মুনাল চট্টোপাধ্যায়: রাজারহাটের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের মাঠে তখন অন্ধকার নেমে এসেছে। বাতিস্তম্ভের আলো জ্বলে গেছে। সেই আলোতে ভারতীয় ফুটবলারদের ঝলমলে শরীরি আত্মবিশ্বসাটা ধরা পড়ছিল। পানামার বিরুদ্ধে ১-১ ড্র গোটা দলকে চাঙ্গা করে দিয়েছে ৩ অক্টোবর যুবভারতীর মাঠে শক্তিশালী ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার আগে। আর সে কারণে অনায়াসে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলের সঙ্গে নিজেদের বিরাট ফারাকটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে ভারতীয় দলের ফরোয়ার্ড রহিম আলি যা বললেন, তাতে চমকে উঠতে হয়। চোটের জন্য বহস্পতিবার বিকেলে কলকাতায় দলের সঙ্গে আসছেন না ব্রাজিলের তারকা স্ট্রাইকার রাফিনহা। তাঁকে অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে তাঁর ক্লাব বার্সিলোনা। তবে আসছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়ার। তাঁর কথা তুলতেই রহিম জোরের সঙ্গে বলে দিলেন বুধবারের অনুশীলনের আগে, ‘ আমি এমনিতে রোনাল্ডোর ভক্ত। ব্রাজিল দলের নেইমারের খেলারও। ভিনিসিয়াস জুনিয়ারের খেলাও ভাল লাগে। তবে আমি যদি ব্রাজিল ম্যাচে খেলার সুযোগ পাই, আর কোচ যদি আমাকে ভিনিয়সিয়সকে আটকানোর দায়িত্ব দেন, তাহলে আটকে দেব।’
ব্রাজিল কোচ কার্লেস আনসেলোত্তি বা দলের মেগা তারকা ফুটবলার ভিনিসিয়াসের কানে রহিমের এই সাহসী মনোভাবের খবর পৌঁছবে কিনা জানা নেই, তবে রহিমের এই বক্তব্য যে তাঁর দলের সতীর্থদের বাড়তি উজ্জীবিত করবে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৫ নম্বর থাকা ৫বার বিশ্বকাপ জয়ী ব্রাজিল দলের বিরুদ্ধে, এমনটা আশা করা যেতেই পারে।
বুধবার কলকাতা শহরে পা রেখেছে উরুগুয়ে ফুটবল দল। ভারতীয় দলের সঙ্গে তাদের খেলা ৬ অক্টোবর যুবভারতীতেই। এটা উরুগুয়ের দ্বিতীয় কলকাতা সফর। এর আগে নেহরু কাপে নজর কাড়া ফুটবল খেলে কলকাতাবাসীর মন কেড়েছিলেন ফ্রান্সিসকোলি, র্যামোসরা। উরুগুয়ে দলের চিফ কোচ দিয়েগো ফোরলানের কাছে এই শহর অবশ্য বিশেষভাবে পরিচিত। ২০১০ বিশ্বকাপ খেলার পরই এক রিয়েলিটি শোতে অংশ নিতে কলকাতা এসেছিলেন ফোরলান। তাছাড়া পরে মুম্বই সিটির হয়ে আইএসএল ম্যাচ খেলে গিয়েছিলেন বিশ্বকাপার ফোরলান রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে এটিকের বিরুদ্ধে ম্যাচে। আগের দু’বার কলকাতায় এসে যে উন্মাদনার ছোঁয়া পেয়েছিলেন ফোরলান, এবার তিনি বা তাঁর ফুটবলাররা তা পাননি। বলতে গেলে বুধবার বিকেলে কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন তাঁরা নিঃশব্দে, সেখান থেকে হোটেল পৌঁছন কড়া নিরাপত্তার মাঝে। হয়ত সে কারণেই উরুগুয়ে দলকে নিয়ে কোনও মাতামাতি বা উৎসাহ চোখে পড়েনি কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। হোটেলে পৌঁছানোর পর ফুটবলাররা ঘরে কাটালেও দলের তিন প্রতিনিধি পাশেই যুবভারতী ট্রেণিং গ্রাউন্ড পর্যবেক্ষণে যান। মাঠ ও পরিবেশ অনুশীলনের উপযুক্ত কিনা বুঝে নিতে।
উরুগুয়ে যখন ৬ অক্টোবরের ম্যাচ নিয়ে ভাবছে, তখন ভারতীয় দলের যাবতীয় ফোকাস এখন ব্রাজিল ম্যাচে। পানামা ম্যাচে ১-১ ড্র দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এক অস্বাভাবিক প্রত্যাশা গড়ে তুলেছে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের মনে ব্রাজিল ম্যাচকে কেন্দ্র করে, সেটা বেশ ভালই বুঝছেন ভারতীয় দলের চিফ কোচ খালিদ জামিল। আর একারণে যেটা সবচেয়ে বেশি জরুরি কাজ খালিদের জন্য, সেটা হল ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে ফুটবলারদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা। যাঁরা ব্রাজিল ম্যাচে খেলার সুযোগ পাবে, সেই ভারতীয় ফুটবলাররা বিলক্ষণ জানেন, এটা তাঁদের লাইফ টাইম এক্সপিরিয়েন্স।
ভারতীয় দলের ফরোয়ার্ড রহিম আলির গলাতে তারই প্রতিধ্বনি শোনা গেল। বাংলার গর্ব ২০১৭ অনূর্ধ্ব বিশ্বকাপে খেলা রহিম বলেই দিলেন,‘ ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে খেলা যে কোনও ফুটবলারের জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি। খেলার সুযোগ পেলে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করব। র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের সঙ্গে আকাশ পাতাল পার্থক্য আছে বলে মাঠে নামার আগে হেরে বসে থাকছি না। বরং তুল্যমূল্য লড়াইয়ের প্রতিজ্ঞা নিয়ে সকলে মাঠে সেরা দেব। পানামাও আমাদের থেকে র্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে ছিল। কিন্তু কোচ খালিদ জামিলের নির্দেশমতো খেলে ম্যাচটা ড্র করি। গোলগুলো হয়ে গেলে, জিততেও পারতাম। সামনে এবার আরও শক্তিশালী ব্রাজিল। আমাদের আরও বেশি সংঘবদ্ধ হয়ে লড়তে হবে ওদের মোকাবিলায়। কোচ তো বলেই দিয়েছেন, খোলসে গুটিয়ে থেকে ব্রাজিলের মতো দলকে রোখা যাবে না, নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবলটাই তুলে ধরতে হবে।’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
