মুনাল চট্টোপাধ্যায়: শুক্রবার বেঙ্গালুরুর কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে প্রথমবার পানামার মুখোমুখি হবে ভারতীয় ফুটবল দল। পানামার ফিফা র্যাঙ্কিং ৪৪। ভারতের থেকে ৯৪ স্থান ওপরে। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্নটা মনে আসছে, ব্রাজিল, উরুগুয়ে দূরে থাক, বিশ্বকাপে খেলা পানামার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে নিজেদের সম্মান কি বাঁচাতে পারবে খালিদ জামিলের ভারত?
কারণটা খুব পরিষ্কার। ভারত শেষ ৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে জয় পায়নি। লন্ডনে ইউনিটি কাপে জামাইকা ও জিম্বাবোয়ের কাছে হেরেছে। তাজিকিস্তানের কাছে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ ১-৩ গোলে হারের পর ফিরতি ম্যাচ ১-১ ড্র করেছিল। ভারতীয় দল শেষবার জয় পেয়েছে ৩১ মার্চ এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারে হংকংয়ের বিরুদ্ধে ২-১ গোলে। তাছাড়া কনকাকাফ দেশের বিরুদ্ধে ভারতীয় দলের সাফল্যের পরিসংখ্যান মোটেই খুব ভাল নয়। পানামা হল অস্টম কনকাকাফ দেশ যাদের মুখোমুখি হবে খালিদ জামিলের দল। এর আগে কনকাকাফ দেশের ১৪টি দলের বিরুদ্ধে ভারত ২টি তে জয় পেয়েছে। ড্র করেছে ২টিতে, হেরেছে ১০টিতে।
পানামা ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলেছিল ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে। তারপর আবার ২০২৬য়ে। নিজেদের গ্রুপ থেকে মূল পর্বে গিয়েছিল টমাস ক্রিস্টিয়ানসনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পানামা অপরাজিত থেকে। ১০ ম্যাচের ৭টি জিতে, ৩টি ড্র করে। করছিল ১০ গোল। তবে মূল পর্বে ঘানা, ক্রোয়েশিয়া ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জিততে ব্যর্থ হয়। কোনও গোল পানামা করতে পারেনি, তবে কঠিন গ্রুপে ৪ গোলের বেশি হজমও করেনি।
সুতরাং এমন একটা দলের মোকাবিলা করা যে সহজ নয়, এটা বিলক্ষণ জানেন ভারতীয় দলের কোচ খালিদ জামিল। সেটা মাথায় রেখেই জাতীয় দলের কোচ খালিদ চান তাঁর ফুটবলররা বাড়তি চাপ না নিয়ে পানামার মতো বড় দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগটা কাজে লাগাক, অভিজ্ঞতা অর্জন করুক ম্যাচটা উপভোগ করার মেজাজে। খালিদের প্রতিক্রিয়া, ‘ পানামার মতো দলের বিরুদ্ধে খেলাটা সৌভাগ্যের। ওদের দলে বড় মাপের কোচ ও নামী ফুটবলাররা রয়েছে। তাই ওদের মোকাবিলা করাটা রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং। আমরা একটা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হব। তার মানে এই নয় যে সর্বক্ষণ রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলব গোল বাঁচানোর লক্ষ্যে। অ্যাটাক ও ডিফেন্সের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে খেলতে হবে। পরিস্থিতি বুঝে রিঅ্যাক্ট করা জরুরি ম্যাচে।’
বেঙ্গালুরু কান্তিরাভা স্টেডিয়ামের মাঠে ২০২৩ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ৫ ম্যাচে অপরাজিত থেকে ট্রফি জিতেছিল ভারত। করেছিল ৮ গোল, খেয়েছিল ২টি। পরপর দু’ম্যাচে লেবানন ও কুয়েতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তৎকালীন কোচ ইগর স্টিমাচের তত্ত্বাবধানে। এই জয়ের পিছনে বড় অবদান ছিল গোলকিপার গুরপ্রীত সান্ধুর। যিনি এবারও পানামার বিরুদ্ধে ম্যাচে ভারতীয় দলের বড় ভরসা। অতীত সাফল্যের স্মৃতি গুরপ্রীত সহ গোটা দলকে উজ্জীবিত করছে পানামার বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে।
গুরপ্রীতের বক্তব্য, ‘ আমাদের কাছে এটা একটা মস্ত বন সুযোগ। সদ্য বিশ্বকাপে খেলে এসেছে এমন একটা দলের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছি। পানামা বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে না গেলেও নজর কাড়া ফুটবল খেলেছিল। তাই আমাদের জন্য পানামার বিরুদ্ধে খেলাটা একটা বড় পরীক্ষা বললেও ভুল হবে না।’ গুরপ্রীত ভুল কিছু বলেননি। পানামা ম্যাচে ভারতীয় দলের পারফরমেন্স বলে দেবে, ৩ অক্টোবর ব্রাজিল ও ৬ অক্টোবর উরুগুয়ের বিরুদ্ধে খালিদ জামিলের দল কতটা লড়বে নিজেদের সম্মান বাঁচাতে। অন্যদিক থেকে দেখলে পানামা ম্যাচের ভিত্তিতে কোচ খালিদ নিজের দলের ভুল ত্রুটি সামলে নিয়ে ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মতো প্রথম সারির বিশ্বকাপ খেলা দলের মোকাবিলায় গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
পানামা কোচ ক্রিস্টিয়ানসেন আবার একটু বেশি বিনয়ী ভাব দেখাচ্ছেন ভারতের মুখোমুখি হওয়ার আগে। তাঁর মতে, ‘ র্যাঙ্কিংয়ে ভারতের থেকে আমরা অনেক এগিয়ে। স্বাভাবিকভাবে আমাদের গায়ে ফেবরিট তকমা লেগে রয়েছে। আমরা জিতবই এমন একটা প্রত্যাশা রয়েছেই। কিন্তু সেটা ভেবে আমরা মাঠে নামব না। আমার কাছে ভারত, ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনা বলে আলাদা কিছু নেই। আমাদের লক্ষ্য সব ম্যাচ জেতা। সেই চেষ্টা করব।’ প্রথমবার ভারতে খেলতে এসেছেন পানামার মিডফিল্ডার কার্লোস হার্ভে। তিনি ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে এই সফরকে স্মরণীয় করে তুলতে চান।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
