান তাড়া করে প্রথম উইকেটের জুটিতে ৩.৪ ওভারে ৩৩ রান তুলেছিলেন শাহিবজাদা ফরহান(১০) ও মাজ সাদাকাত। কিন্তু সাদাকাত ২৩ রানে আউট হওয়ার পর মনে হয়েছিল পাকিস্তান ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে যাবে। কিন্তু হাসান সহজে হার মানতে চাননি। ৫টি ছক্কার সাহায্যে হাসান ২৮ বলে ৫০ রানে পৌঁছে যান। সইম আয়ুবের সঙ্গে জুটিতে হাসান যোগ করেন ৮৭ রান। যখন তাঁরা ক্রিজে জমে যাচ্ছিলেন, তখন ভারতীয় বোলার দুবের বলে আয়ুব(২৯) আউট হলে ভারতীয় শিবিরে স্বস্তি আসে। ১৫ ওভারে ১২৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের কাজটা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে হাসান হাল ছাড়েননি। ম্যাচ জিততে শেষ ৩ ওভারে ভারতের দরকার ছিল ৫২ রান। ওয়াশিংটনের বলে আব্দুল সামাদ আউট হলে ১৬৮ রানে ৫ উইকেট খুইয়ে চাপ পড়ে পাকিস্তান। শেষ ২ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ৪৪ রান। ১৯তম ওভারে যশপ্রীত বুমরা মাত্র ১১ রান দিলে শেষ ওভারে ৩৩ রান তোলা অসম্ভব কাজ ছিল পাকিস্তানের জন্য। দুবের করা শেষ ওভারের শেষ বলে ছয় মারতে গিয়ে হাসান ৯৬ রানে(৫১বল) আউট হলে পাকিস্তানের সোনা জেতার স্বপ্ন শেষ হয়।
বাংলাদেশকে ৬৩ রানে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জেতে। একমাত্র আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নিরপেক্ষ জায়গায় ভারত ও পাকিস্তান মুখোমুখি হয়। ম্যাচ শুরুর আগে দু’দলের ক্রিকেটাররা হাত মেলান না। সেটা এশিয়ান গেমসেও দেখা গেছে। এশিয়ান গেমসের পদক প্রদান অনুষ্ঠানেও বিস্তর নাটক হল। ভারতীয় ক্রিকেটারদের সোনার পদক দিতে পুরস্কার মঞ্চে পৌঁছতে অনেকটা দেরি করেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ। ভারতীয় ক্রিকেটারদের পদক দিয়ে তিনি চলে যান। বিতর্ক এড়াতে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটারদের পদক দেন এশিয়ান গেমসের কর্তারা। কেন জয় শাহর আসতে দেরি হল, আর কেনই বা পদক দেওয়ার পরিকল্পনায় বদল ঘটল, তার কোন ব্যাখ্যা দেননি আয়োজকরা।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
