মুনাল চট্টোপাধ্যায়: এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র প্রথম ম্যাচে জর্ডনের মাটিতে আল হুসেইনের বিরুদ্ধে ২ গোলে এঘিয়ে গিয়েও ২ গোল হজম করে জয় হাতছাড়া করেছিল ইস্টবেঙ্গল। যুবভারতীতে দ্বিতীয় ম্যাচে ইরাকের আল শোরতার সঙ্গে খেলায় আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে দু’বার এগিয়ে গিয়েও ৩ গোল হজম করে ম্যাচ হেরেছিল লাল হলুদ। গ্রুপের অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী দল ওমানের আল সিব। কিন্তু ওমানের মাঠে তাদের হারাতে পারেনি আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের দল। গোলশূণ্য ড্র করে।
এর ফলে ৩ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে ভাল জায়গায় আছে ইস্টবেঙ্গল, এমনটা বলা যাবে না। বরং বলা যেতে পারে মঙ্গলবার ঘরের মাঠে আল সিবের বিরুদ্ধে ফিরতি ম্যাচ খেলার আগে চাপেই আছে তারা। কারণ নক আউটে যাওয়ার আশা জিইয়ে রাখতে হলে যুবভারতীতে আল সিবকে হারাতেই হবে। কোচ হাবাস থেকে অধিনায়ক রশিদ বলেই দিলেন, তাঁদের কাছে আল সিবটা মাচটা ফাইনালের সমান। আগে এই ম্যাচটা থেকে ৩ পয়েন্ট পেতেই হবে, তারপর বাকি দুটো ম্যাচ নিয়ে ভাবা যাবে।
সেটা যে অসম্ভব কিছু ব্যাপার, এমন নয়। কারণ এখনও পর্যন্ত গ্রুপের কোনও ম্যাচই আহামরি খেলেনি আল সিব। বরং ইস্টবেঙ্গল ওমানের মাঠে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা তুলে ধরতে না পারায়, আল সিবের খেলা সামান্য হলেও নজর টেনেছিল। ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা ওমানের মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতে পারেননি এটা মানতে দ্বিধা করেননি ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস। বলেই দিলেন, কী কারণে বারবার খেলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছিলেন ফুটবলাররা, আর সেসুযোগ কাজে লাগিয়ে চাপ বাড়াচ্ছিল আল সিব, সেটা তাঁর কাছেও দুর্বোধ্য। তবে মঙ্গলবার যুবভারতীতে দর্শক সমর্থন সাথে নিয়ে উন্নত ধরনের ফুটবল খেলতে হবে দলকে ম্যাচ জিততে।
একইসঙ্গে কোচ হাবাস তাঁর সমস্যাটাও ব্যক্ত করেন। তাঁর বক্তব্য থেকে যেটা মূলত উঠে এসেছে, সেটা হল আল সিবেও থেকেও হাবাসের চিন্তা ফুটবলারদের শারীরিক ধকল। বলেন, ‘ একটার পর একটা ম্যাচ খেলে চলেছে দল। তারওপর অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলার ক্নান্তি। ওমান থেকে ফিরে রিকভারির পাশাপাশি ট্রেণিংয়ের সময়ই পাইনি। ফুটবলারদের ভুল ত্রুটি নিয়ে কাজ করার সময় কোথায় দুটো ম্যাচের মাঝে? এসিএল টু-র সঙ্গে আইএসএলের ম্যাচও খেলতে হচ্ছে ফুটবলারদের। এই দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজ, চরিত্র ও মানের ম্যাচ। তার মাঝেই ভাল খেলে ম্যাচ জেতার চেষ্টা করতে হচ্ছে।’
আর সেকারণে ফুটবলারদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলার কথা ভাবছেন তিনি। বললেন, ম্যাচের আগে ফুটবলারদের ফিটনেস ও তারতাজা ভাব দেখে ঠিক করবেন, কাকে প্রথম একাদশে ব্যবহার করবেন। তবে একসঙ্গে দলে অনেক বদল আনলে ভারসাম্য নষ্ট হবে। শুরু থেকে ডেভিড বা এন্ডমুন্ডের জায়াগায় লোবা বা অন্য বিদেশিদের ব্যবহার করবেন কিনা, এই প্রশ্নটা সযত্নে এড়িয়ে গেলেন। বরং বললেন, তাঁর কাছে দেশি ও বিদেশি সমান। যে ভাল খেলার জায়গায় থাকবে, সেই সুযোগ পাবে। কারা খেললেন সেটা বড় কথা নয়, ম্যাচ জিততে হলে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে গোল পেতে।
ইস্টবেঙ্গল অধিনায়ক মিডফিল্ড জেনারেল রশিদও মানছেন আল সিব ম্যাচে প্রত্যাশামতো ভাল খেলতে পারেনি দল। তিনিও কোচের সঙ্গে একমত, প্রস্তুতির জন্য সময় মিলছে না ঘন ঘন ম্যাচ খেলার ও যাতায়াতের সময় নষ্ট ধকলের জন্য। তবে সেটা মাথা থেকে ঝেড়ে মঙ্গলবারের আল সিব ম্যাচটা ফাইনাল ভেবেই খেলতে চান। এবং সতীর্থরাও সেভাবে ম্যাচটাকে দেখছেন। গোলের সুযোগ নষ্ট দলকে জয় থেকে বঞ্চিত করছে মেনেও রশিদের বক্তব্য, চেষ্টার ত্রুটি নেই গোল পেতে। কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই গোল আটকে যায় ভাগ্য সহায় না থাকায়। আশা করছেন আল সিব ম্যাচে ভাগ্য তাঁদের সহায় হবে ম্যাচ জিততে।
গ্রুপে ১ পয়েন্ট নিয়ে সবচেয়ে নীচে থাকা আল সিব কোচ জিরি ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ ডু অর ডাই মনোভাব নিয়ে মোকাবিলায় তৈরি। ৩ পয়েন্ট পেয়ে নিজেদের সম্মান বাঁচানোর পাশাপাশি টুর্নামেন্টে ভেসে থাকার ক্ষীণ সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে চান।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
