Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

সুচরিতা সেন চৌধুরী: দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে পাঁচ মাস। আইএসএল শুরুর ডামাডোলের মধ্যে ভারতীয় ফুটবলকে ঘিরে অনিশ্চয়তা তখন তুঙ্গে। তবে সাময়িক সময়ের জন্য হলেও সেই সমস্যা কাটিয়ে আশার আলো দেখিয়েছে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ। ছোট আকাড়ে হলেও ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে আবার আইএসএ-র বল গড়াবে মাঠে। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মোহনবাগান বনাম কেরালা ব্লাস্টার্স ম্যাচ দিয়েই শুরু হতে চলেছে আইএসএল ২০২৫-২৬। আর যুবভারতীতে ফিরতে চলেছে ফুটবল। গত ১৩ ডিসেম্বর, মেসি আগমনের ক্ষত কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে প্রস্তুত কলকাতার ফুটবলের গর্ব। একঝাঁক নতুন মুখ নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছে কেরালা ব্লাস্টার্স এফসি। ঘরের মাঠে দাপটের সঙ্গে শুরু করার জন্য তৈরি মোহনবাগানও। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র বিকেলে ঘরের মাঠে সমর্থকদের জয় উপহার দিয়েই মরসুম শুরু করতে চান মোহনবাগানের অন্যতম ভরসা দিমিত্রি পেত্রাতোস। তার আগের দুপুরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন দুই দলের কোচ, ফুটবলাররা।

গত পাঁচ মাস ধরে একরাশ অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটানোর পর আবার ফুটবলের মূলস্রোতে ফিরে আসাটাই এখন তাতাচ্ছে দুই দলকে। মোহনবাগান কোচ সার্জিও লোবেরা সেটা মেনেও নিলেন। বলছিলেন, “এই মুহূর্তটার জন্য অনেকটা অপেক্ষা ছিল। সেই সময় চলে এসেছে। আমরা খেলার জন্য মুখিয়ে রয়েছি। আমরা পেশাদার দল। এতদিন ধরে ভালো অনুশীলন হয়েছে। সমর্থকদের সামনে খেলব। তবে হ্যাঁ, ফুটবলে সব সময়ই উন্নতি করার জায়গা থাকে।” কেরালা ব্লাস্টার্সের হেড কোচ ডেভিড কাটালা অবশ্য মেনে নিচ্ছেন তাঁরা প্রস্তুতির দিক থেকে মোহনবাগানের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন। তবে সেটাকে কোনওভাবেই অজুহাত করতে চাইছেন না তিনি।

কেরালা কোচ ডেভিড বলছিলেন, “এটা সত্যি যে আমরা সেরা প্রস্তুতি নিয়ে এখানে আসিনি।কিন্তু এটা কোনও অজুহাত হতে পারে না। আমরা খেলার জন্য তৈরি। পুরো দল আমাদের নতুন। পাঁচ জন নতুন বিদেশি যোগ দিয়েছে। ভারতীয়রা সব পুরনো শুধুমাত্র রউলিন বর্জেস ছাড়া। মাত্র ১৪ দিন অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছি।” তবে মোহনবাগানকে সমীহ করছেন কেরালা কোচ। তাদের দীর্ঘ প্রস্তুতি থেকে, তাদের দল, এমনকী তারা গতবারের চ্যাম্পিয়ন, সব কিছু মেনে নিয়েই আইএসএল-এর প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছে কেরালা।

ডেভিড বলছিলেন, “ওরা গতবারের চ্যাম্পিয়ন। ওরা খুব ভালো দল। ওরা সেটপিসে ভালো। ওরা এতদিন টানা অনুশীলন করেছে। এছাড়া ওরা কোচও বদলেছে, তাতে আশা করাই যায় ওদের খেলার ধরনেও বদল আসবে। ভালো ভালো প্লেয়ার রয়েছে। কিন্তু ওদের দুর্বলতা নিয়ে এখানে কিছু বলব না, সেটা খেলায় ব্যবহার করব।” ডেভিডের মতো মোহনবাগান কোচ লোবেরাও মেনে নিচ্ছেন, তাঁদের প্রতিপক্ষ অনেকটাই নতুন দল। বলছিলেন, “গত বছরের তুলনায় ওরা নতুন দল। অনেক নতুন প্লেয়ার এসেছে। তবে কোচ হিসেবে আমার কাজ নিজের দলকে নিয়ে ভাবা। আরা সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভালো খেলা।”

এবারের আইএসএল এক কথায নমো নমো করে হবে। ছোট পরিসরে খেলাটা কখনও কখনও কঠিনও হয়ে পড়ে ফলাফলের ক্ষেত্রে। কারণ ঘুরে দাঁড়ানোর সময় কম থাকে। লোবেরা বলছিলেন, “এতদিন পর ফুটবল ফিরছে সেটাই আমাদের জন্য প্রাপ্তি। আমাদের জন্য খুব ভালো সুযোগ ঘরের মাঠে টুর্নামেন্ট শুরু করার। আমরা আমাদের সেরাটা দেব। এটা ঠিক, কাগজে কলমে আমরা অনেক আগে অনুশীলন শুরু করেছি, তবে এখনও আমাদের অনেক কিছু করার আছে।” এর সঙ্গে তিনি এটা মেনে নিচ্ছেন না যে যারা ডুরান্ড কাপ, সুপার কাপের মতো টুর্নামন্ট খেলেছে তারা বাড়তি সুবিধে পাবে।

লোবেরা বলেন, “সেগুলো অতীত। এটা আইএসএল। একজন কোচ হিসেবে আমি সব সময় শূন্য থেকে শুরু করি। আমি বর্তমানের কথা বলছি। আর আমি সব সময় টেবলের শীর্ষে থেকে মরসুম শেষ করতে চাই। আগামীকাল আমরা সেই লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ রাখব। আমি খুব ভাগ্যবাণ আমি এতো ভালো একটা দল পেয়েছি।” কলকাতার মাঠে খেলাটা সব সময়ই চাপের, সেটা মেনে নিয়েই তাকে উপভোগ করার কথাও বলছেন তিনি। “আমি চাপ উপভোগ করি। তাতে মনে হয় তুমি একটা বড় লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছ।”

পাশে যখন দিমিত্রি পেত্রাতোসের মতো ফুটবলার তখন কোচ হিসেবে বাড়তি মোটিভেশনও রয়েছে। তাঁর কাছে। দিমি অবশ্য কোচকে প্রশংসায় ভড়ালেন। যা প্রমাণ করে দলের অন্দরে এখন ফুরফুরে হাওয়া রয়েছে। নতুন কোচের অধিনে, নতুনভাবে সেজে উঠেছে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। দিমি বলছিলেন, “নতুন কোচ আমাকে অনেকটা ভরসা দিয়েছেন। আমরা রোজ অনুশীলনে আমাদের সেরাটা দিয়েছি। আমাাদের অসাধারণ কোচ রয়েছে, আমাদের অসাধারণ ফুটবলাররাও রয়েছে। যে দলে থাকবে না সে দলকে বাইরে থেকে সমর্থ করবে। তবে, আমি খেলার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা অনেকদিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছি, এবার সেই সময় এসে গিয়েছে। আমাদের ভালো, মন্দ সব নিয়েই চলতে হবে। এখন আমরা শুধু বর্তমান নিয়েই ভাবছি। একজন পেশাদার হিসেবে আমাকে সব পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত থাকতে হবে। এখন আমরা শুধু খেলা নিয়েই ভাবছি।” একই কথা বলছেন কেরালর ফুটবলার দানিশ ফারুক ভাট। তিনি বলছিলেন, “এটা খুব কঠিন একটা মরসুম। কিন্তু সেই সময় এখন অতীত। কাল আমরা আমাদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছি।” এক কথায় ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে ভারতীয় ফুটবল আবার মাঠে ফিরছে, এটাই বড় কথা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য, ফুটবলের কলকাতার জন্য, ভারতীয় ফুটবলের জন্য।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *